📄 উসমান রা. শহীদ
কুফায় মানুষেরা এক জায়গায় বসে হাসিদির চর্চা করছিল। তারা উসমান (রাঃ) এর জীবনী নিয়ে আলোচনা করছিল। এমন সময় তাদের একজন চিৎকার দিয়ে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি উসমান (রাঃ) শহীদ হয়ে মারা গেছেন।
তখন জানাযারীরা তাকে আলী (রাঃ) -এর কাছে ধরে নিয়ে গেল। তারা তাঁর কাছে গিয়ে বলল, যদি আপনি হত্যা করতে নিষেধ না করতেন তবে আমরা এ লোককে হত্যা করতাম। সে ধারণা করছে উসমান শহীদ হয়েছে।
তখন ওই লোকটি আলী (রাঃ) -কে বললেন, আপনিও সাক্ষ্য দিবেন উসমান (রাঃ) শহীদ হয়েছেন। আমি আপনাকে স্মরণ করে দিচ্ছি, আমি রাসূল (সাঃ) -এর কাছে এসে তাঁর কাছে চাইলাম, তিনি দান করলেন। তারপর আমি আবূ বকর (রাঃ) -এর কাছে চাইলাম, তিনিও আমাকে দান করলেন। এরপর আমি ওমর (রাঃ) -এর কাছে চাইলাম, তিনিও আমাকে দান করলেন। এরপর আমি উসমান (রাঃ) -এর কাছে চাইলাম, তিনিও আমাকে দান করলেন।
এরপর আমি রাসূল (সাঃ) -এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য বরকতের দোয়া করুন।
তখন তিনি বললেন, তোমার জন্য কেনোই বা বরকত হবে না অথচ তোমাকে একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও দুইজন শহীদ দান করেছেন। তিনি এ কথা তিনবার বললেন।
আলী (রাঃ) আর এ কথাকে সত্যায়ন করেছেন, তিনি এ ব্যাপারে সাক্ষ্যও দিয়েছেন এবং মানুষকে খলিফার ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করতে নিষেধ করে দিয়েছেন。
টিকাঃ
৩৫৬ আবুল মুসনাদ লি আবূ ইয়ালা, তা খণ্ড, ১৭৯ পৃ.।
৩৫৭ কানযুল উম্মাল, ৩৮৫১০।
📄 জান্নাতে নবী সা.-এর রফীক
একদিন রাসূল (সাঃ) -এর মেয়ে সায়্যেদা উম্মে কুলসুম (রাঃ) ও তাঁর স্বামী উসমান (রাঃ) রাসূল (সাঃ) -এর কাছে আসলেন।
যখন তিনি তাঁর কাছে গিয়ে বসলেন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্বামী উত্তম নাকি ফাতেমার স্বামী উত্তম?
নবী করীম (সাঃ) কিছুক্ষণ চুপ থেকে মায়া ও ভালোবাসার সাথে বললেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে তোমার স্বামী তাদের একজন। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালোবাসেন।
রাসূল (সাঃ) -এর কথা উম্মে কুলসুম (রাঃ) -এর অন্তর প্রশান্তি লাভ করল। যখন তিনি ফিরে যেতে চাইলেন তখন তাঁকে রাসূল (সাঃ) ডেকে বললেন, আমি কী বলেছি?
তিনি বললেন, আপনি বলেছেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে আমার স্বামী তাদের একজন। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালোবাসেন।
তখন রাসূল (সাঃ) হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় বললেন, হ্যাঁ, আমি আরো বৃদ্ধি করে বলছি, আমি জান্নাতে প্রবেশ করে তাঁর মর্যাদা দেখেছি, আমি তাঁর থেকে উঁচু কোনো মর্যাদা আমার অন্য কোনো সাথীদেরও দেখেছি দেখিনি।
তিনি আরো বললেন, প্রত্যেক নবীর জন্য একজন রফীক (বন্ধু) থাকবে। আর জান্নাতে আমার রফীক হবে উসমান。
টিকাঃ
৩৫৮ আল মাওয়া, ১ম খণ্ড, ১০১ পৃ.
📄 উসমান রা.-এর স্মৃতিকথা বর্ণনা
একদিন উবায়দুল্লাহ বিন আবী বিয়ায়া উসমান (রাঃ) -এর কাছে বসেছিলেন। তারা উভয়ে স্মৃতিকথা বর্ণনা করতে লাগলেন।
উসমান (রাঃ) তাকে বললেন, ভাতিজা, তুমি কী রাসূল (সাঃ) -কে পেয়েছ? উবায়দুল্লাহ বললেন, না.......।
এরপর উসমান (রাঃ) বললেন, পরশুখা, আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মদ (সাঃ) -কে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন। তখন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছেন এবং মুহাম্মদ (সাঃ) যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তাঁর ওপর ঈমান এনেছে। তারপর আমি দুইবার হিজরত করেছি এবং আল্লাহর রাসূলের জামাতা হয়েছি। তাঁর হাতে বাইয়াতও গ্রহণ করেছি। আল্লাহর শপথ! আমি কখনো তাঁর অবাধ্য হয়নি, তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতাও করিনি যতদিন আল্লাহ তা'আলা জীবিত রয়েছেন。
টিকাঃ
৩৫৯ মাযমাউয যাওয়ায়েদ, ১ম খণ্ড, ১৮১ পৃ.
📄 উসমান রা.-এর বদান্যতা ও তালহা রা.-এর ব্যক্তিত্ব
হযরত তালহা (রাঃ) -এর কাছে উসমান (রাঃ) -এর পঞ্চাশ হাজার দিরহাম ছিল। এই মধ্যে একদিন উসমান (রাঃ) মসজিদে গেলে তাঁর সাথে তালহা (রাঃ) -এর দেখা হলো।
তালহা (রাঃ) তাঁকে বললেন, আপনার সম্পদ প্রস্তুত, আপনি তা গ্রহণ করুন। তখন উসমান (রাঃ) উদারভাবে বললেন, আবূ মুহাম্মাদ (তালহা), তোমার সম্মানে তা তোমার জন্য。
টিকাঃ
৩৬০ আল মুকত্বা লি ইবনুল জাওযী, ৬৪৮ পৃ.