📄 উসমান রা.-এর বিনয়
উসমান রা. মক্কা থেকে মদিনায় দিকে আসার পথে মুআররাস নামক স্থানে অবতরণ করলেন। মুআররাস মদিনা থেকে প্রায় ৮৬৪মিটার দূরে। তিনি সেখানে অবতরণ করলেন কেননা নবী ﷺ সেখানে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। তারপর মদিনার দিকে রওনা দিয়েছিলেন। এরপর যখন উসমান রা. মদিনায় প্রবেশ করতে চাইলেন, তিনি নিজের বাহনের পেছনে একটি দাসকে আরোহণ করালেন। যাতে করে তিনি অন্যান্য রাজা বাদশাহদের মতো না হয়ে যান। উসমান রা. মানুষকে রাজকীয় খাবার গোস্ত, মধু আরো অনেক দামী খাবার খাওয়াতেন, কিন্তু এরপর তিনি নিজের বাসায় এসে সাধারণ সিরকা আর জাইতুন খেতেন।
📄 উসমান রা. গাছ রোপণ করছেন
এক লোক আমীরুল মুমিনীন উসমান রা.-এর কাছে এসে দেখল তিনি গাছ রোপণ করছেন। লোকটি অবাক হয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি এ সময়ে গাছ রোপণ করছেন?
📄 পরবর্তীদের প্রতি অনুগ্রহের একটি উদাহরণ
হযরত আবু নায়েমা শুতার জন্য রাসুল ﷺ মিখরে যে সিঁড়িতে দাঁড়াতেন, তাঁর ইন্তিকালের পর আবু বকর রা. তাঁর সম্মানে সে সিঁড়িতে না দাঁড়িয়ে পরের সিঁড়িতে দাঁড়াতেন। আবু বকর রা.-এর ইন্তিকালের পর ওমর রা. তাঁর সম্মানেও সে সিঁড়িতে না দাঁড়িয়ে নিজের সিঁড়িতে দাঁড়ালেন। অর্থাৎ মিখরের তিনটি সিঁড়ি ছিল। রাসুল ﷺ তৃতীয় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। তাঁর ইন্তিকালের পর আবু বকর রা. দ্বিতীয় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। আবু বকর রা.-এর ইন্তিকালের পর ওমর রা. প্রথম সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। উসমান রা. ভাবলেন যদি একের পর এক খলিফাগণ সিঁড়ির এক ধাপ এক ধাপ করে নিচে নেমে খুতবা দিত হয় তাহলে এর কী হবে? কারণ খলিফা তো একজনের পর একজন হবেন? তাই রাসুল ﷺ যে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন তিনি সে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। তিনি যদি এ সিদ্ধান্ত না নিতেন তাহলে পরবর্তী খলিফাদের জন্য এ বিষয়টি কঠিন হয়ে যেত। তাছাড়াও এর দ্বারা রাসুল ﷺ-এর সুন্নতের ওপর আমল হয়ে গেল。
📄 জাদুটোনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ
হযরত তালহা রা. বর্ণনা করেন, ইবনে যিলহারা নামক যাদুটোনার কাজ করত। যখন উসমান তাঁর সে কাজ সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন তিনি ওয়ালীদ বিন উকাবাকে পত্র লিখে নির্দেশ দিলেন, "যাদুগার ব্যাপারে ইবনে যিলহারাকে জিজ্ঞেস করবে, যদি সে স্বীকার করে, তাহলে তাকে কঠিন শাস্তি দিবে।" খলিফার নির্দেশ আসার পর ওয়ালীদ বিন উকাবা সে লোকটিকে ডেকে পাঠালেন। লোকটি তাঁর কাছে উপস্থিত হলে তিনি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, সে তা স্বীকার করে বসে, হ্যাঁ, এটি এক আশ্চর্য ধরনের ভোজবাজির কাজ। তখন ওয়ালীদ বিন উকাবা তাকে কঠোর শাস্তি দিলেন আর জনগণকে তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের সম্মুখে উসমান রা.-এর পত্র পাঠ করে শুনালেন। ব্যাপারটি বড় সঙ্গিন, চরম জঘন্য অপরাধ, সুতরাং তোমরাও তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গ্রহণ কর। আর হাসি তামাশা ও চিত্তবিনোদন থেকে বেঁচে থাক।
লোকেরা এ কথায় খুব আশ্চর্যান্বিত হলো যে, উসমান রা.-এর কাছে ইবনে যিলহারার যাদুকর কথা কীভাৰে পৌঁছল。
টিকাঃ
৩০৬ তারীখে বুখারী, ২য় খণ্ড, ৪১০।