📄 এক লোক জাহান্নাম চাচ্ছে
মুসাফিরদের জন্য বানানো সিরিয়ার এক হোটেলে চিৎকারের আওয়াজ আসছিল। হায় আমার ধ্বংস জাহান্নাম! হায় আমার ধ্বংস জাহান্নাম! তখন আবু কিলাবা (রহ) যিনি হাকেমে হাদীস ছিলেন, তিনি ওই আওয়াজের দিকে এগিয়ে গেলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন এক লোক, যার হাত কাঁধ পর্যন্ত কাটা, পাও কাটা, সে অন্ধ, চেহারার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে, সে চিৎকার করে বলছে, আমার ধ্বংস, আমি জাহান্নামী। তখন আবু কিলাবা খুব অনুম্বরের সাথে বললেন, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার কী হয়েছে? সে হতাশাবর সাথে বলল, আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাও। তখন সেখানো ছুটে আসা মানুষবরা বলল, বল, তোমার কী হয়েছে?
তখন ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আফসোস করতে বলল, আমি ওই লোকদের মাঝে ছিলাম যারা উসামাদের ঘরে প্রবেশ করেছে। আমি তাদের অগ্রভাগে ছিলাম যারা তার কাছে গিয়েছিল। আমি যখন তার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম তখন তাঁর চিৎকার দিকে উঠল। সে চিৎকার দেওয়ার কারণে আমি তাকে ধার্য মারলাম। তখন উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার দিকে তাকাল, এদিকে তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। সে আমাকে বলল, আল্লাহ যেন তোমাকে হাত পাখাগুলো অবশ্যি দেবে, তোমাকে অন্ধ করে দেন এবং তোমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান। আমি যখন গভীরভাবে বিষয়টি দেখে দেখলাম উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মনে ভয় ঢুকে গেল। আমি তার অভিশাপ থেকে বাঁচার জন্য দ্রুত বের হয়ে গেলাম এবং আমি যা করেছি তা থেকে পালাতে লাগলাম। আমি আমার রবারের উঠে দ্রুত পালাতে লাগলাম। যখন আমি এ জায়গায় পৌঁছালাম, হঠাৎ কেউ একজন এসে আমার এ রকম করে দিল যেমন তোমরা দেখছ। আল্লাহ্র শপথ! আমি জানি না, সে কী জীন নাকি মানুষ। আল্লাহ তা'আলা আমার হাত, পা ও দৃষ্টির ব্যাপারে তার দোয়া কবুল করেছে। আল্লাহ্র শপথ! তার দোয়ার মধ্যে আর জাহান্নামীই বাকি আছে। আবু কেলাবা (রহ) বললেন, তখন আমি চেয়েছি আমার পা ধারা তাকে আঘাত করব। পরে আমি বললাম, দূরে যা...... দূরে যা.......
টিকাঃ
৫১১ আবু রিকাবুল বুকা, ১৫৪।
📄 আমাকে ওইদিন খেয়ে ফেলছে যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে
খুব চিন্তা ও বিস্ময়ভরের সাথে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁর একজন সাখির কাছে উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর জীবনী বর্ণনা করছিলেন। বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বললেন, তোমরা কী জানো আমার, তোমাদের ও উসমানের উদাহরণ কী? এর উদাহরণ হচ্ছে এক বনে তিনটি ষাঁড়ের মতো। একটি কালো আরেকটি সাদা অন্যটি লাল। তাদের সাথে একটি সিংহও আছে। ষাঁড় তিনটি একত্রিত থাকার কারণে সিংহই করতে পারছিল না। তখন সিংহটি লাল ও সাদা সিংহকে বলল, আমাদের এ বনে সাদা ষাঁড়টি ব্যতীত আর কেউ নেই যে আমাদের ওপর নেতৃত্ব দেবে। কেননা তার রং প্রসিদ্ধ। যদি তোমরা দুইজন আমাকে অনুমতি দাও তাহলে আমি তাকে খেয়ে ফেলব। এতে আমার ও তোমাদের জন্য তো কল্যাণকর হবে। তখন তারা বলল, খেয়ে নাও। তারপর সে সাদা ষাঁড়টিকে খেয়ে দূরে বসে রইল।
এর পর লাল ষাঁড়টিকে বলল, আমাদের এ বনে কালো ষাঁড়টি ব্যতীত আর কেউ নেই যে আমাদের ওপর নেতৃত্ব দেবে। কেননা তার রং প্রসিদ্ধ। আর আমার রং, তোমার রং প্রসিদ্ধ নয়। সুতরাং যদি তুমি আমাকে অনুমতি দাও তাহলে আমি তাকে খেয়ে নিব। এতে আমার ও তোমার উভয়ের কল্যাণ হবে। সে বলল, খেয়ে নাও, সিংহ কালো ষাঁড়টিকেও খেয়ে নিল। এর কিছু দিন পর সে লাল ষাঁড়কে বলল, আমি তোমাকে খাব। তখন ষাঁড়টি বলল, আমাকে সুযোগ দাও আমি তিনবার চিৎকার দিব। সিংহ বলল, দাও। ষাঁড়টি চিৎকার করে বলল, জেনে রাখ, আমাকে সে দিন খেয়ে ফেলেছ যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে খাওয়া হয়েছে। আমাকে সে দিন খেয়ে ফেলেছ যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে খাওয়া হয়েছে। আমাকে সে দিন খেয়ে ফেলেছ যেদিন সাদা ষাঁড়টিকে খাওয়া হয়েছে。
টিকাঃ
৫১২ তারিকুল মাদীনা, ৪ র্থ খণ্ড, ১১০ পৃ.
