📄 উসমান রা.-এর বাণী
-পৃথিবীর চিন্তা এক অন্ধকার, আর পরকালের চিন্তা একটি আলো। -দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার প্রিয়, গুনাহবিমুখ ব্যক্তি ফেরেশতাদের প্রিয় আর লালসাবিমুখ ব্যক্তি مسلمانوں কাছে প্রিয়। -চারটি জিনিস মূল্যহীন- আমলহীন ইলম, যে সম্পদ যা ব্যয় করা হয় না, সদস্যসব যা দ্বারা দুনিয়া অর্জন করা হয়, সে দীর্ঘ হায়াত যার মাধ্যমে আখেরাতের পাথেয় তৈরি করা হয় না। -পৃথিবীতে আমার তিনটি বস্তু পছন্দনীয়- ক্ষুধার্তদের খাওয়ানো, বস্ত্রহীনদের বস্ত্র পরিধান করানো, কুরআন মাজীদ নিজে পাঠ করা, অন্যকে পাঠ করানো। -চারটি বস্তুর মধ্যে বাহ্যত একটি সৌন্দর্য, কিন্তু চারটি আবশ্যক বিষয় বিদ্যমান- নেক লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করা এক সৌন্দর্য, কিন্তু তার অনুসরণ একটি আবশ্যক কাজ। কুরআন তিলাওয়াত করা একটি সৌন্দর্য, কিন্তু তার ওপর আমল করা একটি আবশ্যকীয় কাজ। রোগীর সেবা শুশ্রূষা করা একটি সৌন্দর্য, কিন্তু তাঁর দ্বারা অসিয়ত পূর্ণ করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কবর যিয়ারত করা একটি সৌন্দর্য, কিন্তু কবরের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। -আমি চার কাজে মজে পাই- ফরযসমূহ আদায় করার মাঝে, হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার মাঝে, প্রতিসানের আশায় নেক কাজ করার মাঝে ও আল্লাহর ভয়ে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাঝে। -মৃতব্যক্তি আলামত পাঁচটি-এমন ব্যক্তির সংশ্রবে থাকা, যার দ্বারা দ্বীনের সংশোধন হয়। লজ্জাজ্ঞান ও জিহ্বাকে আয়ত্তে রাখা। দুনিয়াবী আনন্দকে আয়াধ মনে করা।
সন্দহজনক হালাল থেকেও বিরত থাকা ও নিজের ব্যাপারে একীন হওয়া যে, আমি ধ্বংসের মাঝে পড়ে আছি。
টিকাঃ
৯২৭ ফাওয়ায়েদুল মুতাসিল, ৯২১।
📄 তোমরা উসমানকে হত্যা করো না
আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه উসমান رضي الله عنه-এর ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি তখন অবরুদ্ধ ছিলেন। তিনি মানুষকে চলে যাওয়ার আদেশ দিলে সবাই চলে গেলেন, তিনিই ঘরে একা একা বসে ছিলেন। আব্দুল্লাহ বিন সালাম ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে সালাম দিলেন। তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, আব্দুল্লাহ বিন সালাম তুমি কেন এসেছ? তিনি বললেন, আমি আপনার সাথে রাত কাটাতে এসেছি যতক্ষণ না আল্লাহ আপনাকে বিজয় দান করেন অথবা আপনাকে আমাকে শহীদ করেন। কেননা আমি দেখছি এরা আপনাকে হত্যা করেই ছাড়বে। যদি তারা আপনাকে হত্যা করে তবে তা আপনার জন্যে কল্যাণকর আর তাদের জন্যে ক্ষতিকর। উসমান رضي الله عنه বললেন, তোমার ও আমার যে অধিকার আছে, সে অধিকারে আমি তোমাকে বলছি তুমি ফিরে যাও.......। তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه ঘর থেকে হতাশ হয়ে বের হয়ে এলেন। তিনি বের হয়ে এসে বিদ্রোহীরা তাঁকে ঘিরে একত্রিত হলো। তিনি