📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর স্মৃতিকথা বর্ণনা

📄 উসমান রা.-এর স্মৃতিকথা বর্ণনা


একদিন উবায়দুল্লাহ বিন আবী বিয়ায়া উসমান (রাঃ) -এর কাছে বসেছিলেন। তারা উভয়ে স্মৃতিকথা বর্ণনা করতে লাগলেন।
উসমান (রাঃ) তাকে বললেন, ভাতিজা, তুমি কী রাসূল (সাঃ) -কে পেয়েছ? উবায়দুল্লাহ বললেন, না.......।
এরপর উসমান (রাঃ) বললেন, পরশুখা, আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মদ (সাঃ) -কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন। তখন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন এবং মুহাম্মদ (সাঃ) যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তাঁর ওপর ঈমান এনেছে। তারপর আমি দুইবার হিজরত করেছি এবং আল্লাহর রাসূলের জামাতা হয়েছি। তাঁর হাতে বাইয়াতও গ্রহণ করেছি। আল্লাহর শপথ! আমি কখনো তাঁর অবাধ্য হয়নি, তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতাও করিনি যতদিন আল্লাহ তা'আলা জীবিত রয়েছেন。

টিকাঃ
৩৫৯ মাযমাউয যাওয়ায়েদ, ১ম খণ্ড, ১৮১ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর বদান্যতা ও তালহা রা.-এর ব্যক্তিত্ব

📄 উসমান রা.-এর বদান্যতা ও তালহা রা.-এর ব্যক্তিত্ব


হযরত তালহা (রাঃ) -এর কাছে উসমান (রাঃ) -এর পঞ্চাশ হাজার দিরহাম ছিল। এই মধ্যে একদিন উসমান (রাঃ) মসজিদে গেলে তাঁর সাথে তালহা (রাঃ) -এর দেখা হলো।
তালহা (রাঃ) তাঁকে বললেন, আপনার সম্পদ প্রস্তুত, আপনি তা গ্রহণ করুন। তখন উসমান (রাঃ) উদারভাবে বললেন, আবূ মুহাম্মাদ (তালহা), তোমার সম্মানে তা তোমার জন্য。

টিকাঃ
৩৬০ আল মুকত্বা লি ইবনুল জাওযী, ৬৪৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমি আমার প্রভুর কাছে দশটি জিনিস সঞ্চয় করে রেখেছি

📄 আমি আমার প্রভুর কাছে দশটি জিনিস সঞ্চয় করে রেখেছি


বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ল। বিদ্রোহীরা খলিফাকে আক্রমণ করতে ধাবা দিচ্ছিল। আবূ হাযের উসমান (রাঃ) -এর অবস্থা দেখার জন্য তাঁর কাছে আসলেন।
তখন উসমান (রাঃ) বললেন, আমি আমার প্রভুর কাছে দশটি জিনিস সঞ্চয় করে রেখেছি।
-আমি প্রথম চারজন ইসলাম গ্রহণকারীদের চতুর্থজন।
-আমি জায়সে উসরাকে সজ্জিত করেছি।
-রাসূল (সাঃ) আমার কাছে তাঁর মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন।
-এরপর সে মারা গেলে তিনি তিন জন অন্য মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিয়েছেন।
-আমি কখনো গান গাইনি।
-আমি কখনো মিথ্যা বলিনি।
-আমি রাসূল (সাঃ) -এর হাতে বাইয়াতও হওয়ার পর থেকে আমার হাত দ্বারা লজ্জাস্থান স্পর্শ করিনি।
-এমন কোনো জুমা'আর দিন যায়নি যেদিন আমি একটি গোলাম আযাদ করিনি তবে না থাকলে পরে আযাদ করে দিয়েছি।
-আমি জাহিলী যুগে বা ইসলামী যুগে কখনো যিনা করিনি।
-আমি রাসূল (সাঃ) -এর যুগে কোরআন একত্রিত করেছি (লিখেছি)。

টিকাঃ
৩৬১ তারিখুল বুখারী, ১ম খণ্ড, ২৮১ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর স্ত্রীর বিশ্বস্ততা

📄 উসমান রা.-এর স্ত্রীর বিশ্বস্ততা


সায়্যেদা নায়েলা (রাঃ) উসমান (রাঃ) -এর সবচেয়ে সুন্দর স্ত্রী ছিলেন। তিনি অধিক বুদ্ধিমতীও ছিলেন।
উসমান (রাঃ) শহীদ হওয়ার পর নায়েলার জন্য অনেক প্রস্তাব আসতে লাগল। আরবের বিভিন্ন গোত্র থেকে তাঁর বিয়ের প্রস্তাব আসতে লাগল। তাঁদের মধ্যে মুয়াবিয়া (রাঃ) সবার অগ্রে ছিলেন।
তখন নায়েলা (রাঃ) নিজের স্বামীর কবরের কাছে গিয়ে তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে রহমতও চাইলেন এবং দোয়া করলেন। তারপর তিনি তাঁর বাড়িতে ফিরে এলেন। বাড়িতে ফিরে এসে তিনি একটি পাথর নিয়ে নিজের সামনের দাঁত ভেঙে ফেললেন। কেননা মহিলাদের হাসির মধ্যে হাসিরই সবচেয়ে সুন্দর ছিল। এরপর তিনি উসমান (রাঃ) -এর লাঞ্ছনাকর কথা উল্লেখ করে বললেন, আল্লাহর শপথ! উসমানের স্থানে আমি কাউকে বসাতে পারব না। তিনি তাঁর ভাতা ভাতা মুয়াবিয়া (রাঃ) -এর অর্জন করে বেড়ে উঠেছেন। তিনি নবীর (সাঃ) -এর কাছ থেকে জানিয়ে দিলেন তিনি তাঁর বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না。

টিকাঃ
৩৬২ আল ইনাবা, লি ইবনি আবিল জাওযী ২১৮।
৩৬৩ আহকামুস সুলতানিয়া, ৩৮৭ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00