📄 বিরোধীদের আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করলেন
আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ (রহ) বলেন, সাঈদ বিন আ’স رضي الله عنه উসমান رضي الله عنه-এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি কতদিন পর্যন্ত আমাদের হাত ফিরিয়ে রাখবেন? এ বিদ্রোহীরা তো আমাদের খেলায় ফেলে কেউ আমাদের ওপর তীর নিক্ষেপ করে, কেউ আমাদের পাথর মারছে, কেউ আবার তলোয়ার উঠিয়ে দেখাচ্ছে। সুতরাং আপনি আমাদেরকে নির্দেশ দিন আমরা এদের সাথে লড়াই করি। তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার তো তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা মোটেই ইচ্ছা নেই। যদি আমি তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করি, আমি নিশ্চয়ই তাদের থেকে নিরাশ হয়ে যাব, কিন্তু তাদের ওপর যারা, যারা তাদেরেক আমার বিরুদ্ধে উসুকিয়ে দিয়েছে সবাইকে আমি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করে দিচ্ছি। কেননা,
আমার সকলকে নিজ প্রস্তুর নিকটে একত্রিত হতে হবে। কোনোভাবে আমি তোমাদের তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিতে পার না。
টিকাঃ
৫০৭ খায়াতুস সাহাবা, তালাকাতে ইবনে সা’দ।
📄 রাত তাদের জন্যে
উম্মুল মুমিনীন উসমান (রা)-এর অভ্যাস ছিল তিনি যখন রাতের বেলায় উঠতেন তখন নিজের অজুর পানি নিজেই নিতেন। তাকে বলা হলো, আপনি যদি খাদেমকে নির্দেশ দেন তাহলে সে তো আপনার জন্য ব্যবস্থা করে দিত। এর উত্তরে তিনি বললেন, না, রাত তাদের জন্য, তারা রাতে বিশ্রাম গ্রহণ করে। অর্থাৎ তারা কাজ করে, সুতরাং রাতে তারা বিশ্রাম করবে。
টিকাঃ
৫০৮ ফায়াযুলুস সাহাবা, ১৪২ পৃ.
📄 উসমান রা. রাসূল সা.-এর পাশে থাকতে সন্তুষ্ট
সায়্যিদা রায়ত্বা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমাকে উসামা বিন যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে প্রেরণ করেছেন। তিনি আমাকে বললেন, যাও, কেননা মহিলারা ঘরের ভেতরে যেতে সহজ হবে। তুমি গিয়ে তাকে বলবে, আপনার চাচাতো ভাই উসামা আপনাকে সালাম জানিয়েছে, আর বলেছে, ‘আমার অনেক চাচাতো ভাই আমার কাছেই আছে, আমার কাছে বাহন আছে, যদি আপনি চান তাহলে আমরা তা ঘরের কিনাবায় প্রস্তুত করতে পারি, এরপর আপনি বের হয়ে মক্কায় মুকাররমা যাবেন যেখানে মানুষ নিরাপদ থাকে। কেননা রাসূল রাসূল ﷺ তা করেছেন যখন তিনি তাঁর গোত্রের লোক থেকে আক্রান্ত হওয়ার ভয় করেছেন।’ রায়ত্বা এসে উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে উসামার কথাগুলো বললেন। তখন উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম ও আল্লাহর রহমত বলবে। আর তাকে বলবে, আল্লাহ তাকে তার চাচাতো ভাইয়ের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি এমন নই যে, মৃত্যুর ভয়ে রাসূল ﷺ-কে ত্যাগ করে দূরে চলে যাব। তখন রায়ত্বা উসামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এসে খলিফার কথাগুলো জানালেন। তখন উসামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তোমার জন্য আফসোস! তুমি ফিরে যাও আমি দেখছি তিনি নিহত হবেন。
টিকাঃ
৫০৯ ইবনে আসাকির, ৪১২।
📄 আমি নবী করীম সা.-এর আগে তাওয়াফ করব না
বীরত্ব ও সাহসিকতার সাথে নবী করীম ﷺ ওমরা করার জন্য মক্কার দিকে রওনা দিলেন, কিন্তু পথে তিনি কোরাইশদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলেন।
তখন তিনি ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে বারবাহাক হিসাবে মক্কায় প্রেরণ করে তাদেরকে জানাতে চাইলেন যে, তিনি যুদ্ধ করতে আসছেন না; বরং ওমরা পালন করতে আসছেন। তখন ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আমার ব্যাপারে কোরাইশদের ভয় করছি। বনু আদীর কেউ নেই, যে আমার ওপর আক্রমণ আসলে প্রতিরোধ করবে। কোরাইশদের সাথে আমার শত্রু ও কঠোরতার ব্যাপারে আপনার তো জানা আছে; বরং আমি আপনাকে এমন একজন লোক দেখিয়ে দিচ্ছি যিনি কোরাইশদের কাছে আমার থেকে অধিক সম্মানিত।...তিনি উসমান বিন আফফান। তখন নবী করীম ﷺ উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে আবু সুফিয়ান ও কোরাইশদের সম্মানিত ব্যক্তিদের কাছে প্রেরণ করলেন। কোরাইশদেরকে এ বিষয় জানিয়ে দিতে যে, তিনি যুদ্ধ করতে আসেননি; বরং কা’বার যিয়ারত করতে এসেছেন। তিনি উসমান মক্কার দিকে সফর শুরু করলেন। মক্কা প্রবেশ করে আবান বিন সাঈদ বিন আল আসের সাথে তাঁর দেখা হলো। সে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি তার সাথে মক্কায় গিয়ে রাসূল ﷺ-এর বার্তা কোরাইশদের কাছে পৌঁছে দিলেন। যখন উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বার্তা জানানো শেষ করলেন তখন তারা বলল, যদি তুমি চাও বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে তাহলে কর। তখন উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, রাসূল ﷺ তাওয়াফ করার আগে আমি তা তাওয়াফ করতে চাই না。
টিকাঃ
৫১০ সিরায়ে ইবনে হিশাম, ৩য় খণ্ড, ৩২০ পৃ.