📄 আবু হুরায়রা রা.-এর দ্রোহ
যখন আবু হুরায়রা رضي الله عنه-এর কানে খলিফার অবস্থার সংবাদ পৌছল। তিনি বিদ্যুৎগতিতে তরবারি হাতে নিয়ে উসমান رضي الله عنه-এর কাছে ছুটে গেলেন।
তিনি তাঁর কাছে এসে চিৎকার করে দিয়ে বলেন, তারা কী ভালো হবে, নাকি মার খাবে। তখন উসমান رضي الله عنه খুব শান্তভাবে বললেন, আবু হুরায়রা, তুমি কী সকল মানুষকে হত্যা করতে পারলে খুশি হবে? তিনি বললেন, না। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তুমি যদি কোনো এক ব্যক্তিকে হত্যা কর তবে তুমি সকল মানুষকে হত্যা করলে। তখন আবু হুরায়রা رضي الله عنه-এর মনে তাঁর এ কথা গেঁথে গেল। তিনি শান্ত হয়ে ফিরে গেলেন। এর মধ্যে একদিন আবু হুরায়রা رضي الله عنه উসমান رضي الله عنه-এর সাথে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় বিদ্রোহীদের এক লোককে হত্যা করল। তখন আবু হুরায়রা رضي الله عنه বললেন, আমীরুল মুমিনীন, এখন হত্যা করা বৈধ কেননা তারা আমাদের একজনকে হত্যা করেছে। তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, আমি তোমাকে দুতাবাসে বলছি, তুমি তোমার তরবারি রাখ। আমি চাচ্ছি নিজেকে পেশ করে মুসলমানদেরকে রক্ষা করতে。
টিকাঃ
৩১৩ তাবাকাতু ইবনি সা’দ, ৩য় খণ্ড, ৬২ পৃ.
📄 উসমান রা. ও বিদ্রোহীদের প্রশ্ন
মিশর থেকে বিদ্রোহীরা উসমান رضي الله عنه-কে শান্তি দিয়ে মদিনায় এসেছে। যখন তারা মদিনার কাছে এসে পৌঁছল তখন তিনি মিশরের উট দ্রুত উঠিয়ে দিলেন। সুফিয়াতু বিনতে বলেন, .......তোমরা মন্দ প্রকাশ করেছ, আর কল্যাণ গোপন রেখেছ। তোমরা জনপদের বিদ্রোহকে উস্কে দিয়েছ। তোমাদের মধ্যে কে আছে এ দলের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করবে তারা কিসের প্রতিশোধ গ্রহণ করবে? তাদের উদ্দেশ্য কী? তিনি এ কথা তিনবার বললেন, কিন্তু তারপরও কোনো উত্তর আসেনি। তখন সবাই চুপ করে রইল কেউ কোনো উত্তর দিল না। তারপর নিরাপত্তা চেয়ে আলী رضي الله عنه দাঁড়িয়ে বললেন, আমি। তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, তুমি তাদের আত্মীয় তাদের নিকটবর্তী এবং তাদের জন্য অধিক উপযুক্ত। তখন আলী رضي الله عنه তাদের কাছে আসলেন। তারা তাঁকে স্বাগত জানাল আর বলল, আমাদের কাছে যারা আসছে তাদের মধ্যে আপনিই অধিক প্রিয়। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা প্রতিশোধ নিবে? তারা বলল, আমরা তার থেকে প্রতিশোধ নিব এ কারণে যে, তিনি আল্লাহর কিতাবকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়েছিলেন, তিনি চারপশুমি দখল করেছেন, তিনি নিজের আত্মীয়স্বজনকে সরকারি পদে নিয়োগ দিয়েছেন, মারওয়ানকে দুই লক্ষ দিরহাম দিয়েছেন এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাহাবীদেরকে কষ্ট দিয়েছেন। তখন উসমান رضي الله عنه তাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলেন। -কোথায় তা তো আল্লাহর পক্ষ থেকে, আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন হরফে পড়তে নিষেধ করেছি যাতে করে তোমাদের মাঝে মতানৈক্য না হয়, সুতরাং তোমাদের যে কিরাতগুলো ইচ্ছাতোমরা তা পাঠ কর। -আর চারপশুমি, আল্লাহর শপথ! আমি তা নিজের জন্য সংরক্ষণ করিনি, আমি তো তা তো সওদার পণ্যদাওয়ার জন্য সংরক্ষণ করেছি, যাকেথেকে মিসকিনরা ভালো মূল্য পায়। -আর তোমাদের অভিযোগ, আমি মারওয়ানকে দুই লক্ষ দিরহাম দিয়েছি, সে সম্পদ তো তাদের ঘরের.......। -আর তোমাদের অভিযোগ, আমি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাহাবীদের কষ্ট দিয়েছি, এটা তো এ কারণে যে, আমি মানুষ, কখনো রাগ হয় কখনো খুশি হয়, সুতরাং তাদের মধ্যে যারা প্রতিশোধ নিতে চায় তারা আসুক, আমি তো এখানেই আছি, যদি চায় আমাকে বন্দি করুক, যদি চায় আমাকে ক্ষমা করুক, অথবা যদি চায় বিনিময় নিয়ে খুশি হবে তাহলে বিনিময় গ্রহণ করুক। বিদ্রোহীরা তাদের উত্তর পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে মদীনায় প্রবেশ করল。
টিকাঃ
৩১৪ আখবারুস সাহাবা, ২য় খণ্ড, ১৬।
📄 বন্দিদশায়ও কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি যত্ন
উসমান رضي الله عنه-এর আযাদকৃত গোলাম মুসলিম আবু সাইদ (রহ) বলেন, বন্দিদশায় উসমান رضي الله عنه বিছানায় গোলাম আযাদ করেন। অতঃপর পাল্লায় চেয়ে তা পরিধান করলেন এবং তা শুল্ক বেঁধে নিলেন। অথচ এর আগে তিনি না জাহিলী যুগে সেলোয়ার পায়জামা পরেছেন, না ইসলাম গ্রহণ করার পর। তারপর বললেন, গত রাতে আমি রাসূল صلى الله عليه وسلم, আবু বকর رضي الله عنه ও উমর رضي الله عنه-কে স্বপ্নে দেখেছি। তাঁরা আমাকে বলেছেন, ধৈর্য ধরো, কারণ, তুমি আগামীকাল সন্ধ্যার আমাদের কাছে এসে ইফতার করবে। তারপর তিনি কুরআন শরীফ চাইলেন এবং কুরআন শরীফ খুলে নিজের সামনে রাখলেন। যখন তিনি শহীদ হলেন তখন কুরআন খোলা অবস্থাতেই তাঁর সামনে ছিল。
টিকাঃ
৩১৫ আখবারুস সাহাবা।
📄 তুমি আমাদের সাথে ইফতার করবে
খুব আফসোস ও দুঃখের সাথে উসমান رضي الله عنه-এর স্ত্রী নায়েলা আমীরুল মুমিনীন উসমান رضي الله عنه-কে হত্যা করার পূর্বের তাঁর শেষ মুহূর্তের ঘটনা বলছিলেন।
তিনি বললেন, যখন উসমান رضي الله عنه অবরুদ্ধ হলেন তখন থেকে তিনি প্রতিদিন রোযা রেখে কাটাতেন। যখন ইফতারের সময় হতো তখন তিনি মিষ্টি পানি চাইতেন। একদিন তিনি চাইল তবে তারা বলল, এই নিন এটা রুকীর কুঁয়ার পানি, এ পানিগুলো যে কূপের সে কূপ মানুষ ময়লা আবর্জনার কাগজ ফেলত। যখন ধৈর্যের সময় হলো তখন আমি এক প্রতিবেশীর কাছে গিয়ে পানি চাইলাম। তারা আমাকে পানি দিল। আমি একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাঁর কাছে গেলাম। তাঁদেরকে ঘুম থেকে জাগালাম। আমি বললাম, এগুলো মিষ্টি পানি, আপনার জন্য আমি নিয়ে এসেছি। তিনি বললেন, এই সাথে রাসূল صلى الله عليه وسلم আমার কাছে এসেছিলেন, তাঁর সাথে তখন পানির বালতি ছিল। তিনি আমাকে বললেন, উসমান, পান কর, আমি তৃষ্ণা নিবারণ করা পর্যন্ত পান করলাম। তিনি আমাকে আবার বললেন, আরো পান কর, তখন আমি তৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত পান করলাম। তারপর তিনি বললেন, এরা তোমার উপরের অচিরেই আক্রমণ করবে। যদি তাদের সাথে যুদ্ধ কর তবে জয়ী হবে আর যদি যুদ্ধ না কর তবে আমাদের সাথে এসে ইফতার করবে। তাঁর স্ত্রী বললেন, এরপর সেই দিনেই বিদ্রোহীরা এসে তাঁকে হত্যা করে。
টিকাঃ
৩১৬ কিতাবুল ফুয়া দি ইবনি আ’বেস, হাদিস নং ১৯০২, ২য় খণ্ড, ৫৪৬ পৃ: