📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমাকে ওইদিন খেয়ে ফেলছে যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে

📄 আমাকে ওইদিন খেয়ে ফেলছে যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে


খুব চিন্তা ও বিস্ময়ভরের সাথে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর একজন সাখির কাছে উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর জীবনী বর্ণনা করছিলেন। বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বললেন, তোমরা কী জানো আমার, তোমাদের ও উসমানের উদাহরণ কী? এর উদাহরণ হচ্ছে এক বনে তিনটি ষাঁড়ের মতো। একটি কালো আরেকটি সাদা অন্যটি লাল। তাদের সাথে একটি সিংহও আছে। ষাঁড় তিনটি একত্রিত থাকার কারণে সিংহই করতে পারছিল না। তখন সিংহটি লাল ও সাদা সিংহকে বলল, আমাদের এ বনে সাদা ষাঁড়টি ব্যতীত আর কেউ নেই যে আমাদের ওপর নেতৃত্ব দেবে। কেননা তার রং প্রসিদ্ধ। যদি তোমরা দুইজন আমাকে অনুমতি দাও তাহলে আমি তাকে খেয়ে ফেলব। এতে আমার ও তোমাদের জন্য তো কল্যাণকর হবে। তখন তারা বলল, খেয়ে নাও। তারপর সে সাদা ষাঁড়টিকে খেয়ে দূরে বসে রইল।
এর পর লাল ষাঁড়টিকে বলল, আমাদের এ বনে কালো ষাঁড়টি ব্যতীত আর কেউ নেই যে আমাদের ওপর নেতৃত্ব দেবে। কেননা তার রং প্রসিদ্ধ। আর আমার রং, তোমার রং প্রসিদ্ধ নয়। সুতরাং যদি তুমি আমাকে অনুমতি দাও তাহলে আমি তাকে খেয়ে নিব। এতে আমার ও তোমার উভয়ের কল্যাণ হবে। সে বলল, খেয়ে নাও, সিংহ কালো ষাঁড়টিকেও খেয়ে নিল। এর কিছু দিন পর সে লাল ষাঁড়কে বলল, আমি তোমাকে খাব। তখন ষাঁড়টি বলল, আমাকে সুযোগ দাও আমি তিনবার চিৎকার দিব। সিংহ বলল, দাও। ষাঁড়টি চিৎকার করে বলল, জেনে রাখ, আমাকে সে দিন খেয়ে ফেলেছ যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে খাওয়া হয়েছে। আমাকে সে দিন খেয়ে ফেলেছ যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে খাওয়া হয়েছে। আমাকে সে দিন খেয়ে ফেলেছ যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে খাওয়া হয়েছে。

টিকাঃ
৫১২ তারিকুল মাদীনা, ৪ র্থ খণ্ড, ১১০ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর বরকত

📄 উসমান রা.-এর বরকত


আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মানুষের মাঝে এক কিসসা বর্ণনা করেছিলেন। তখন তিনি খুব ব্যথা ও বেদনার সাথে বললেন, ইসলামের যুগে আমি তিনটি কঠিন বিপদে পড়েছি, যেগুলোর মতো বিপদে আমি কখনো পড়িনি। রাসূল ﷺ-এর মৃত্যু...... উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আর বাগ হারানো, এ তিনটি বিপদ। তারা বলল, কী ব্যাপার? তিনি বলল, আমরা এক সফরে রাসূল ﷺ-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, আবু হুরায়রা, তোমার কাছে কী কিছু আছে? আমি বললাম, আমার ব্যাগে খেজুর আছে। তিনি বললেন, নিয়ে আস। আমি ব্যাগটি নিয়ে আসলে তিনি তাতে বরকতের দোয়া করে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, বাগ থেকে দশটি খেজুর নিয়ে আস। আমি দশটি নিয়ে আসলাম। তারপর তিনি আবারো অনেকে বললেন। আমি আবারো আনলাম। এভাবে এক এক করে সকলে সেখাজ খেজুর খাওয়ালা হলো, তবুও ব্যাগের খেজুর শেষ হলো না। তারপর নবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আবু হুরায়রা, যখন তোমার খেজুর খেতে মনে চাবে তুমি তাতে হাত ঢুকিয়ে খেজুর নিয়ে খাবে। আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় সেখান থেকে খেজুর খেয়েছি। তারপর আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খিলাফতের সময়ও খেয়েছি। তারপর ওমরের খেলাফতের সময়ও সে যেহেতু উসমানের খেলাফতের শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে খেজুর নিয়ে খেয়েছি। যখন উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হলেন তখন ব্যাগ তুলে নেওয়া হলো। এক চোর আমার ঘরে ঢুকে আমার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেল。

