📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. গাছ রোপণ করছেন

📄 উসমান রা. গাছ রোপণ করছেন


এক লোক আমীরুল মুমিনীন উসমান রা.-এর কাছে এসে দেখল তিনি গাছ রোপণ করছেন। লোকটি অবাক হয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি এ সময়ে গাছ রোপণ করছেন?

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 পরবর্তীদের প্রতি অনুগ্রহের একটি উদাহরণ

📄 পরবর্তীদের প্রতি অনুগ্রহের একটি উদাহরণ


হযরত আবু নায়েমা শুতার জন্য রাসুল ﷺ মিখরে যে সিঁড়িতে দাঁড়াতেন, তাঁর ইন্তিকালের পর আবু বকর রা. তাঁর সম্মানে সে সিঁড়িতে না দাঁড়িয়ে পরের সিঁড়িতে দাঁড়াতেন। আবু বকর রা.-এর ইন্তিকালের পর ওমর রা. তাঁর সম্মানেও সে সিঁড়িতে না দাঁড়িয়ে নিজের সিঁড়িতে দাঁড়ালেন। অর্থাৎ মিখরের তিনটি সিঁড়ি ছিল। রাসুল ﷺ তৃতীয় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। তাঁর ইন্তিকালের পর আবু বকর রা. দ্বিতীয় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। আবু বকর রা.-এর ইন্তিকালের পর ওমর রা. প্রথম সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। উসমান রা. ভাবলেন যদি একের পর এক খলিফাগণ সিঁড়ির এক ধাপ এক ধাপ করে নিচে নেমে খুতবা দিত হয় তাহলে এর কী হবে? কারণ খলিফা তো একজনের পর একজন হবেন? তাই রাসুল ﷺ যে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন তিনি সে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। তিনি যদি এ সিদ্ধান্ত না নিতেন তাহলে পরবর্তী খলিফাদের জন্য এ বিষয়টি কঠিন হয়ে যেত। তাছাড়াও এর দ্বারা রাসুল ﷺ-এর সুন্নতের ওপর আমল হয়ে গেল。

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 জাদুটোনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ

📄 জাদুটোনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ


হযরত তালহা রা. বর্ণনা করেন, ইবনে যিলহারা নামক যাদুটোনার কাজ করত। যখন উসমান তাঁর সে কাজ সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন তিনি ওয়ালীদ বিন উকাবাকে পত্র লিখে নির্দেশ দিলেন, "যাদুগার ব্যাপারে ইবনে যিলহারাকে জিজ্ঞেস করবে, যদি সে স্বীকার করে, তাহলে তাকে কঠিন শাস্তি দিবে।" খলিফার নির্দেশ আসার পর ওয়ালীদ বিন উকাবা সে লোকটিকে ডেকে পাঠালেন। লোকটি তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তিনি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, সে তা স্বীকার করে বসে, হ্যাঁ, এটি এক আশ্চর্য ধরনের ভোজবাজির কাজ। তখন ওয়ালীদ বিন উকাবা তাকে কঠোর শাস্তি দিলেন আর জনগণকে তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের সম্মুখে উসমান রা.-এর পত্র পাঠ করে শুনালেন। ব্যাপারটি বড় সঙ্গিন, চরম জঘন্য অপরাধ, সুতরাং তোমরাও তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গ্রহণ কর। আর হাসি তামাশা ও চিত্তবিনোদন থেকে বেঁচে থাক।
লোকেরা এ কথায় খুব আশ্চর্যান্বিত হলো যে, উসমান রা.-এর কাছে ইবনে যিলহারার যাদুকর কথা কীভাৰে পৌঁছল。

টিকাঃ
৩০৬ তারীখে বুখারী, ২য় খণ্ড, ৪১০।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বৃহৎ স্বার্থের নিমিত্তে হাদিস গোপন

📄 বৃহৎ স্বার্থের নিমিত্তে হাদিস গোপন


হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওয়াওয়াব (রহ.) বলেন, উসমান রা. আব্দুল্লাহ বিন ওমর রা.-কে বললেন, তুমি লোকদের বিচারক হয়ে লোকদের মোকদ্দমার ফায়সালা কর। ইবনে ওমর রা. বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি আমাকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিন। তিনি বললেন, না, আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি, তুমি লোকদের বিচারের কাজ কর। ইবনে ওমর রা. বললেন, আপনি তাড়াহুড়া করবেন না। আপনি কী রাসুল ﷺ থেকে এ কথা শুনতে শুনেননি, যে ব্যক্তি আল্লাহ্র আশ্রয় চেয়ে চলে এল, সে অনেক দূরও চলে এল। তিনি বললেন, হ্যাঁ। ইবনে ওমর রা. বললেন, আমি বিচারক হওয়া থেকে আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাই। তিনি বললেন, তুমি কেন বিচারক হবে না? অথচ তোমার বাবা বিচারক ছিলেন। ইবনে ওমর রা. বললেন, আমি নবী ﷺ-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি বিচারক হলো আর না জানার কারণে ভুল ফয়সালা করল, সে জাহান্নামী। আর যে বিচারক আলেম, সত্য ও ন্যায়-নিষ্ঠার ওপর প্রতিষ্ঠিত, এতকিছুর পরেও সেও চাইবে সে যেন আল্লাহ্র কাছে পরিত্রাণ পেয়ে যায়। অর্থাৎ পুরস্কার না পেলেও যেন শাস্তিপ্রাপ্ত না হয়। এ হাদিস শুনার পর কী আমি বিচারক হতে পারি। এ কথা শুনার পর উসমান রা. তাঁর ওপর প্রবল করলেন এবং তাঁকে বললেন, তোমাকে তো ক্ষমা করলাম, কিন্তু তুমি এ কথা কাউকে বলবে না। (কেননা তাহলে কেউই বিচারক হতে রাজি হবে না এবং মুসলমানদের বিচারকার্য পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে যাবে)。

টিকাঃ
৩০৭ হায়াতুন সাহাবা, ২য় খণ্ড, ৬৬৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00