📄 উসমান রা. ও উতবার সম্পদ
ওমর رضي الله عنه আবু সুফিয়ানের ছেলে উব্বার কাছে লোক পাঠালেন। যিনি তায়েফের গভর্নর ছিলেন। তিনি তাকে গভর্নরের পদ থেকে বরখাস্ত করে দিলেন। একদিন কোনো এক রাজার উব্বার সাথে ওমর رضي الله عنه -এর দেখা হলে তিনি তাঁর কাছে ত্রিশ হাজার দিরহাম পেলেন। তখন ওমর رضي الله عنه বললেন, এ সম্পদ তোমার কাছে কোথায় থেকে এসেছে? তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! এটা আপনারাও না আর মিসকীনদেরও না। এটি আমার ক্রয় করা জমির ভেতরে পেয়েছি। তখন ওমর رضي الله عنه বললেন, আমাদের কর্মকর্তারা যদি কোনো সম্পদ পায় তাহলে তা বায়তুল মালে জমা হবে। এ কথা বলে তিনি তাঁর থেকে সে সম্পদ নিয়ে বায়তুল মালে জমা করে দিলেন। এরপর দিনের পর দিন অতিবাহিত হতে লাগল, এরই মধ্যে ওমর رضي الله عنه -এর ইন্তিকালের পর খিলাফত উসমান رضي الله عنه -এর হাতে ন্যস্ত হলো। তখন উসমান رضي الله عنه উব্বারকে বললেন, তোমার কী এ সম্পদের প্রয়োজন আছে? কেননা ওমর رضي الله عنه তোমার এ সম্পদ বায়তুল মালে জমা দেওয়ার কোনো কারণ আমি দেখছি না।
উব্বার বললেন, আল্লাহর শপথ! আমার তা প্রয়োজন আছে। তবুও আপনি তা আমাকে দেবেন না। কেননা যদি আপনি আগের খলিফার নির্দেশ পাল্ট দেন তাহলে আপনার নির্দেশও আপনার পরবর্তীতে পাল্টে দিবে。
টিকাঃ
৯৪১ উসদুল গাবাহ, ১ম খণ্ড, ৪৬৭ পৃ.
📄 নিজেকে পরামর্শের অনুগত রাখা
উসমান رضي الله عنه -এর সময়ে মসজিদে নববীতে প্রসারের প্রয়োজন হলো। তখন তিনি সাধারণ মানুষের সাথে তা নিয়ে পরামর্শ করতে চাইলেন। সেখানে মারওয়ান বিন হাকামও উপস্থিত ছিল। সে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনার ওপর জীবন উৎসর্গ হোক। এ ব্যাপারে পরামর্শ করার কী প্রয়োজন? ওমর رضي الله عنه তো মসজিদের আয়তন বৃদ্ধি করার সময় কারো সাথে আলোচনা পর্যন্ত করেননি। এ কথা শুনে উসমান رضي الله عنه রেগে বললেন, চুপ কর, ওমরের ব্যাপারে হলো, তাঁকে মানুষ এত বেশি ভয় পেত যে, যিনি তিনি লোকরে বলতেন 'ওই সাপের গর্ভে প্রবেশ কর' লোকেরা তাতেও ঢুকে যেত, কিন্তু আমার ব্যাপারে হলো আমি নরম স্বভাবের লোক। এজন্য আমি সতর্কতা অবলম্বন করি, যাতে করে কেউ প্রতিবাদ না করে。
টিকাঃ
৯৪২ ওয়ায়াতুল ওয়ায়া, ২য় খণ্ড, ৬৫৪ পৃ.
📄 খিয়ানতের কারণে জামাতাকে বরখাস্ত
হারিস বিন হিকাম হযরত উসমান رضي الله عنه -এর চাচাতো ভাই ও জামাতা ছিলেন। উসমান رضي الله عنه তাকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ করলেন। তাঁর কাজ ছিল বাজারে জিনিসপত্রের ক্রয়-বিক্রয়, তাঁর মূল্য, দোকানদারদের ওজন, পরিমাপ ও মুদ্রা পর্যবেক্ষণ করা। যাতে করে খেতানায় কোনো ধরনের দুর্নীতি অভিযোগ না আসে। কিন্তু আত্মীয়তা ও নৈকট্য সত্ত্বেও উসমান رضي الله عنه এ বিষয়ে অবগত হলেন যে, হারিস বিন হিকাম নিজ কর্তব্য বিশ্বস্ততা সহকারে পালন করে না এবং নিজ পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ মুনাফা লাভ করার জন্য বাজারের কোনো কোনো জিনিস নিজের জন্য নির্ধারিত করে নিয়েছে। তখন উসমান رضي الله عنه তার প্রতি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হলেন এবং তৎক্ষণাৎ তাকে বরখাস্ত করে দিলেন。
টিকাঃ
৯৪৩ হায়াতুন সাহাবা।
📄 উসমান রা.-কে নিয়ে এক ব্যক্তির তর্ক
এক লোক আলী رضي الله عنه-এর কাছে এসে বলল, নিশ্চয়ই উসমান জাহান্নামে। তখন আলী رضي الله عنه বললেন, তুমি কোথায় থেকে জেনেছ? সে বলল, কেননা তিনি অনেক অনর্থন ঘটিয়েছেন।
তিনি বললেন, তোমার অভিমত কী যদি তোমার মেয়ে থাকে, তুমি কী তাকে পরামর্শ করা ব্যতীত বিয়ে দিবে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি বল নবী করীম রضي الله عنه কোনো কাজ করতে আল্লাহর সাথে পরামর্শ করেননি নাকি করতেন না? সে বলল: বরং তিনি পরামর্শ করতেন। তিনি বললেন, আর আল্লাহ কী তাঁকে ভালোটা পছন্দ করে দিতেন নাকি দিতেন না? সে বলল: বরং আল্লাহ তাঁকে ভালোটা পছন্দ করে দিতেন। তিনি বললেন, তাহলে এবার বল উসমানের সাথে রাসূল رضي الله عنه -এর মেয়ের বিয়ে কি আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করে দিয়েছেন নাকি দেননি? এ কথা শুনে লোকটি হতবাক হয়ে গেল। সে কোনো উত্তর খুঁজে পেল না。
টিকাঃ
৯৪৪ হায়াতুন সাহাবা, ২য় খণ্ড, ৬২৪ পৃ.। ফয়দা — ৯৭