টিকাঃ
৫১৩ দালালাতুন নুবুওয়াহ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১১০ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আল্লাহর খলিফা ও আল্লাহর উটনী

📄 আল্লাহর খলিফা ও আল্লাহর উটনী


আবু মুসলিম আল খাওলানী শামের কিছু মদিনার কিছু মানুষ হেঁটে যাচ্ছিল। আবু মুসলিম তখন দামেশকে ছিলেন। তখন তিনি তাদেরকে বললেন, ‘আহলে হিজররা’ তোমাদের ভাইদের পাশ দিয়ে কী তোমরা এসেছ? অর্থাৎ সামুদ জাতির এলাকা। তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা তাদের যে পরিণতি করেছেন তা তোমরা কেমন দেখলে? তারা বলল, তাদের গুনাহর শাস্তি। তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমরাও তাদের মতো। এরপর মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের কাছে আসলে তখন ওই শায়েখ বের হয়ে গেলেন। মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আসলে তারা তাঁর কাছে অভিযোগ করে বলল, এ শায়েখ, আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছেন, যিনি এখন বের হয়ে গেছেন। তখন মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে জিজ্ঞেস করে বললেন, আবু মুসলিম, তোমার সাথে আর তোমার জাতিভাইদের সাথে কী হয়েছে? তখন তিনি বললেন, আমি তাদেরকে বলেছি, তোমরা কী আহলে হিজরের পাশ দিয়ে এসেছ? তারা বলেছে, হ্যাঁ। আমি বলেছি, আল্লাহ তা’আলা তাদের যে পরিণতি করেছেন তা তোমরা কেমন দেখলে? তারা বলল, তাদের গুনাহর শাস্তি হিসেবে আল্লাহ তা করেছেন। তখন আমি বলেছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমরাও তাদের মতো। মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, কীভাবে, আবু মুসলিম? তিনি বললেন, তারা আল্লাহর উটনী হত্যা করেছে, তোমরা আল্লাহর খলিফাকে হত্যা করেছ। আর আমি আল্লাহকে সাক্ষ্য রেখে বলছি যে, আল্লাহর উটনী থেকে আল্লাহর খলিফা তাঁর কাছে অধিক সম্মানিত。

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 রোম সেনাপতির তাঁবুতে

📄 রোম সেনাপতির তাঁবুতে


রোম দেশে একটি সংবাদ কিয়ামতএর মতো এসে পৌঁছল যে, উসমান বিন আফফান (রাঃ) খেলাফতের দায়িত্ব পেয়েছেন।
তখন তাদের বড় বড় নেতারা হাসতে লাগল। উসমান (রাঃ) -এর অধিক বয়স তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিল। তারা ধারণা করতে লাগল যে, খিলাফত দুর্বল হয়ে গেছে। তারা তাদের সীমান্তের পাশে অবস্থিত মুসলিম এলাকায় তাদের সেনাদের দ্বারা হামলা করে ভয় দেখাল।
তখন উসমান বিন আফফান (রাঃ) মূয়াবিয়া (রাঃ) -এর কাছে নির্দেশ লিখে দিলেন যে, রোমের সেনাপতির কাছে একজন মুসলমান বীর পাঠাও।
তখন মুয়াবিয়া (রাঃ) তাঁর আদেশমতো রোমের সেনাপতির কাছে হাবীব বিন মুসাল্লামাকে পাঠালেন। তিনি এমন একজন অশ্বারোহী ছিলেন যিনি বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে আসতেন। তাঁর স্ত্রী উম্মে আবদুল্লাহ বিনতে ইয়াযীদও তিনিও একজন অশ্বারোহী ছিলেন।
যখন হাবীব বিন মুসাল্লামা যুদ্ধের পোশাক পরছিলেন তখন তাঁর স্ত্রী বললেন, যখন যুদ্ধ কঠিন আকার ধারণ করবে তখন আমি আপনার সাথে কোথায় মিলিত হব তিনি বললেন, রোম সেনাপতির তাঁবুতে অথবা জান্নাতে।
তারপর তিনি ও তাঁর স্ত্রী মরণ যুদ্ধে নেমে গেলেন। তিনি তাঁর সত্যের তরবারি দ্বারা একের পর এক আঘাত করতে লাগলেন। অবশেষে তিনি নিজ চোখে বিজয় দেখলেন।
এরপর তিনি দ্রুত রোম সেনাপতির তাঁবুতে ছুটে গেলেন। গিয়ে দেখলেন তাঁর আগেই তাঁর স্ত্রী সেখানে উপস্থিত。

টিকাঃ
৩৫৫ তারিখুল বুখারী, ১ম খণ্ড, ২৮৮ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00