📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 দুনিয়া ও আখেরাতে তুমি আমার ভাই

📄 দুনিয়া ও আখেরাতে তুমি আমার ভাই


একনসির্ক নয়নে আলী ﷺ রাসূল ﷺ-এর কাছে ছুটে এলেন। তিনি তাঁর একবেগে কাছে এসে চোখের এক মুহূর্তে কাঁদতে লাগলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, আপনি আপনার সাহাবীদের একজনের সাথে অন্যের ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক করে দিয়েছেন, কিন্তু আমার সাথে কাউকে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করেননি।
এ কথা শুনে নবী করীম ﷺ তাকে তাঁকে পাশে বসালেন। তারপর নিজের বাহুতে জড়িয়ে নিয়ে বললেন, দুনিয়া ও আখেরাতে তুমি আমার ভাই। এরপর তিনি জনসম্মুখে ঘোষণা করলেন, হে লোক সকল, আলী আমার ভাই, ....আলী আমার ভাই。

টিকাঃ
৩০৬। সিরাতু ইবনি হিশাম, ২য় খণ্ড, ১৬০ পৃঃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আলী রা.-কে চুমু খেলেন ওমর রা.

📄 আলী রা.-কে চুমু খেলেন ওমর রা.


এক লোক খুব ভরে সাথে দৌড়ে এসে আমীরুল মুমিনীন ওমর ﷺ-কে বলতে লাগল, আমীরুল মুমিনীন, আমাকে বাঁচাও....আমাকে বাঁচাও।
ওমর ﷺ অবাকের সাথে বললেন, কেন আমাকে বাঁচাব?
সে আলী ﷺ-এর দিকে ইশারা করে বলল, এ লোক থেকে, যে আপনার পাশে বসে আছে।
এ কথা শুনার পর ওমর ﷺ আলী ﷺ-কে লক্ষ্য করে বললেন, হাসানের বাবা, তোমার বাড়ির সাথে গিয়ে বস।
তখন আলী ﷺ তাঁর বাড়ির সাথে গিয়ে বসলেন। তারপর তাঁদের মাঝে বিচার হলো। বিচারের পর আলী ﷺ আবার ওমর ﷺ-এর পাশে গিয়ে বসলেন। ওমর ﷺ তাঁর চেহারার দিকে লক্ষ্য করে তাঁর রাগের ভাব দেখলেন।
তখন তিনি তাঁকে বললেন, হাসানের বাবা, আমি কেন তোমার চেহারার রং বদলে যেতে দেখছি, যা হয়েছে তা কি তুমি অপছন্দ করেছ?
আলী ﷺ বললেন, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, তুমি কোনটি অপছন্দ করেছ?
আলী ﷺ বললেন, আপনি কেন আমাকে সম্মানের সাথে উপনামে ডেকেছেন, আপনি আমাকে এভাবে বলতে পারেননি হে, আলী, তুমি গিয়ে তোমার বাড়ির সাথে বস।
তাঁর কথা শুনে ওমর ﷺ-এর চেহারা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি তাঁর কাঁধে কাঁধ মেলালেন এবং চুমু খেলেন। তারপর বললেন, তোমাদের জন্যে আমরা বাবা হওয়ার যোগ্য হোক, তোমাদের দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে হেদায়েতও দিয়েছেন আর তোমাদের আল্লাহ্রকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এনেছেন。

টিকাঃ
৩০৬। তারীখুত ওয়ায়েত্তানাদিয়াত মিন, ঊনতিভূ তুরূহ্, ১ম খণ্ড, ১৫৬ পৃঃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নবী সা. আলী রা. ও ফাতেমা রা.-এর সাথে এক রাতে

