📄 বিয়ের ওলিমা
বুরায়াদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ ফাতেমা ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهَا-কে বিয়ে করার জন্যে রাসুল ﷺ-এর কাছে প্রস্তাব পেশ করলেন, তখন রাসুল ﷺ বললেন, বিয়ের জন্য তো ওলিমা করতে হবে। রাসুল ﷺ-এর কথামতো আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ তখন শত অভাবে থাকা সত্ত্বেও একটি করে খেজুর, এক টুকরো রুটি, এক টুকরো পনির আর একটিখানি খোরমার দ্বারা ওলিমার ব্যবস্থা করলেন। তাঁর আয়োজিত এ ওলিমার খাবার যে সময়ের বড় ধরনের আয়োজন ছিল। উপস্থিত সবাই খাবার পেয়ে তাঁর জন্য প্রার্থনা ভরে দোয়া করল। রাসুল ﷺ-ও তাঁর জন্য দোয়া করলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি তাদের দু'জনের মধ্যে বরকত দান কর এবং তাদের আগামী প্রজন্ম তথা সন্তান-সন্ততির ওপর বরকত দান কর。
টিকাঃ
৫৯২ বুজুর্গান কালিবুল হিসাবা, ৫৯৭ পৃ.
📄 আলী রা. রাসূল সা.-এর অধিক নিকটবর্তী
রাসুল ﷺ-এর অসুস্থতার সময় একদিন সকালে ফাতেমা ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهَا তাঁকে দেখার জন্য আসলেন। তিনি আসার পর যখনই তিনি রাসুল ﷺ-এর কাছে যেতেন তখনই তিনি জিজ্ঞেস করতেন আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ এসেছে?
ফাতেমা ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهَا বললেন, না, সে এখনো আসেনি।
এর কিছুক্ষণ পর আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ আসলে রাসুল ﷺ-এর গ্রীষ্ম শস্য থেকে সরে গিয়ে দরজার কাছে গিয়ে বসলেন।
উম্মে সালামা ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهَا বললেন, মহিলাদের মধ্যে আমি দরজার সবচেয়ে কাছে ছিলাম। রাসুল ﷺ তাঁকে কাছে নিয়ে গোপনে কিছু কথা বললেন। তারপর ওহীদিনে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নাভীক থেকে নিলেন। আর এ কারণে আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ-ই সৌহার্দতার দিক থেকে রাসুল ﷺ-এর অধিক নিকটবর্তী ছিলেন。
টিকাঃ
৫৭৩ মুসনাদে আহমদ ও ফাযায়েলে সাহাবা, ২য় খণ্ড, ৬১৮ পৃ.
📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে রিযিক
আলী বিন আবু তালিব ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বলেন, একবার কয়েকদিন যাবত আমাদের ঘরে কিছুই ছিল না এবং নবী ﷺ-এর ঘরেও ছিল না। এরই মধ্যে একদিন আমি রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ দেখি রাস্তায় এক দিনার পড়ে আছে। আমি চিন্তা করতে লাগলাম যে, এটা নিব নাকি নিব না। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে দিনারটি নিলাম। তারপর দিনারটি দিয়ে আটা বিক্রেতার কাছ থেকে আটা ক্রয় করে আনলাম। সেগুলো ফাতেমাকে দিয়ে বললাম, এগুলো থেকে রুটি বানাও, ফাতেমা সেগুলো দিয়ে রুটি বানাল। আমি সেগুলো নিয়ে নবী ﷺ-এর কাছে গেলাম এবং হুট যাওয়া ঘটনাটি খুলে বললাম। তখন নবী ﷺ বললেন, এগুলো খাও, এগুলো এমন রিযিক যা মহান আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দিয়েছেন。
টিকাঃ
৫৭৪ কানযুল উম্মাল, ৯৪ খণ্ড, ৬২৬।
📄 হাসান রা.-এর নাম রাখলেন নবী সা.
আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বলেন, যখন হাসান জন্মগ্রহণ করল, আমি তাঁর নাম রাখলাম হারব। এরই মধ্যে নবী ﷺ এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার নাতির কী নাম রেখেছ? আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বললেন, হারব।
নবী ﷺ বললেন, না; বরং তাঁর নাম হাসান।
এরপর যখন হুসাইন জন্মগ্রহণ করল আমি তাঁর নাম রাখলাম, হারব। নবী ﷺ বললেন, না; বরং তার নাম হুসাইন। এরপর যখন তৃতীয় সন্তানটি জন্মগ্রহণ করল, আমি তার নাম রাখলাম, হারব। নবী ﷺ বললেন, না; এর নাম হবে মুহসিন।
এরপর নবী ﷺ বললেন, আমি এদের তিন ভাইয়ের নাম রেখেছি হারুন (আ)-এর ছেলেদের নামের ধারাবাহিকতার সাথে মিল রেখে। হারুন (আ)-এর তিন ছেলের নাম ছিল শাব্বার, শুবাঈর, মুশফফীর。
টিকাঃ
৫৭৫ ইব্ন ইবনে হিসাম।