📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 যদি আলী না থাকত তাহলে ওমর ধ্বংস হয়ে যেত

📄 যদি আলী না থাকত তাহলে ওমর ধ্বংস হয়ে যেত


অক্সিসিক্ত নয়নেন, ছেঁড়া কাপড়ে মুখে রক্তাব অবস্থায় এক যুবতী আমীরুল মুমিনীন ওমর (রাঃ)-এর সামনে এসে আছে, আর তার পিছনে শক্তিশালী ও লম্বা এক লোক এসেছিল। সে ওই যুবতীকে বলছিল, এই ওহে যিনাকারীণি! তখন ওমর (রাঃ) বললেন, কী ব্যাপার? লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, এক রকম করুন। আমি একে বিয়ে করছি, আর সে আমাকে ছয় মাস পরেই একটি বাচ্চা দিয়েছে। (রজম হচ্ছে বিবাহিত ব্যভিচারকারী ও কারিফীকে পাথর মেরে হত্যা করা)। তখন ওমর (রাঃ) তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। ও সে সময় আলী (রাঃ) ওমর (রাঃ)-এর পাশেই বসছিলেন। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, ....... এ মহিলাটি যিনা থেকে পবিত্র। ওমর (রাঃ) বললেন, কীভাবে? আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا আমি মানুষকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভধারণে ও তার দুধপানে ত্রিশ মাস লেগেছে। (সুরা আহকাফ, ১৫) আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ
আর আমি মানুষকে তার পিতামাতা সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি, তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুগ্ধপান বন্ধ করানোতে দুই বছর লেগেছে। (সূরা লুকমান: ১৪)
যদি আপনি দুধ পান করার সময় অর্থাৎ চব্বিশ মাস বাদ দেন তাহলে ত্রিশ মাস থেকে আর ছয় মাস থাকে। সুতরাং এতে বুঝা যায় ছয় মাসেও মাতৃত্বীয় বাঁচা দিতে পারে।
এ সমাধান শুনে ওমর ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ-এর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বলতে লাগলেন, যদি আলী না থাকত তাহলে ওমর ধ্বংস হয়ে যেত。

টিকাঃ
৫৩৮ আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব, ৬২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 একজন মহিলা ও সাহল বিন হুনাইফ

📄 একজন মহিলা ও সাহল বিন হুনাইফ


মদিনায় গিয়ে রাসুল ﷺ-এর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য রাতের আঁধারে আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ মক্কা থেকে মদিনা রওনা দিলেন।
তিনি যখন কুবায় গেলেন তখন সেখানে দুই দিন অবস্থান করে বিশ্রাম নিলেন। তিনি সেখানে থাকাকালে দেখলেন এক মুসলমান মহিলার ঘরে রাতের আঁধারে এক লোক এসে দরজায় করাঘাত করে। তখন ওই মহিলা দরজা খুলে বের হয়ে আসে। এরপর লোকটি তার হাতে কী যেন দিয়ে আবার ফিরে যায়। দুই রাত এ দৃশ্য দেখে তিনি মহিলাটিকে সন্দেহ করলেন।
তিনি তাকে বললেন, হে আল্লাহর বান্দি, এ লোকটিকে যে প্রতিদিন তোমার ঘরের দরজায় করাঘাত করে। আর তুমি ঘর থেকে বের হয়ে তার কাছে আসলে সে যেন তোমার হাতে কী দিয়ে চলে যায়। তুমি ছদ্ম একজন মুসলিম মহিলা, আর তোমার কোনো স্বামীও নেই।
তিনি বললেন, এ হচ্ছে সাহল বিন হুনাইফ, সে জানে আমার কোনো স্বামী নেই। যখন সন্ধ্যা হয় তখন সে তার গোত্রের মুজিজুলকে ভাঙে। তারপর তা আমার কাছে দিয়ে আসে যেন আমি সেগুলো জ্বালিয়ে ফেলি。

টিকাঃ
৫৩৯ সিরাতু ইবন হিশাম, ২য় খণ্ড, ৬৪৫, ৬৪৬ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমীরুল মুমিনীবের অশ্রু