📄 উসমান রা.-এর বরকত
আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মানুষের মাঝে এক কিসসা বর্ণনা করেছিলেন। তখন তিনি খুব ব্যথা ও বেদনার সাথে বললেন, ইসলামের যুগে আমি তিনটি কঠিন বিপদে পড়েছি, যেগুলোর মতো বিপদে আমি কখনো পড়িনি। রাসূল ﷺ-এর মৃত্যু...... উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, আর বাগ হারানো, এ তিনটি বিপদ। তারা বলল, কী ব্যাপার? তিনি বলল, আমরা এক সফরে রাসূল ﷺ-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি বললেন, আবু হুরায়রা, তোমার কাছে কী কিছু আছে? আমি বললাম, আমার ব্যাগে খেজুর আছে। তিনি বললেন, নিয়ে আস। আমি ব্যাগটি নিয়ে আসলে তিনি তাতে বরকতের দোয়া করে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, বাগ থেকে দশটি খেজুর নিয়ে আস। আমি দশটি নিয়ে আসলাম। তারপর তিনি আবারো অনেকে বললেন। আমি আবারো আনলাম। এভাবে এক এক করে সকলে সেখাজ খেজুর খাওয়ালা হলো, তবুও ব্যাগের খেজুর শেষ হলো না। তারপর নবী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আবু হুরায়রা, যখন তোমার খেজুর খেতে মনে চাবে তুমি তাতে হাত ঢুকিয়ে খেজুর নিয়ে খাবে। আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় সেখান থেকে খেজুর খেয়েছি। তারপর আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খিলাফতের সময়ও খেয়েছি। তারপর ওমরের খেলাফতের সময়ও সে যেহেতু উসমানের খেলাফতের শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে খেজুর নিয়ে খেয়েছি। যখন উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হলেন তখন ব্যাগ তুলে নেওয়া হলো। এক চোর আমার ঘরে ঢুকে আমার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে গেল。
টিকাঃ
৫১৩ দালালাতুন নুবুওয়াহ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১১০ পৃ.
📄 আল্লাহর খলিফা ও আল্লাহর উটনী
আবু মুসলিম আল খাওলানী শামের কিছু মদিনার কিছু মানুষ হেঁটে যাচ্ছিল। আবু মুসলিম তখন দামেশকে ছিলেন। তখন তিনি তাদেরকে বললেন, ‘আহলে হিজররা’ তোমাদের ভাইদের পাশ দিয়ে কী তোমরা এসেছ? অর্থাৎ সামুদ জাতির এলাকা। তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা তাদের যে পরিণতি করেছেন তা তোমরা কেমন দেখলে? তারা বলল, তাদের গুনাহর শাস্তি। তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমরাও তাদের মতো। এরপর মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের কাছে আসলে তখন ওই শায়েখ বের হয়ে গেলেন। মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আসলে তারা তাঁর কাছে অভিযোগ করে বলল, এ শায়েখ, আমাদেরকে কষ্ট দিচ্ছেন, যিনি এখন বের হয়ে গেছেন। তখন মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে জিজ্ঞেস করে বললেন, আবু মুসলিম, তোমার সাথে আর তোমার জাতিভাইদের সাথে কী হয়েছে? তখন তিনি বললেন, আমি তাদেরকে বলেছি, তোমরা কী আহলে হিজরের পাশ দিয়ে এসেছ? তারা বলেছে, হ্যাঁ। আমি বলেছি, আল্লাহ তা’আলা তাদের যে পরিণতি করেছেন তা তোমরা কেমন দেখলে? তারা বলল, তাদের গুনাহর শাস্তি হিসেবে আল্লাহ তা করেছেন। তখন আমি বলেছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমরাও তাদের মতো। মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, কীভাবে, আবু মুসলিম? তিনি বললেন, তারা আল্লাহর উটনী হত্যা করেছে, তোমরা আল্লাহর খলিফাকে হত্যা করেছ। আর আমি আল্লাহকে সাক্ষ্য রেখে বলছি যে, আল্লাহর উটনী থেকে আল্লাহর খলিফা তাঁর কাছে অধিক সম্মানিত。