📄 তুমি আমার পক্ষ থেকে সে অবস্থানে হারুন মুসার পক্ষ থেকে যে অবস্থানে ছিল
নবী (সাঃ) আলী (রাঃ)-কে একদা তাঁর পরিবার-পরিজনকে দেখা-শুনা করার জন্য মদীনায় রেখে যাচ্ছিলেন। ওদিকে মুনাফিকরা তাঁর ব্যাপারে এই বলে গুজব তুলতে লাগল যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) আলীকে বোঝা মনে করে রেখে যাচ্ছে এবং বোঝা কমানোর জন্যই তাকে রেখে যাচ্ছে। মুনাফিকদের এমন কথা আলী (রাঃ)-এর কানে এসে পৌঁছল। তাই তিনি অস্ত্র হাতে নিয়ে নবী (সাঃ)-এর কাছে এলেন। নবী (সাঃ) তখন মদিনার কাছে জুরফে অবস্থান করছিলেন। তিনি এসে নবী (সাঃ)-কে অশ্রুসিক্ত চোখে বললেন, হে আল্লাহর নবী, মুনাফিকরা ধারণা করছে আপনি আমাকে বোঝা মনে করে রেখে যাচ্ছেন। তখন নবী (সাঃ) বললেন, তারা মিথ্যা বলেছে... বরং আমি যাদেরকে রেখে এসেছি দেখাশুনা করার জন্য তোমাকে সুলাভিকৃত করে এসেছি। সুতরাং তুমি ফিরে গিয়ে তোমার ও আমার পরিবারদের দেখাশুনা কর। তারপর নবী (সাঃ) আলী (রাঃ)-এর কাছে এসে তাঁকে আরো উৎসাহিত করতে গিয়ে বললেন, আলী, তুমি কী এত সন্তুষ্ট নও যে, হারুন মুসার পক্ষ থেকে যে অবস্থানে ছিল তুমি আমার পক্ষ থেকে সে অবস্থানে থাকবে। তবে ব্যবধান হচ্ছে আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না। নবী (সাঃ) থেকে এমন কথা শুনে আলী (রাঃ)-এর মন প্রশান্তি লাভ করল। তাঁর অন্তর থেকে সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল। তিনি খুশি হয়ে ফিরে গেলেন। তারপর তিনি মদিনায় ফিরে আসলেন。
টিকাঃ
১০৪ তারিখুত তাবায়ী, ৩য় খণ্ড, ১০৪ পৃঃ.
📄 কে অধিক সাহসী বীর?
কুফা নগরীতে মসজিদের মিম্বরের পাশে বসে আলী বিন আবু তালিব (রাঃ) ইসলামের অগ্রগামী সৈনিকদের জীবনী নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বললেন, হে লোক সকল, তোমরা আমাকে বল কে অধিক সাহসী বীর ছিলেন? তারা বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি। তিনি বললেন, জেনে রাখ, আমি যতবার যুদ্ধ করেছি ততবার তার থেকেও আঘাত পেয়েছি। তোমরা আমাকে বল কে অধিক সাহসী বীর ছিলেন। তারা বলল, আমীরুল মুমিনীন, তাহলে কে ছিলেন আমরা জানি না।
তিনি বললেন, যখন আমরা রাসূল (সাঃ)-এর জন্য তাবু তৈরি করলাম। তখন আমরা বললাম, হে রাসূল (সাঃ)-এর কাছে থাকবে যাতে করে কোনো মুশরিক তাঁর ওপর হামলা করতে না পারে। আল্লাহর শপথ! আবু বকর (রাঃ) ব্যতীত সে দিন কেউই রাসূল (সাঃ)-এর দেহরক্ষী হতে সাহস করেননি। এরপর যখনই কোনো মুশরিক রাসূল (সাঃ)-এর দিকে আসতেন আবু বকর (রাঃ) তাঁর ওপর তীব্রগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়তেন এবং তাঁকে তরবারি দিয়ে তাড়িয়ে দিতেন। তিনি ছিলেন অধিক সাহসী বীর。
টিকাঃ
১০৫ মাজমাউত জাওয়াঈদ, ৯ম খণ্ড, ৬৭ পৃঃ।
📄 যদি আলী না থাকত তাহলে ওমর ধ্বংস হয়ে যেত