📄 আমীরুল মুমিনীবের অশ্রু


আমীরুল মুমিনীন পুরাতন জীর্ণশীর্ণ একটি চাদর পরিধান করে বসেছিলেন। তাঁর দু'টোই আল্লাহর ভাস্বরীয় জপছিল। এমন সময় আবু মারয়াম নামের এক মাওয়াশী এসে তাঁকে নিচু স্বরে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে আমার একটি প্রয়োজন আছে।
তিনি বললেন, আবু মারয়াম, তোমার কী প্রয়োজন?
আবু মারয়াম বলল, আপনি আপনার শরীর থেকে এ চাদরটি খুলে রাখুন। এটি খুবই পুরাতন জামা।
তখন আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ চাদরটি খুলে একপাশে রাখলেন। তখন তাঁর চোখের অশ্রু ঝরছিল। এমনকি তিনি উচ্চস্বরে কান্না করতে শুরু করলেন।
তখন আবু মারয়াম বলল, আমি যদি জানতাম এতে আপনি এত কষ্ট পাবেন তাহলে আমি এ কথা বলতাম না।
তাঁর কান্না ধীরে ধীরে কমে আসার পর তিনি অশ্রু মুছতে মুছতে বললেন, আবু মারয়াম এ চাদরকে আমি অনেক বেশি পছন্দ করি। কেননা এটি আমাকে আমার বন্ধু দিয়েছে।
আবু মারয়াম অবাক হয়ে বলল, কে আপনার বন্ধু?
আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বললেন, ওর বিন খাত্তাব, সে আল্লাহর জন্য কাজ করত আর তাই আল্লাহ তা'আলা তাঁর কল্যাণ করেছে।
তারপর আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ আবার কান্না শুরু করলেন। এমনকি তাঁর কান্নার আওয়াজ দূর থেকে শুনা যেতে লাগল。

টিকাঃ
৫৭০ তারিখু মদিনাতুল মুনাওয়ারাহ, ৩য় খণ্ড, ৯৩৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ফাতেমা রা.-এর মোহরানা

📄 ফাতেমা রা.-এর মোহরানা


এক দাসী দ্রুত ছুটে গিয়ে রাসুল ﷺ-এর চাচাতো ভাই আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ-এর ঘরে প্রবেশ করল।
সে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, তুমি কী জানতে পেরেছ ফাতেমা ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهَا-এর বিয়ের ব্যাপারে রাসুল ﷺ আলাপ-আলোচনা করেছেন?
আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ হতাশার সাথে বললেন, না, আমি জানতে পারিনি।
সে বলল, তাহলে তোমার বাবা কিসের তাঁর কাছে যেতে। হতে পারে তিনি তাঁকে তোমার সাথে বিয়ে দিবেন।
আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বললেন, আমার কাছে এমন কিছু নেই যা দ্বারা আমি তাঁকে বিয়ে করব।
সে বলল, যদি তুমি রাসুল ﷺ-এর কাছে গিয়ে বিয়ের ব্যাপারে প্রস্তাব দাও...! এভাবে মেয়েটি তাঁকে উৎসাহ দিতে লাগল। তাঁর উৎসাহে পেয়ে আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ রাসুল ﷺ-এর কাছে গেলেন। তিনি রাসুল ﷺ-এর কাছে গিয়ে লজ্জায় ও রাসুল ﷺ-এর প্রতি তাঁর অধিক শ্রদ্ধার কারণে কিছুই বলছিলেন না।
তখন রাসুল ﷺ মুচকি হেসে বললেন, তুমি কেন এসেছ? তোমার কী কোনো প্রয়োজন আছে? কিন্তু আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ রাসুল ﷺ-এর কথার কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি লজ্জার কারণে চুপ করেই রইলেন।
তখন রাসুল ﷺ আবার বললেন, মনে হয় তুমি ফাতেমা ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهَا-এর ব্যাপারে প্রস্তাব দিতে এসেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
রাসুল ﷺ বললেন, তাকে বিয়ে করে নেওয়ার মতো তোমার কাছে কিছু আছে? তিনি বললেন, না, হে আল্লাহর রাসুল।
রাসুল ﷺ বললেন, তুমি সে বর্মটি কী করেছ যা দ্বারা আমি তোমাকে সজ্জিত করেছি?
তখন তিনি বললেন, সেটি আমার কাছে.......যার হাতে আমার জান তাঁর শপথ! সেটি তো ভাঙা-চূরা। সেটির মূল্য মাত্র চার শত দিরহাম।
রাসুল ﷺ হাসোজ্জ্বল চেহারায় বললেন, আমি (ফাতেমাকে) তোমার কাছে বিয়ে দিলাম, তুমি সে বর্মটি আমার কাছে পাঠিয়ে দিও。

টিকাঃ
৫৭৯ ফাযায়েজুল সাহাবা, ২য় খণ্ড, ৬১৮ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00