📄 খিলাফত ছেড়ে দিতে চাইলেন উসমান রা.
আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه চিন্তিত অবস্থায় মাথায় নিয়ে অবরুদ্ধ উসমান رضي الله عنه-এর ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন উসমান رضي الله عنه বিরক্ত হয়ে বললেন, মুগীরা যা বলছে তার ব্যাপারে তোমার মত কী? তখন ওমর رضي الله عنه বললেন, সে কী বলছে? তিনি বললেন, এ সকল বিদ্রোহীরা, তারা চাইছে খিলাফত থেকে আমি পদত্যাগ করি এবং তাদের মাঝ থেকে সরে দাঁড়াই। ইবনে ওমর رضي الله عنه বললেন, আপনি কী মনে করেন তা করলে আপনি দুনিয়াতে স্থায়ী হয়ে যাবেন? তিনি বললেন, না। ইবনে ওমর رضي الله عنه বললেন, আপনি কী মনে করেন যদি আপনি তা না করেন তারা আপনাকে হত্যার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারবে? তিনি বললেন, না। ইবনে ওমর رضي الله عنه বললেন, তারা কী জান্নাত, জাহান্নামের মালিক? তিনি বললেন, না। ইবনে ওমর رضي الله عنه বললেন, তাহলে আমি দেখি না এতে কোনো ফায়দা আছে। যখনই কোনো খলিফাকে খিলাফতের দায়িত্ব দেওয়া হবে তখনই তারা তাঁর থেকে তা কেড়ে নিতে চাইবে। আপনি খিলাফতের সেই জামা খুলবেন না, যে জামা আল্লাহ তা'আলা আপনাকে পরিয়েছেন。
টিকাঃ
৯৩১ ফাওয়ায়েদুল সাহাবা, ৭৬৭। লুবাবুল ইবনি শাদ, ৩য় খণ্ড, ৫৮।
📄 বিদ্রোহীদের অবরোধ
চুড়ি যেমন হাতকে ঘেরাও দিয়ে রাখে তেমনি বিদ্রোহীরা উসমান رضي الله عنه-কে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এমনকি তারা সেখানে খাবার পানি পর্যন্ত যেতে দিচ্ছে না। তখন আবু ক্বাতাদা ও তাঁর সাথে অন্য এক লোক উসমান رضي الله عنه-এর কাছে গিয়ে হজ্ব করার অনুমতি চাইলেন। উসমান رضي الله عنه তাঁদেরকে অনুমতি দিলেন। যখন তাঁরা বের হয়ে আসলেন তখন তাঁরা দেখলেন হাসান رضي الله عنه উসমান رضي الله عنه-এর সামনে এসে দাঁড়ালেন। তারপর তিনি বীবের মতো বলতে লাগলেন, আমীরুল মু'মিনীন, আমি আপনার সামনে আছি, আপনি আমাকে আদেশ করুন।
উসমান رضي الله عنه বলেন, ভাতিজা, তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেছ। বিদ্রোহীরা আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে চাচ্ছে না। আল্লাহর শপথ! আমি মুমিনদেরকে যুদ্ধের দিকে উত্তেজিত করতে চাই না; বরং আমি নিজেকে বিলিয়ে মুমিনদেরকে রক্ষা করতে চাই। আবু বকর رضي الله عنه বলেন, আমীরুল মুমিনীন, যদি আপনার কিছু হয় তাহলে আপনি আমাদেরকে কী আদেশ দিয়ে যাবেন? তিনি বললেন, তোমরা দেখ, মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর উত্তরসূরা কোন বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়। কেননা তারা সবাই একই পথভ্রষ্ট হবে না। তোমরা যেখানে থাক দলের সাথে থাক। বাসার বিন মূসা বলেন, আমি এ ঘটনা হাসান বিন যায়েদের কাছে বর্ণনা করলাম তখন তিনি তা শুনে কান্না করলেন, তাঁর চোখ থেকে অশ্রু টুপ টুপ করে ঝরতে লাগল। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা উসমান رضي الله عنه-এর ওপর রহম করুন, তিনি চল্লিশ দিন অবরুদ্ধ ছিলেন, কিন্তু তবুও এমন কোনো কথা তাঁর থেকে প্রকাশিত হয়নি যা বিদ্রোহীদের জন্যে দলিল হবে。
টিকাঃ
৩০৯ আল বিদায়া ওয়াল নিহায়া, ১/১২।
📄 শেষ বাক্য
আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه খুবই চিন্তা ও হতাশার সাথে উসমান رضي الله عنه-এর হত্যার প্রত্যক্ষদর্শীদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, উসমান رضي الله عنه-কে হত্যা করার সময় তিনি কী বলেছিলেন? তারা বলল, আমরা শুনতে পেয়েছি তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহ, উসমাতে মুহাফ্ফীককে এক কর। হে আল্লাহ, উসমাতে মুহাফ্ফীককে এক কর। এ কথা তিনি তিনবার বলেছিলেন। তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! তিনি যদি ওই অবস্থায় আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যে, আল্লাহ যেন উসমাতে মুহাফ্ফীককে এক না করে, তবে কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ উসমাতে মুহাফ্ফীককে এক করতেন না。
টিকাঃ
৩১০ আল মুতাওয়াদিদীন লি ইবনে আব্দুলমুমিন, ৫৬।
📄 সর্বোচ্চ পরিষদে উসমান রা.
একদল লোক আলী رضي الله عنه-এর চতুর্দিকে বসে তার থেকে নবী صلى الله عليه وسلم ও ইসলাম গ্রহণের অগ্রগামীদের জীবনী শুনছিল।
তিনিও তাঁদেরকে খুব আগ্রহের সাথে অগ্রগামী সাহাবীদের ত্যাগ তিতিক্ষা শুনাচ্ছিলেন। এমন সময় এক লোক বলল, আপনি আমাদেরকে উসমান رضي الله عنه সম্পর্কে বলুন। তখন আলী رضي الله عنه খুব আকর্ষণের সাথে বললেন, তিনি এমন এক ব্যক্তি যাকে মালাউল আলায় মুন মূরাইন বলে ডাকা হয়। মালাউল আ’লা হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সর্বোচ্চ পরিচ্ছেদ অর্থাৎ আকাশে。
টিকাঃ
৩১১ আল ইসাবা, ৪র্থ খণ্ড, ৩৭৭ পৃ:।