📄 বিদ্রোহীদের অবরোধ
চুড়ি যেমন হাতকে ঘেরাও দিয়ে রাখে তেমনি বিদ্রোহীরা উসমান رضي الله عنه-কে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এমনকি তারা সেখানে খাবার পানি পর্যন্ত যেতে দিচ্ছে না। তখন আবু ক্বাতাদা ও তাঁর সাথে অন্য এক লোক উসমান رضي الله عنه-এর কাছে গিয়ে হজ্ব করার অনুমতি চাইলেন। উসমান رضي الله عنه তাঁদেরকে অনুমতি দিলেন। যখন তাঁরা বের হয়ে আসলেন তখন তাঁরা দেখলেন হাসান رضي الله عنه উসমান رضي الله عنه-এর সামনে এসে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি বীবের মতো বলতে লাগলেন, আমীরুল মু'মিনীন, আমি আপনার সামনে আছি, আপনি আমাকে আদেশ করুন।
উসমান رضي الله عنه বলেন, ভাতিজা, তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেছ। বিদ্রোহীরা আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে চাচ্ছে না। আল্লাহর শপথ! আমি মুমিনদেরকে যুদ্ধের দিকে উত্তেজিত করতে চাই না; বরং আমি নিজেকে বিলিয়ে মুমিনদেরকে রক্ষা করতে চাই। আবু বকর رضي الله عنه বলেন, আমীরুল মুমিনীন, যদি আপনার কিছু হয় তাহলে আপনি আমাদেরকে কী আদেশ দিয়ে যাবেন? তিনি বললেন, তোমরা দেখ, মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর উত্তরসূরা কোন বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়। কেননা তারা সবাই একই পথভ্রষ্ট হবে না। তোমরা যেখানে থাক দলের সাথে থাক। বাসার বিন মূসা বলেন, আমি এ ঘটনা হাসান বিন যায়েদের কাছে বর্ণনা করলাম তখন তিনি তা শুনে কান্না করলেন, তাঁর চোখ থেকে অশ্রু টুপ টুপ করে ঝরতে লাগল। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা উসমান رضي الله عنه-এর ওপর রহম করুন, তিনি চল্লিশ দিন অবরুদ্ধ ছিলেন, কিন্তু তবুও এমন কোনো কথা তাঁর থেকে প্রকাশিত হয়নি যা বিদ্রোহীদের জন্যে দলিল হবে。
টিকাঃ
৩০৯ আল বিদায়া ওয়াল নিহায়া, ১/১২।
📄 শেষ বাক্য
আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه খুবই চিন্তা ও হতাশার সাথে উসমান رضي الله عنه-এর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, উসমান رضي الله عنه-কে হত্যা করার সময় তিনি কী বলেছিলেন? তারা বলল, আমরা শুনতে পেয়েছি তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহ, উসমাতে মুহাফ্ফীককে এক কর। হে আল্লাহ, উসমাতে মুহাফ্ফীককে এক কর। এ কথা তিনি তিনবার বলেছিলেন। তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! তিনি যদি ওই অবস্থায় আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যে, আল্লাহ যেন উসমাতে মুহাফ্ফীককে এক না করে, তবে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ উসমাতে মুহাফ্ফীককে এক করতেন না。
টিকাঃ
৩১০ আল মুতাওয়াদিদীন লি ইবনে আব্দুলমুমিন, ৫৬।
📄 সর্বোচ্চ পরিষদে উসমান রা.
একদল লোক আলী رضي الله عنه-এর চতুর্দিকে বসে তার থেকে নবী صلى الله عليه وسلم ও ইসলাম গ্রহণের অগ্রগামীদের জীবনী শুনছিল।
তিনিও তাঁদেরকে খুব আগ্রহের সাথে অগ্রগামী সাহাবীদের ত্যাগ তিতিক্ষা শুনাচ্ছিলেন। এমন সময় এক লোক বলল, আপনি আমাদেরকে উসমান رضي الله عنه সম্পর্কে বলুন। তখন আলী رضي الله عنه খুব আকর্ষণের সাথে বললেন, তিনি এমন এক ব্যক্তি যাকে মালাউল আলায় মুন মূরাইন বলে ডাকা হয়। মালাউল আ’লা হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সর্বোচ্চ পরিচ্ছেদ অর্থাৎ আকাশে。
টিকাঃ
৩১১ আল ইসাবা, ৪র্থ খণ্ড, ৩৭৭ পৃ:।
📄 আমি রাসূল সা. থেকে দূরে যাব না
মূসীরা বিন ত’বা রহ. উসমান رضي الله عنه-এর কাছে আসলেন। তিনি তখন অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। মূসীরা رضي الله عنه তাঁকে বললেন, আপনি সকলের নেতা। আপনাকে নিয়ে যা হচ্ছে তা আপনি দেখছেন। আমি আপনাকে তিনটি পথ বলছি আপনি যে কোনো একটি বেছে নিন। হয় আপনি যুদ্ধ করতে বের হবেন, কেননা আপনার হাতে অনেক শক্তি আছে, আর আপনি সত্যের ওপর আছেন তারা অসত্যের ওপর আছে। অথবা, আমরা আপনার জন্যে ঘরের পেছন দিয়ে একটি দরজা করে দিই আপনি সেই দরজা দিয়ে মক্কায় চলে যাবেন। কেননা তারা সেখানে আপনাকে হত্যা করাকে বৈধ মনে করবে না। অথবা, আপনি সিরিয়া চলে যান সেখানে তো মুয়াবিয়া رضي الله عنه আছেন। তখন উসমান رضي الله عنه খুব যুক্তিতর্কের সাথে বললেন, জেনে রাখ, আমি যদি যুদ্ধ করি তাহলে নবী صلى الله عليه وسلم যাদেরকে রেখে গেছেন তাদের মধ্যে আমিই প্রথম ব্যক্তি হব যে তাঁর উম্মতের মাঝে রক্তপাত ঘটিয়েছে। আর আমি মক্কা যাওয়া, আমি তো মক্কায় যাব না এ কারণে যে আমি রাসূল صلى الله عليه وسلم-কে বলতে শুনেছি মক্কায় কোরাইশদের এক লোককে দাফন করা হবে যাকে বিশ্বের অর্ধেক শক্তি দেওয়া হবে। আর আমার সিরিয়া যাওয়া, সিরিয়া তো এ কারণে যেতে পারব না যে, আমি চাই না আমার হিজরাত ঘর ও রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কাছ থেকে দূরে থাকি。
টিকাঃ
৩১২ তারিখুল খুলাফা, ২৮৮।