📄 আহলে কিতাবের কাছে উসমান রা.
আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব রা.-এর সাথে এক পত্নীর দেখা হলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সম্পর্কে কী তোমরা তোমাদেরকে কিভাবে কিছু পেয়েছ? সে বলল, আমরা তোমাদের বৈশিষ্ট্য পেয়েছি তবে নাম পাইনি। তিনি বললেন, তোমরা কী পেয়েছ? সে বলল, করমুন বিন হামীদ। সে বলল, কঠিন আমীর। তখন তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, আল্লাহু আকবার। আমার পরে কে? সে বলল, এক সৎ ব্যক্তি, যিনি নিকটাত্মীয়দের প্রাধান্য দিবেন। তখন ওমর রা. বললেন, আল্লাহ্ উসমানকে রহম করুন, তিনি এ কথা তিনবার বললেন。
টিকাঃ
৩১৫ আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং ৪৬২৩।
৯৩৬ আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং ৪৬৪৬।
📄 হাদিস বর্ণনায় সতর্কতা
উসমান রা. বলতেন, আমি রাসুল ﷺ-এর হাদিস বর্ণনা না করার কারণ এই নয় যে, আমি রাসুল ﷺ-এর সাহাবীদের মধ্যে হাদিস বেশি সংরক্ষণ করিনি; বরং এর কারণ হচ্ছে, আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি, আমি রাসুল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে কোনো খারাপ ব্যাপারে এমন কথা বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন নিজ ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়。
টিকাঃ
৩১৬ হায়াতুন সাহাবা।
৯৩৭ বুস্তানুল সাহাবা।
📄 পরামর্শ ও মতামত চাওয়ার সু অভ্যাস
তৃতীয় খলিফা আমীরুল মুমিনীন উসমান রা. যে মাসআলায় সন্দেহ হতো বা যে কোনো সমস্যায় পড়তেন, সে ব্যাপারে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত পৌঁছতে না পারতেন, তখন তিনি সে সম্পর্কে অন্য সাহাবীদের কাছে জিজ্ঞেস করতেন এবং ৫৬৬ অন্য জ্ঞানী লোকদেরকে নির্দেশ দিতেন। একবার হজ্বের সফরে এক ব্যক্তি পাখির গোশত হাদিয়াস্বরূপ পেশ করল, যা শিকার করা হয়েছিল। যখন তিনি খাবার জন্য বললেন, তখন তাঁর মনে সন্দেহ হলো যে, ইহরাম অবস্থায় শিকার করা গোশত আহার করা জায়েজ কিনা? সে সফরে আলী রা. ও তাঁর সঙ্গর সঙ্গী ছিলেন। তখন তিনি আলী রা.-এর কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। আলী রা. তা নাজায়েজ বললেন। উসমান রা. তখন সে গোশত খাওয়া থেকে বিরত রইলেন。
টিকাঃ
৩১৮ মুসান্নাফাকে ইববে হাজল।
৯৩৮ মুসতাদরাকে ইবনে হাবল।
📄 ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গিতে ফতওয়া প্রদান
একবার ওমর رضي الله عنه মদিনা থেকে মক্কায় আগমন করলেন। তখন কা'বা গৃহে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি তাঁর জানো সরু গিয়ার দিয়েছেন। ঘটনাক্রমে একটি কবুতর এসে চাদরের উপর বসল। কবুতর চাদরের উপর মল ত্যাগ করবে এ ভয়ে তিনি কবুতরকে তাড়িয়ে দিলেন। কবুতর উড়ে গিয়ে অন্যস্থানে বসল। সেখানে একটি বিড়াল সাপ বসা ছিল। সেটি কবুতরকে দংশন করল। সাপের বিষে কবুতরটি মারা গেল। এ ব্যাপারে উসমান رضي الله عنه -কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কাফফারা দেওয়ার ফতোয়া দিলেন। কেননা, ওমর رضي الله عنه ই কবুতরটিকে উঁড়িয়ে দিয়ে সুরক্ষিতস্থান থেকে অরক্ষিত স্থানে নিস্ক্ষেপ করেছিলেন。
টিকাঃ
৯৩৯ মুসনাদে শাফেয়ী।