📄 নবী সা. আলী রা. ও ফাতেমা রা.-এর সাথে এক রাতে


আলী রঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সঃ আমাকে আর ফাতেমাকে আমাদের বাড়িতে এসে রাতের বেলায় নামায আদায় করার জন্য উঠাতেন। তারপর তিনি বাড়ি চলে গিয়ে রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদের নামায আদায় করতেন। এর মাঝে তিনি আমার এসে আমাদের জাগিয়ে দিতেন, কিন্তু আমরা উঠতাম না।
একদিন নবী সঃ এসে বললেন, উঠ! উঠে নামায আদায় কর। আলী বলেন, তখন আমি উঠে বসলাম এবং চোখ মলতে মলতে বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমাদের তাকদীরেও যা লিখা হয়েছে, আমরা তো তার চেয়ে বেশি নামায আদায় করতে পারব না। কারণ আমাদের নফস আল্লাহ্র হাতেই। অতএব তিনি আমাদের যখন উঠাবেন তখনই তো আমরা উঠব।
আলী রঃ বলেন, আমার এ কথাগুলো শুনে রাসূল সঃ চলে যেতে লাগলেন। আর যাওয়ার সময় তিনি নিজ পা মোবারক হাত খাপড়াতে খাপড়াতে আফসোস করে বলতে লাগলেন, আমাদের তাকদীরে যা লিখা হয়েছে, আমরা তো তার চেয়ে বেশি নামায আদায় করতে পারব না। এ কারণে তো আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেন, মানুষ অধিক যুক্তিবান。

টিকাঃ
৯৯৪ আলী বিন আবু তালিব লিস সালাবী, ৮৩।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 দুই অশ্বারোহীর স্বভাব

📄 দুই অশ্বারোহীর স্বভাব


উহুদের যুদ্ধের অগ্নি শিখা প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠল। মুশরিকরা তাদের তরবারি নিয়ে مسلمانوں মোকাবিলায় দাঁড়িয়ে গেল। মৃত্যু প্রতিটি যোদ্ধাদের মাথার উপরে ঘুরছিল।
মুসলমানদের পতাকা আলী রঃ-এর হাতে পতপত করে উড়ছিল। আর মুশরিকদের পতাকা আবু সা’দের হাতে উড়ছিল। সে তার ঘোড়াকে সামনের দিকে হাঁকিয়ে ময়দানের মাঝখানে এসে চিৎকার দিয়ে বলল, তোমাদের মাঝে কোনো মহাযোদ্ধা আছে?
তখন মুসলমানদের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসল না। এতে সে আরো বেশি অহংকার ও গর্বের সাথে বলতে লাগল, তোমরা কী ধারণা কর না তোমাদের নিহতরা জান্নাতে যাবে আর আমাদের নিহতরা জাহান্নামে যাবে। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে আমার তরবারি দ্বারা জান্নাতে যাবে অথবা তার তরবারি দ্বারা আমাকে জাহান্নামে পাঠাবে?
হযরত আলী আবূ সা’দের গর্জনের আওয়াজকে শেষ হতে দিলেন না, সাথে সাথেই তিনি ব্যাঘ্রের মতো দ্রুত তার সামনে হাজির হলেন। তিনি তার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাকে থেকে আলাদা হবো না যতক্ষণ না তোমার তরবারির আঘাতে আমি জান্নাতে যাই অথবা আমার তরবারির আঘাতে তুমি জাহান্নামে যাও।
এরপর তার মাঝে আলী রঃ-এর মাঝে লড়াই শুরু হলো। লড়াইয়ের এক পর্যায়ে আলী রঃ তাকে এমন এক আঘাত করলেন যে, তার পা কেটে মাটিতে পড়ে গেল। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর তার শরীরের কাপড় খুলে গেল।
সে কাতর সুরে বলতে লাগল, ভাতিজা, আমি তোমাকে আল্লাহ্র দোহাই ও আত্মীয়তার সম্পর্কে দোহাই দিচ্ছি......।
তার এমন অনুরোধে আলী রঃ তাকে ছেড়ে দিলেন এবং নিজের চোখ অবনত করলেন। তখন নবী সঃ তাকবীর ধ্বনি দিলেন।
পরে তাকে তাঁর সঙ্গীরা জিজ্ঞেস করল, তুমি কেন তাকে হত্যা করলে না?
তিনি উত্তর দিলেন, আমার সম্মুখে তার সতর (শরীরের আবশ্যিক ঢেকে রাখা অংশ) প্রকাশিত হয়ে গেছে, আর সে আমাকে আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে বাঁচতে চেয়েছে。

টিকাঃ
৯৯৫ লিবাদু হিথাম, ৩য় খণ্ড, ৭৭,৭৮ পৃ:।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00