📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 গিরিপথে নামায

📄 গিরিপথে নামায


বর্ণিত আছে, যখন নামাযের সময় হতো তখন নবী ﷺ মক্কার এক গিরিপথে চলে যেতেন। তাঁর সাথে আলী ﷺ-ও যেতেন। তাঁরা সেখানে গোপনে নামায আদায় করতেন। যখন বিকেল হতো তখন ফিরে আসতেন। এভাবে তাঁদের দিন চলছিল। এরমধ্যে একদিন আলী ﷺ-এর পিতা আবু তালিব নবী ﷺ-কে নামায পড়তে দেখলেন। তখন তিনি নবী ﷺ-কে বললেন, হে আমার ভাইপো, এটা কোন দ্বীন যেদিকে তুমি ডাক।
নবী ﷺ বললেন, চাচা, এটা আল্লাহ্র দ্বীন, তাঁর ফেরেশতাদের দ্বীন, তাঁর রাসূলগণের দ্বীন আর আমাদের পিতা ইবরাহীম (আ)-এর দ্বীন। আল্লাহ্ আমাকে তাঁর বান্দাদের প্রতি রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন। আর যাদেরকে আমি নসিহত করেছি এবং যাদেরকে আমি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করছি তাঁদের মধ্যে আপনি সবার অগ্রগামী হওয়ার যোগ্য, আমার দিকে সওয়াব দেওয়া, আমাকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করা, এসব ক্ষেত্রে আপনি সবার অগ্রে থাকার কথা।
নবী ﷺ-এর এমন কথাউত্তরে আবু তালিব বললেন, আমার ভাতিজা, আমি আমার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করতে পারব না。

টিকাঃ
৩০৫। আস সিরাতুন নাববীয়্যাহ্ লি ইবনি হিশাম, ১ম খণ্ড, ২৪৯ পৃঃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 দুনিয়া ও আখেরাতে তুমি আমার ভাই

📄 দুনিয়া ও আখেরাতে তুমি আমার ভাই


একনসির্ক নয়নে আলী ﷺ রাসূল ﷺ-এর কাছে ছুটে এলেন। তিনি তাঁর একবেগে কাছে এসে চোখের এক মুহূর্তে কাঁদতে লাগলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, আপনি আপনার সাহাবীদের একজনের সাথে অন্যের ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক করে দিয়েছেন, কিন্তু আমার সাথে কাউকে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করেননি।
এ কথা শুনে নবী করীম ﷺ তাকে তাঁকে পাশে বসালেন। তারপর নিজের বাহুতে জড়িয়ে নিয়ে বললেন, দুনিয়া ও আখেরাতে তুমি আমার ভাই। এরপর তিনি জনসম্মুখে ঘোষণা করলেন, হে লোক সকল, আলী আমার ভাই, ....আলী আমার ভাই。

টিকাঃ
৩০৬। সিরাতু ইবনি হিশাম, ২য় খণ্ড, ১৬০ পৃঃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আলী রা.-কে চুমু খেলেন ওমর রা.

📄 আলী রা.-কে চুমু খেলেন ওমর রা.


এক লোক খুব ভরে সাথে দৌড়ে এসে আমীরুল মুমিনীন ওমর ﷺ-কে বলতে লাগল, আমীরুল মুমিনীন, আমাকে বাঁচাও....আমাকে বাঁচাও।
ওমর ﷺ অবাকের সাথে বললেন, কেন আমাকে বাঁচাব?
সে আলী ﷺ-এর দিকে ইশারা করে বলল, এ লোক থেকে, যে আপনার পাশে বসে আছে।
এ কথা শুনার পর ওমর ﷺ আলী ﷺ-কে লক্ষ্য করে বললেন, হাসানের বাবা, তোমার বাড়ির সাথে গিয়ে বস।
তখন আলী ﷺ তাঁর বাড়ির সাথে গিয়ে বসলেন। তারপর তাঁদের মাঝে বিচার হলো। বিচারের পর আলী ﷺ আবার ওমর ﷺ-এর পাশে গিয়ে বসলেন। ওমর ﷺ তাঁর চেহারার দিকে লক্ষ্য করে তাঁর রাগের ভাব দেখলেন।
তখন তিনি তাঁকে বললেন, হাসানের বাবা, আমি কেন তোমার চেহারার রং বদলে যেতে দেখছি, যা হয়েছে তা কি তুমি অপছন্দ করেছ?
আলী ﷺ বললেন, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, তুমি কোনটি অপছন্দ করেছ?
আলী ﷺ বললেন, আপনি কেন আমাকে সম্মানের সাথে উপনামে ডেকেছেন, আপনি আমাকে এভাবে বলতে পারেননি হে, আলী, তুমি গিয়ে তোমার বাড়ির সাথে বস।
তাঁর কথা শুনে ওমর ﷺ-এর চেহারা খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি তাঁর কাঁধে কাঁধ মেলালেন এবং চুমু খেলেন। তারপর বললেন, তোমাদের জন্যে আমরা বাবা হওয়ার যোগ্য হোক, তোমাদের দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে হেদায়েতও দিয়েছেন আর তোমাদের আল্লাহ্রকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে এনেছেন。

টিকাঃ
৩০৬। তারীখুত ওয়ায়েত্তানাদিয়াত মিন, ঊনতিভূ তুরূহ্, ১ম খণ্ড, ১৫৬ পৃঃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নবী সা. আলী রা. ও ফাতেমা রা.-এর সাথে এক রাতে

📄 নবী সা. আলী রা. ও ফাতেমা রা.-এর সাথে এক রাতে


আলী রঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সঃ আমাকে আর ফাতেমাকে আমাদের বাড়িতে এসে রাতের বেলায় নামায আদায় করার জন্য উঠাতেন। তারপর তিনি বাড়ি চলে গিয়ে রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদের নামায আদায় করতেন। এর মাঝে তিনি আমার এসে আমাদের জাগিয়ে দিতেন, কিন্তু আমরা উঠতাম না।
একদিন নবী সঃ এসে বললেন, উঠ! উঠে নামায আদায় কর। আলী বলেন, তখন আমি উঠে বসলাম এবং চোখ মলতে মলতে বললাম, আল্লাহ্র শপথ! আমাদের তাকদীরেও যা লিখা হয়েছে, আমরা তো তার চেয়ে বেশি নামায আদায় করতে পারব না। কারণ আমাদের নফস আল্লাহ্র হাতেই। অতএব তিনি আমাদের যখন উঠাবেন তখনই তো আমরা উঠব।
আলী রঃ বলেন, আমার এ কথাগুলো শুনে রাসূল সঃ চলে যেতে লাগলেন। আর যাওয়ার সময় তিনি নিজ পা মোবারক হাত খাপড়াতে খাপড়াতে আফসোস করে বলতে লাগলেন, আমাদের তাকদীরে যা লিখা হয়েছে, আমরা তো তার চেয়ে বেশি নামায আদায় করতে পারব না। এ কারণে তো আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে বলেন, মানুষ অধিক যুক্তিবান。

টিকাঃ
৯৯৪ আলী বিন আবু তালিব লিস সালাবী, ৮৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00