📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমরা উসমানকে হত্যা করো না

📄 তোমরা উসমানকে হত্যা করো না


আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه উসমান رضي الله عنه-এর ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি তখন অবরুদ্ধ ছিলেন। তিনি মানুষকে চলে যাওয়ার আদেশ দিলে সবাই চলে গেলেন, তিনিই ঘরে একা একা বসে ছিলেন। আব্দুল্লাহ বিন সালাম ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে সালাম দিলেন। তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, আব্দুল্লাহ বিন সালাম তুমি কেন এসেছ? তিনি বললেন, আমি আপনার সাথে রাত কাটাতে এসেছি যতক্ষণ না আল্লাহ আপনাকে বিজয় দান করেন অথবা আপনাকে আমাকে শহীদ করেন। কেননা আমি দেখছি এরা আপনাকে হত্যা করেই ছাড়বে। যদি তারা আপনাকে হত্যা করে তবে তা আপনার জন্যে কল্যাণকর আর তাদের জন্যে ক্ষতিকর। উসমান رضي الله عنه বললেন, তোমার ও আমার যে অধিকার আছে, সে অধিকারে আমি তোমাকে বলছি তুমি ফিরে যাও.......। তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه ঘর থেকে হতাশ হয়ে বের হয়ে এলেন। তিনি বের হয়ে এসে বিদ্রোহীরা তাঁকে ঘিরে একত্রিত হলো। তিনি তাদের সামনে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর বললেন, তোমাদের পূর্বে জাবিয়া যখন কোনো নবীকে হত্যা করত তখন হত্যার দিয়াত (শান্তি) হিসেবে তাদের সত্তর হাজার লোককে হত্যা করা হতো। যখন তারা কোনো খলিফাকে হত্যা করা হতো তখন তার দিয়াত (শান্তি) হিসেবে তাদের পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে হত্যা করা হতো। সুতরাং তোমরা বর্তমান খলিফার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করো না। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিচ্ছি তাঁর হায়াতও শেষ হয়ে এসেছে যা আমরা আল্লাহর কিতাবে পেয়েছি। তারপরও আমি তোমাদেরকে ওই আল্লাহর শপথ দিচ্ছি যার হাতে আমার প্রাণ ঐ ব্যক্তিও তাঁকে হত্যা করবে সে কিয়ামতের দিন অন্ধ ও দুই হাত কাটা অবস্থায় আল্লাহর সাথে দেখা করবে。

টিকাঃ
৯২৮ ফাতহুলবুর সাহাবা, ৭৬৪।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমরা উসমানকে গালি দিও না

📄 তোমরা উসমানকে গালি দিও না


কিছু মানুষের অন্তর নিফাকীতে আক্রান্ত হয়েছে। তারা নূরের আলো হারিয়েছে ফেলেছে।
তাদের মধ্য থেকে একদল লোক বসে বসে উসমান رضي الله عنه-কে নিয়ে আলোচনা করছিল। তারা তাঁর নামে কুৎসা রটনা করছিল এবং তাঁকে গালাগালি করছিল। তাদের কথাবার্তার আওয়াজ শুনে আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه-এর কানে গেল তখন তিনি ক্ষিপ্ত ঘোড়ার মতো ছুটে গিয়ে তাদের ওপর তরবারী দিয়ে আক্রমণ করলেন। তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, তোমরা উসমানকে গালি দিবে না, আমরা তাঁকে আমাদের সেরাদের একজন হিসেবে গণ্য করি。

টিকাঃ
৯২৯ ফাওয়ায়েদুল মুতাসিল, ৭৪৬।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 প্রশান্তচিত্তে বিদ্রোহীদের সাথে কথোপকথন

📄 প্রশান্তচিত্তে বিদ্রোহীদের সাথে কথোপকথন


আমীরুল মু'মিনীন উসমান رضي الله عنه-কে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। কিন্তু বিদ্রোহীরা তাঁর ঈমানকে অবরুদ্ধ করতে পারেনি, তাঁর দৃঢ়তাকে দুর্বল করতে পারেনি। তখন তাঁকে হত্যা করতে তাঁর ঘরে দুইটি লোক প্রবেশ করল। প্রথম লোক যে বনু লাইহের ছিল সে তাঁকে হত্যা করতে এগিয়ে আসল। তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, কোন গোত্র থেকে? সে বলল, লাইহী। তিনি বললেন, তুমি আমাকে হত্যা করতে পারো না। সে বলল, কেন? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আব্দুল লোহের মায়ের তোমার জন্য দোয়া করেননি যে, তোমাকে যেন অমুক অমুক দিন ফেতনা থেকে হেফাজত করা হয়। সে বলল, অবশ্যই করেছেন। তখন তিনি বললেন, তাহলে তুমি কেন করছ? তখন লোকটি ক্ষমা চেয়ে ফিরে গেল এবং বিদ্রোহীদের থেকে আলাদা হয়ে চলে গেল। এরপর এক লোক প্রবেশ করল, সে কোরাইশী ছিল। সে এসে বলল, উসমান, আমি তোমাকে হত্যা করব? তিনি বললেন, কখনো না। সে বলল, কেন? তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার জন্যে অমুক জায়গায় ক্ষমা চেয়েছেন, সুতরাং তুমি হারামভাবে রক্তপাতে সাথে জড়িত নও। তখন লোকটি ক্ষমা চেয়ে ফিরে গেল এবং বিদ্রোহীদের থেকে পৃথক হয়ে গেল。

টিকাঃ
৯৩০ মুনসাবে আয়াজাতু শাহা, ২য় খণ্ড, ২৬।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 খিলাফত ছেড়ে দিতে চাইলেন উসমান রা.

📄 খিলাফত ছেড়ে দিতে চাইলেন উসমান রা.


আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه চিন্তিত অবস্থায় মাথায় নিয়ে অবরুদ্ধ উসমান رضي الله عنه-এর ঘরে প্রবেশ করলেন। তখন উসমান رضي الله عنه বিরক্ত হয়ে বললেন, মুগীরা যা বলছে তার ব্যাপারে তোমার মত কী? তখন ওমর رضي الله عنه বললেন, সে কী বলছে? তিনি বললেন, এ সকল বিদ্রোহীরা, তারা চাইছে খিলাফত থেকে আমি পদত্যাগ করি এবং তাদের মাঝ থেকে সরে দাঁড়াই। ইবনে ওমর رضي الله عنه বললেন, আপনি কী মনে করেন তা করলে আপনি দুনিয়াতে স্থায়ী হয়ে যাবেন? তিনি বললেন, না। ইবনে ওমর رضي الله عنه বললেন, আপনি কী মনে করেন যদি আপনি তা না করেন তারা আপনাকে হত্যার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারবে? তিনি বললেন, না। ইবনে ওমর رضي الله عنه বললেন, তারা কী জান্নাত, জাহান্নামের মালিক? তিনি বললেন, না। ইবনে ওমর رضي الله عنه বললেন, তাহলে আমি দেখি না এতে কোনো ফায়দা আছে। যখনই কোনো খলিফাকে খিলাফতের দায়িত্ব দেওয়া হবে তখনই তারা তাঁর থেকে তা কেড়ে নিতে চাইবে। আপনি খিলাফতের সেই জামা খুলবেন না, যে জামা আল্লাহ তা'আলা আপনাকে পরিয়েছেন。

টিকাঃ
৯৩১ ফাওয়ায়েদুল সাহাবা, ৭৬৭। লুবাবুল ইবনি শাদ, ৩য় খণ্ড, ৫৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00