📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর বরকত

📄 উসমান রা.-এর বরকত


আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মানুষের মাঝে এক কিসসা বর্ণনা করেছিলেন। তখন তিনি খুব ব্যথা ও বেদনার সাথে বললেন, ইসলামের যুগে আমি তিনটি কঠিন বিপদে পড়েছি, যেগুলোর মতো বিপদে আমি কখনো পড়িনি। রাসূল ﷺ-এর মৃত্যু...... উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আর বাগ হারানো, এ তিনটি বিপদ। তারা বলল, কী ব্যাপার? তিনি বলল, আমরা এক সফরে রাসূল ﷺ-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, আবু হুরায়রা, তোমার কাছে কী কিছু আছে? আমি বললাম, আমার ব্যাগে খেজুর আছে। তিনি বললেন, নিয়ে আস। আমি ব্যাগটি নিয়ে আসলে তিনি তাতে বরকতের দোয়া করে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, বাগ থেকে দশটি খেজুর নিয়ে আস। আমি দশটি নিয়ে আসলাম। তারপর তিনি আবারো অনেকে বললেন। আমি আবারো আনলাম। এভাবে এক এক করে সকলে সেখাজ খেজুর খাওয়ালা হলো, তবুও ব্যাগের খেজুর শেষ হলো না। তারপর নবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আবু হুরায়রা, যখন তোমার খেজুর খেতে মনে চাবে তুমি তাতে হাত ঢুকিয়ে খেজুর নিয়ে খাবে। আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় সেখান থেকে খেজুর খেয়েছি। তারপর আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খিলাফতের সময়ও খেয়েছি। তারপর ওমরের খেলাফতের সময়ও সে যেহেতু উসমানের খেলাফতের শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে খেজুর নিয়ে খেয়েছি। যখন উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হলেন তখন ব্যাগ তুলে নেওয়া হলো। এক চোর আমার ঘরে ঢুকে আমার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেল。

টিকাঃ
৫১৩ দালালাতুন নুবুওয়াহ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১১০ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আল্লাহর খলিফা ও আল্লাহর উটনী

📄 আল্লাহর খলিফা ও আল্লাহর উটনী


আবু মুসলিম আল খাওলানী শামের কিছু মদিনার কিছু মানুষ হেঁটে যাচ্ছিল। আবু মুসলিম তখন দামেশকে ছিলেন। তখন তিনি তাদেরকে বললেন, ‘আহলে হিজররা’ তোমাদের ভাইদের পাশ দিয়ে কী তোমরা এসেছ? অর্থাৎ সামুদ জাতির এলাকা। তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা তাদের যে পরিণতি করেছেন তা তোমরা কেমন দেখলে? তারা বলল, তাদের গুনাহর শাস্তি। তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমরাও তাদের মতো। এরপর মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের কাছে আসলে তখন ওই শায়েখ বের হয়ে গেলেন। মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আসলে তারা তাঁর কাছে অভিযোগ করে বলল, এ শায়েখ, আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছেন, যিনি এখন বের হয়ে গেছেন। তখন মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে জিজ্ঞেস করে বললেন, আবু মুসলিম, তোমার সাথে আর তোমার জাতিভাইদের সাথে কী হয়েছে? তখন তিনি বললেন, আমি তাদেরকে বলেছি, তোমরা কী আহলে হিজরের পাশ দিয়ে এসেছ? তারা বলেছে, হ্যাঁ। আমি বলেছি, আল্লাহ তা’আলা তাদের যে পরিণতি করেছেন তা তোমরা কেমন দেখলে? তারা বলল, তাদের গুনাহর শাস্তি হিসেবে আল্লাহ তা করেছেন। তখন আমি বলেছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমরাও তাদের মতো। মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, কীভাবে, আবু মুসলিম? তিনি বললেন, তারা আল্লাহর উটনী হত্যা করেছে, তোমরা আল্লাহর খলিফাকে হত্যা করেছ। আর আমি আল্লাহকে সাক্ষ্য রেখে বলছি যে, আল্লাহর উটনী থেকে আল্লাহর খলিফা তাঁর কাছে অধিক সম্মানিত。

