📄 কিয়ামতের দিন উসমান রা.-এর শাফায়াত
নবী করীম (সা) তাঁর সাহাবীদের মাঝে বসেছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম মনোযোগসহকারে তাঁর মিষ্টি মধুর কথাগুলো শুনছিলেন।
নবী করীম (সা) তখন খুব গুরুত্বের সাথে আল্লাহর কাছে এও লোকের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন।
তিনি বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! আমার উম্মতের মধ্যে এমন একজন লোক আছে যার সুপারিশে আমার উম্মতের এত সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে যে, তাদের সংখ্যা রবীআ' ও মুদার গোত্রের লোক থেকেও বেশি হবে।
হযরত হাসান (রা) নবী (সা) থেকে মারা এ হাদীস শুনেছেন তারা ঐ লোক সম্পর্কে বলেছেন যে, ওই লোক হচ্ছেন উসমান বিন আফফান (রা) অথবা উওয়াইস করনী (রহ)。
টিকাঃ
১৯৫ আবু নুয়ম, দিলন ইয়াম আহলে, ১৩১।
📄 বিয়ের অনুষ্ঠান
আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগল। সকলের মন খুশিতে নাচছিল। কেননা আজ মুগীরা বিন ও'ছার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল।
ছেলেটির মনে আনন্দের জোর বইতে লাগল। ছেলেটি একে এক সবাইকে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে লাগল। দাওয়াত দিতে যেতে যেতে এবার সে আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা)-এর উদ্দেশ্যে রওনা দিল। সে তাঁর সাথে দেখা করে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার দাওয়াত দিল।
খলিফা উসমান (রা) সে ছেলের বিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন। তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, আমি রোযা রেখেছি, তবুও আমি পছন্দ করেছি তাঁর দাওয়াত ও সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হব এবং তাঁর জন্যে বরকতের দোয়া করব。
টিকাঃ
১৯৬ আবু নুয়ম, দিলন ইয়াম আহলে, ১০৯।
📄 পরামর্শ সভার প্রতি আগ্রহ
একদিন আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা) পূর্ব মনোযোগের সাথে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন। তাঁর পবিত্র জবান আল্লাহর তায়ামী ও তাসবীহ জপছিল। এমন সময় দুই লোক তাঁর কাছে ছুটে আসল। যারা একটি মাসআলা নিয়ে বিবাদ করছিল।
তখন তিনি তাদের একজনকে বললেন, তুমি আলীকে ডেকে নিয়ে আস। আনজুমানকে বললেন, তুমি ত্বালহা বিন উবায়দুল্লাহ, আলি ও আব্দুর রহমান বিন আওফকে ডেকে নিয়ে আস।
তারা সকলে আসার পরে তিনি ওই দুই লোককে বললেন, তোমরা বল।
তারা তাদের মাসআলা পেশ করার পর উসমান (রা) রাসুল (সা)-এর ও সকল সাহাবীদেরকে বললেন, তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও।
এভাবে প্রতিটি কাজ, যদি অন্যদের অভিমতও তাঁর অভিমতের সাথে মিলে যেত তিনি তা বাস্তবায়ন করতেন আর যদি না মিলত তিনি তা ভালোভাবে দেখতেন。
টিকাঃ
১৯৭ আজ্জামুল সাহাবা, ২য় খণ্ড, ১১০।
📄 প্রতিদিন মাসহাফ দেখতেন
উসমান (রা) কুরআন পড়ে পরিতৃপ্ত হতেন। তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন আর বলতেন, যদি আমাদের অন্তর পবিত্র হতে তাহলে আমরা আমাদের রবের বাণী পাঠ করে কখনো অতৃপ্ত হতাম না। আমি অপছন্দ করি যে, আমার কাছে এমন একটি দিন আসবে যে দিন আমি মাসহাফ দেখব না। অর্থাৎ তেলাওয়াত করব না। এ কারণে দেখা গেছে, তিনি কোরআন তেলাওয়াত করা অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেছেন。
টিকাঃ
১৯৮ আল বিদায়া ওয়াআস দিরায়, ৭ম খণ্ড, ২২২।