📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর অসিয়ত

📄 উসমান রা.-এর অসিয়ত


উসমান رضي الله عنه-কে হত্যা করার পর তাঁর পবিত্র দেহ মোবারক আল্লাহর কাছে ছুটে চলে গেল। এরপর লোকেরা তাঁর ধনভাণ্ডার খুঁজতে লাগল। সেখানে তাঁরা একটি সিন্দুক পেল। সিন্দুকের ভেতরে একটি কাগজ পেল। সেখানে লেখা ছিল, ‘এটি উসমানের অসিয়ত, পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি, উসমান বিন আফফান সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীফ নেই, আর নিশ্চয়ই মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। নিশ্চয়ই জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্রিত করবেন এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ তা'আলা ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। আর সেই ওয়াদার ওপর আমরা জীবিত থাকি, মৃত্যুবরণ করব এবং পুনরায় জীবিত হবো ইন-শা-আল্লাহ (আল্লাহ চাহে তো)

টিকাঃ
৯২৬ আলফাসলে সুলাহাবা, ২য় খণ্ড, ২৩।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর বাণী

📄 উসমান রা.-এর বাণী


-পৃথিবীর চিন্তা এক অন্ধকার, আর পরকালের চিন্তা একটি আলো। -দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার প্রিয়, গুনাহবিমুখ ব্যক্তি ফেরেশতাদের প্রিয় আর লালসাবিমুখ ব্যক্তি مسلمانوں কাছে প্রিয়। -চারটি জিনিস মূল্যহীন- আমলহীন ইলম, যে সম্পদ যা ব্যয় করা হয় না, সদস্যসব যা দ্বারা দুনিয়া অর্জন করা হয়, সে দীর্ঘ হায়াত যার মাধ্যমে আখেরাতের পাথেয় তৈরি করা হয় না। -পৃথিবীতে আমার তিনটি বস্তু পছন্দনীয়- ক্ষুধার্তদের খাওয়ানো, বস্ত্রহীনদের বস্ত্র পরিধান করানো, কুরআন মাজীদ নিজে পাঠ করা, অন্যকে পাঠ করানো। -চারটি বস্তুর মধ্যে বাহ্যত একটি সৌন্দর্য, কিন্তু চারটি আবশ্যক বিষয় বিদ্যমান- নেক লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করা এক সৌন্দর্য, কিন্তু তার অনুসরণ একটি আবশ্যক কাজ। কুরআন তিলাওয়াত করা একটি সৌন্দর্য, কিন্তু তার ওপর আমল করা একটি আবশ্যকীয় কাজ। রোগীর সেবা শুশ্রূষা করা একটি সৌন্দর্য, কিন্তু তাঁর দ্বারা অসিয়ত পূর্ণ করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কবর যিয়ারত করা একটি সৌন্দর্য, কিন্তু কবরের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। -আমি চার কাজে মজে পাই- ফরযসমূহ আদায় করার মাঝে, হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার মাঝে, প্রতিসানের আশায় নেক কাজ করার মাঝে ও আল্লাহর ভয়ে খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাঝে। -মৃতব্যক্তি আলামত পাঁচটি-এমন ব্যক্তির সংশ্রবে থাকা, যার দ্বারা দ্বীনের সংশোধন হয়। লজ্জাজ্ঞান ও জিহ্বাকে আয়ত্তে রাখা। দুনিয়াবী আনন্দকে আয়াধ মনে করা।
সন্দহজনক হালাল থেকেও বিরত থাকা ও নিজের ব্যাপারে একীন হওয়া যে, আমি ধ্বংসের মাঝে পড়ে আছি。

টিকাঃ
৯২৭ ফাওয়ায়েদুল মুতাসিল, ৯২১।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমরা উসমানকে হত্যা করো না

📄 তোমরা উসমানকে হত্যা করো না


আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه উসমান رضي الله عنه-এর ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি তখন অবরুদ্ধ ছিলেন। তিনি মানুষকে চলে যাওয়ার আদেশ দিলে সবাই চলে গেলেন, তিনিই ঘরে একা একা বসে ছিলেন। আব্দুল্লাহ বিন সালাম ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে সালাম দিলেন। তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, আব্দুল্লাহ বিন সালাম তুমি কেন এসেছ? তিনি বললেন, আমি আপনার সাথে রাত কাটাতে এসেছি যতক্ষণ না আল্লাহ আপনাকে বিজয় দান করেন অথবা আপনাকে আমাকে শহীদ করেন। কেননা আমি দেখছি এরা আপনাকে হত্যা করেই ছাড়বে। যদি তারা আপনাকে হত্যা করে তবে তা আপনার জন্যে কল্যাণকর আর তাদের জন্যে ক্ষতিকর। উসমান رضي الله عنه বললেন, তোমার ও আমার যে অধিকার আছে, সে অধিকারে আমি তোমাকে বলছি তুমি ফিরে যাও.......। তখন আব্দুল্লাহ বিন সালাম رضي الله عنه ঘর থেকে হতাশ হয়ে বের হয়ে এলেন। তিনি বের হয়ে এসে বিদ্রোহীরা তাঁকে ঘিরে একত্রিত হলো। তিনি তাদের সামনে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর বললেন, তোমাদের পূর্বে জাবিয়া যখন কোনো নবীকে হত্যা করত তখন হত্যার দিয়াত (শান্তি) হিসেবে তাদের সত্তর হাজার লোককে হত্যা করা হতো। যখন তারা কোনো খলিফাকে হত্যা করা হতো তখন তার দিয়াত (শান্তি) হিসেবে তাদের পঁয়ত্রিশ হাজার লোককে হত্যা করা হতো। সুতরাং তোমরা বর্তমান খলিফার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করো না। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর শপথ দিচ্ছি তাঁর হায়াতও শেষ হয়ে এসেছে যা আমরা আল্লাহর কিতাবে পেয়েছি। তারপরও আমি তোমাদেরকে ওই আল্লাহর শপথ দিচ্ছি যার হাতে আমার প্রাণ ঐ ব্যক্তিও তাঁকে হত্যা করবে সে কিয়ামতের দিন অন্ধ ও দুই হাত কাটা অবস্থায় আল্লাহর সাথে দেখা করবে。

টিকাঃ
৯২৮ ফাতহুলবুর সাহাবা, ৭৬৪।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমরা উসমানকে গালি দিও না

📄 তোমরা উসমানকে গালি দিও না


কিছু মানুষের অন্তর নিফাকীতে আক্রান্ত হয়েছে। তারা নূরের আলো হারিয়েছে ফেলেছে।
তাদের মধ্য থেকে একদল লোক বসে বসে উসমান رضي الله عنه-কে নিয়ে আলোচনা করছিল। তারা তাঁর নামে কুৎসা রটনা করছিল এবং তাঁকে গালাগালি করছিল। তাদের কথাবার্তার আওয়াজ শুনে আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه-এর কানে গেল তখন তিনি ক্ষিপ্ত ঘোড়ার মতো ছুটে গিয়ে তাদের ওপর তরবারী দিয়ে আক্রমণ করলেন। তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, তোমরা উসমানকে গালি দিবে না, আমরা তাঁকে আমাদের সেরাদের একজন হিসেবে গণ্য করি。

টিকাঃ
৯২৯ ফাওয়ায়েদুল মুতাসিল, ৭৪৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00