📄 বিয়ের অনুষ্ঠান
আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগল। সকলের মন খুশিতে নাচছিল। কেননা আজ মুগীরা বিন ও'ছার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল।
ছেলেটির মনে আনন্দের জোর বইতে লাগল। ছেলেটি একে এক সবাইকে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে লাগল। দাওয়াত দিতে যেতে যেতে এবার সে আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা)-এর উদ্দেশ্যে রওনা দিল। সে তাঁর সাথে দেখা করে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার দাওয়াত দিল।
খলিফা উসমান (রা) সে ছেলের বিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন। তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, আমি রোযা রেখেছি, তবুও আমি পছন্দ করেছি তাঁর দাওয়াত ও সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হব এবং তাঁর জন্যে বরকতের দোয়া করব。
টিকাঃ
১৯৬ আবু নুয়ম, দিলন ইয়াম আহলে, ১০৯।
📄 পরামর্শ সভার প্রতি আগ্রহ
একদিন আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা) পূর্ব মনোযোগের সাথে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন। তাঁর পবিত্র জবান আল্লাহর তায়ামী ও তাসবীহ জপছিল। এমন সময় দুই লোক তাঁর কাছে ছুটে আসল। যারা একটি মাসআলা নিয়ে বিবাদ করছিল।
তখন তিনি তাদের একজনকে বললেন, তুমি আলীকে ডেকে নিয়ে আস। আনজুমানকে বললেন, তুমি ত্বালহা বিন উবায়দুল্লাহ, আলি ও আব্দুর রহমান বিন আওফকে ডেকে নিয়ে আস।
তারা সকলে আসার পরে তিনি ওই দুই লোককে বললেন, তোমরা বল।
তারা তাদের মাসআলা পেশ করার পর উসমান (রা) রাসুল (সা)-এর ও সকল সাহাবীদেরকে বললেন, তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও।
এভাবে প্রতিটি কাজ, যদি অন্যদের অভিমতও তাঁর অভিমতের সাথে মিলে যেত তিনি তা বাস্তবায়ন করতেন আর যদি না মিলত তিনি তা ভালোভাবে দেখতেন。
টিকাঃ
১৯৭ আজ্জামুল সাহাবা, ২য় খণ্ড, ১১০।
📄 প্রতিদিন মাসহাফ দেখতেন
উসমান (রা) কুরআন পড়ে পরিতৃপ্ত হতেন। তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন আর বলতেন, যদি আমাদের অন্তর পবিত্র হতে তাহলে আমরা আমাদের রবের বাণী পাঠ করে কখনো অতৃপ্ত হতাম না। আমি অপছন্দ করি যে, আমার কাছে এমন একটি দিন আসবে যে দিন আমি মাসহাফ দেখব না। অর্থাৎ তেলাওয়াত করব না। এ কারণে দেখা গেছে, তিনি কোরআন তেলাওয়াত করা অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেছেন。
টিকাঃ
১৯৮ আল বিদায়া ওয়াআস দিরায়, ৭ম খণ্ড, ২২২।
📄 নবজাতকের উপহার
এক মহিলা উসমান (রা)-এর দরবারে আসা-যাওয়া করত। একদিন তিনি সে মহিলাকে আসতে দেখলেন না।
তখন তিনি তাঁর পরিবারকে জিজ্ঞেস করলেন, অমুক মহিলার কী হলো, আমি যে তাকে দেখতে পাচ্ছিনা?
তাঁর স্ত্রী বললেন, সে মহিলা গত রাতে একটি ছেলে প্রসব করেছে।
এ সংবাদ শুনে তিনি ওই মহিলার কাছে পঞ্চাশ হাজার দিরহাম ও কাপড়-চোপড় পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, এগুলো তোমার ছেলের জন্য উপহার আর এগুলো তার পোশাক।
বর্ণনাকারী বলেন, আবু ইসহাক (রহ) আমার দাদা উসমান (রা)-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমার দাদা তাঁকে বলেন, শায়েখ, আপনার সাথে আপনার পরিবারের কতজন থাকে?
তিনি বললেন, এত এত জন থাকে।
তখন আমার দাদা আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা) বললেন, আমরা আপনার জন্য পনেরো হাজার দিরহাম ধার্য করলাম আর আপনার পরিজনের জন্য এক লক্ষ দিরহাম ধার্য করলাম。
টিকাঃ
১৯৯ আজ্জামুল সাহাবা, ২য় খণ্ড, ১২৩।