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 রোম সেনাপতির তাঁবুতে

📄 রোম সেনাপতির তাঁবুতে


রোম দেশে একটি সংবাদ কিয়ামতএর মতো এসে পৌঁছল যে, উসমান বিন আফফান (রাঃ) খেলাফতের দায়িত্ব পেয়েছেন।
তখন তাদের বড় বড় নেতারা হাসতে লাগল। উসমান (রাঃ) -এর অধিক বয়স তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিল। তারা ধারণা করতে লাগল যে, খিলাফত দুর্বল হয়ে গেছে। তারা তাদের সীমান্তের পাশে অবস্থিত মুসলিম এলাকায় তাদের সেনাদের দ্বারা হামলা করে ভয় দেখাল।
তখন উসমান বিন আফফান (রাঃ) মূয়াবিয়া (রাঃ) -এর কাছে নির্দেশ লিখে দিলেন যে, রোমের সেনাপতির কাছে একজন মুসলমান বীর পাঠাও।
তখন মুয়াবিয়া (রাঃ) তাঁর আদেশমতো রোমের সেনাপতির কাছে হাবীব বিন মুসাল্লামাকে পাঠালেন। তিনি এমন একজন অশ্বারোহী ছিলেন যিনি বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসতেন। তাঁর স্ত্রী উম্মে আবদুল্লাহ বিনতে ইয়াযীদও তিনিও একজন অশ্বারোহী ছিলেন।
যখন হাবীব বিন মুসাল্লামা যুদ্ধের পোশাক পরছিলেন তখন তাঁর স্ত্রী বললেন, যখন যুদ্ধ কঠিন আকার ধারণ করবে তখন আমি আপনার সাথে কোথায় মিলিত হব তিনি বললেন, রোম সেনাপতির তাঁবুতে অথবা জান্নাতে।
তারপর তিনি ও তাঁর স্ত্রী মরণ যুদ্ধে নেমে গেলেন। তিনি তাঁর সত্যের তরবারি দ্বারা একের পর এক আঘাত করতে লাগলেন। অবশেষে তিনি নিজ চোখে বিজয় দেখলেন।
এরপর তিনি দ্রুত রোম সেনাপতির তাঁবুতে ছুটে গেলেন। গিয়ে দেখলেন তাঁর আগেই তাঁর স্ত্রী সেখানে উপস্থিত。

টিকাঃ
৩৫৫ তারিখুল বুখারী, ১ম খণ্ড, ২৮৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. শহীদ

📄 উসমান রা. শহীদ


কুফায় মানুষেরা এক জায়গায় বসে হাসিদির চর্চা করছিল। তারা উসমান (রাঃ) এর জীবনী নিয়ে আলোচনা করছিল। এমন সময় তাদের একজন চিৎকার দিয়ে বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি উসমান (রাঃ) শহীদ হয়ে মারা গেছেন।
তখন জানাযারীরা তাকে আলী (রাঃ) -এর কাছে ধরে নিয়ে গেল। তারা তাঁর কাছে গিয়ে বলল, যদি আপনি হত্যা করতে নিষেধ না করতেন তবে আমরা এ লোককে হত্যা করতাম। সে ধারণা করছে উসমান শহীদ হয়েছে।
তখন ওই লোকটি আলী (রাঃ) -কে বললেন, আপনিও সাক্ষ্য দিবেন উসমান (রাঃ) শহীদ হয়েছেন। আমি আপনাকে স্মরণ করে দিচ্ছি, আমি রাসূল (সাঃ) -এর কাছে এসে তাঁর কাছে চাইলাম, তিনি দান করলেন। তারপর আমি আবূ বকর (রাঃ) -এর কাছে চাইলাম, তিনিও আমাকে দান করলেন। এরপর আমি ওমর (রাঃ) -এর কাছে চাইলাম, তিনিও আমাকে দান করলেন। এরপর আমি উসমান (রাঃ) -এর কাছে চাইলাম, তিনিও আমাকে দান করলেন।
এরপর আমি রাসূল (সাঃ) -এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য বরকতের দোয়া করুন।
তখন তিনি বললেন, তোমার জন্য কেনোই বা বরকত হবে না অথচ তোমাকে একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও দুইজন শহীদ দান করেছেন। তিনি এ কথা তিনবার বললেন।
আলী (রাঃ) আর এ কথাকে সত্যায়ন করেছেন, তিনি এ ব্যাপারে সাক্ষ্যও দিয়েছেন এবং মানুষকে খলিফার ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করতে নিষেধ করে দিয়েছেন。

টিকাঃ
৩৫৬ আবুল মুসনাদ লি আবূ ইয়ালা, তা খণ্ড, ১৭৯ পৃ.।
৩৫৭ কানযুল উম্মাল, ৩৮৫১০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00