অক্সিসিক্ত নয়নেন, ছেঁড়া কাপড়ে মুখে রক্তাব অবস্থায় এক যুবতী আমীরুল মুমিনীন ওমর (রাঃ)-এর সামনে এসে আছে, আর তার পিছনে শক্তিশালী ও লম্বা এক লোক এসেছিল। সে ওই যুবতীকে বলছিল, এই ওহে যিনাকারীণি! তখন ওমর (রাঃ) বললেন, কী ব্যাপার? লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, এক রকম করুন। আমি একে বিয়ে করছি, আর সে আমাকে ছয় মাস পরেই একটি বাচ্চা দিয়েছে। (রজম হচ্ছে বিবাহিত ব্যভিচারকারী ও কারিফীকে পাথর মেরে হত্যা করা)। তখন ওমর (রাঃ) তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। ও সে সময় আলী (রাঃ) ওমর (রাঃ)-এর পাশেই বসছিলেন। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, ....... এ মহিলাটি যিনা থেকে পবিত্র। ওমর (রাঃ) বললেন, কীভাবে? আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا আমি মানুষকে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভধারণে ও তার দুধপানে ত্রিশ মাস লেগেছে। (সুরা আহকাফ, ১৫) আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ
আর আমি মানুষকে তার পিতামাতা সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি, তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুগ্ধপান বন্ধ করানোতে দুই বছর লেগেছে। (সূরা লুকমান: ১৪)
যদি আপনি দুধ পান করার সময় অর্থাৎ চব্বিশ মাস বাদ দেন তাহলে ত্রিশ মাস থেকে আর ছয় মাস থাকে। সুতরাং এতে বুঝা যায় ছয় মাসেও মাতৃত্বীয় বাঁচা দিতে পারে।
এ সমাধান শুনে ওমর ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ-এর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বলতে লাগলেন, যদি আলী না থাকত তাহলে ওমর ধ্বংস হয়ে যেত。
টিকাঃ
৫৩৮ আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব, ৬২ পৃ.
📄 একজন মহিলা ও সাহল বিন হুনাইফ
মদিনায় গিয়ে রাসুল ﷺ-এর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য রাতের আঁধারে আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ মক্কা থেকে মদিনা রওনা দিলেন।
তিনি যখন কুবায় গেলেন তখন সেখানে দুই দিন অবস্থান করে বিশ্রাম নিলেন। তিনি সেখানে থাকাকালে দেখলেন এক মুসলমান মহিলার ঘরে রাতের আঁধারে এক লোক এসে দরজায় করাঘাত করে। তখন ওই মহিলা দরজা খুলে বের হয়ে আসে। এরপর লোকটি তার হাতে কী যেন দিয়ে আবার ফিরে যায়। দুই রাত এ দৃশ্য দেখে তিনি মহিলাটিকে সন্দেহ করলেন।
তিনি তাকে বললেন, হে আল্লাহর বান্দি, এ লোকটিকে যে প্রতিদিন তোমার ঘরের দরজায় করাঘাত করে। আর তুমি ঘর থেকে বের হয়ে তার কাছে আসলে সে যেন তোমার হাতে কী দিয়ে চলে যায়। তুমি ছদ্ম একজন মুসলিম মহিলা, আর তোমার কোনো স্বামীও নেই।
তিনি বললেন, এ হচ্ছে সাহল বিন হুনাইফ, সে জানে আমার কোনো স্বামী নেই। যখন সন্ধ্যা হয় তখন সে তার গোত্রের মুজিজুলকে ভাঙে। তারপর তা আমার কাছে দিয়ে আসে যেন আমি সেগুলো জ্বালিয়ে ফেলি。
টিকাঃ
৫৩৯ সিরাতু ইবন হিশাম, ২য় খণ্ড, ৬৪৫, ৬৪৬ পৃ.