তাদের সামনে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর বললেন, তোমাদের পূর্বে জাবিয়া যখন কোনো নবীকে হত্যা করত তখন হত্যার দিয়াত (শান্তি) হিসেবে তাদের সত্তর হাজার লোককে হত্যা করা হতো। যখন তারা কোনো খলিফাকে হত্যা করা হতো তখন তার দিয়াত (শান্তি) হিসেবে তাদের পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে হত্যা করা হতো। সুতরাং তোমরা বর্তমান খলিফার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করো না। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিচ্ছি তাঁর হায়াতও শেষ হয়ে এসেছে যা আমরা আল্লাহর কিতাবে পেয়েছি। তারপরও আমি তোমাদেরকে ওই আল্লাহর শপথ দিচ্ছি যার হাতে আমার প্রাণ ঐ ব্যক্তিও তাঁকে হত্যা করবে সে কিয়ামতের দিন অন্ধ ও দুই হাত কাটা অবস্থায় আল্লাহর সাথে দেখা করবে。
টিকাঃ
৯২৮ ফাতহুলবুর সাহাবা, ৭৬৪।
📄 তোমরা উসমানকে গালি দিও না
কিছু মানুষের অন্তর নিফাকীতে আক্রান্ত হয়েছে। তারা নূরের আলো হারিয়েছে ফেলেছে।
তাদের মধ্য থেকে একদল লোক বসে বসে উসমান رضي الله عنه-কে নিয়ে আলোচনা করছিল। তারা তাঁর নামে কুৎসা রটনা করছিল এবং তাঁকে গালাগালি করছিল। তাদের কথাবার্তার আওয়াজ শুনে আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه-এর কানে গেল তখন তিনি ক্ষিপ্ত ঘোড়ার মতো ছুটে গিয়ে তাদের ওপর তরবারী দিয়ে আক্রমণ করলেন। তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, তোমরা উসমানকে গালি দিবে না, আমরা তাঁকে আমাদের সেরাদের একজন হিসেবে গণ্য করি。
টিকাঃ
৯২৯ ফাওয়ায়েদুল মুতাসিল, ৭৪৬।
📄 প্রশান্তচিত্তে বিদ্রোহীদের সাথে কথোপকথন
আমীরুল মু'মিনীন উসমান رضي الله عنه-কে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। কিন্তু বিদ্রোহীরা তাঁর ঈমানকে অবরুদ্ধ করতে পারেনি, তাঁর দৃঢ়তাকে দুর্বল করতে পারেনি। তখন তাঁকে হত্যা করতে তাঁর ঘরে দুইটি লোক প্রবেশ করল। প্রথম লোক যে বনু লাইহের ছিল সে তাঁকে হত্যা করতে এগিয়ে আসল। তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, কোন গোত্র থেকে? সে বলল, লাইহী। তিনি বললেন, তুমি আমাকে হত্যা করতে পারো না। সে বলল, কেন? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আব্দুল লোহের মায়ের তোমার জন্য দোয়া করেননি যে, তোমাকে যেন অমুক অমুক দিন ফেতনা থেকে হেফাজত করা হয়। সে বলল, অবশ্যই করেছেন। তখন তিনি বললেন, তাহলে তুমি কেন করছ? তখন লোকটি ক্ষমা চেয়ে ফিরে গেল এবং বিদ্রোহীদের থেকে আলাদা হয়ে চলে গেল। এরপর এক লোক প্রবেশ করল, সে কোরাইশী ছিল। সে এসে বলল, উসমান, আমি তোমাকে হত্যা করব? তিনি বললেন, কখনো না। সে বলল, কেন? তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার জন্যে অমুক জায়গায় ক্ষমা চেয়েছেন, সুতরাং তুমি হারামভাবে রক্তপাতে সাথে জড়িত নও। তখন লোকটি ক্ষমা চেয়ে ফিরে গেল এবং বিদ্রোহীদের থেকে পৃথক হয়ে গেল。
টিকাঃ
৯৩০ মুনসাবে আয়াজাতু শাহা, ২য় খণ্ড, ২৬।