📄 উসমান রা.-এর ব্যাপারে ইবনে ওমর রা.-এর বক্তব্য
বীরবিক্রমের মতো ইবনে ওমর (রা) পূর্ণ তরবারি হাতে দ্রুত ছুটে এলেন। তাঁর অন্তর ইসমামের আলোতে ভরপুর। তিনি আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা)-এর শত্রুদেরকে প্রতিরোধ করতে যাচ্ছেন।
তিনি দ্রুত ছুটে এসে মানুষের কাতার ভেঙে সিংহের মতো বীরবিক্রমে উসমান (রা)-এর সামনে এসে হাজির হলেন।
তাঁর সামনে হাজির হয়ে তিনি বললেন, আমি রাসুল (সা)-এর সংস্পর্শে ছিলাম, তাঁর সংস্পর্শে থাকার কারণে তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাতের সতাতা জানতে পেরেছি। আমি আবু বকর (রা)-এর সংস্পর্শে ছিলাম, আমি তাঁর নেতৃত্বের ন্যায়পরায়ণতা জানতে পেরেছি। আমি ওমর (রা)-এর সংস্পর্শে ছিলাম, আমি তাঁর পিতৃত্ব ও নেতৃত্বের ন্যায়পরায়ণতা জানতে পেরেছি। আর আপনার ব্যাপারেও তেমন জানতে পেরেছি।
তখন উসমান (রা) তাঁকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে আহলে বাইতের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার আদেশ আসা পর্যন্ত তুমি তোমার ঘরে অবস্থান কর。
টিকাঃ
১৯৩ মুসনাদু আহাদিস সাহাবা, ২য় খণ্ড, ২৭১ পৃ.
📄 বাঁদীর সাথেও পর্দায় যত্নবান
বুনান নামে উসমান (রা)-এর একটি দাসী ছিল।
সে বর্ণনা করে বলে, উসমান (রা) গোসল করার পর যখন আমি কাপড় নিয়ে উপস্থিত হলাম তিনি আমাকে বলতেন, তুমি আমার শরীরের দিকে তাকাবে না, এটা তোমার জন্য জায়েয নয়。
টিকাঃ
১৯৪ হযরত উসমান মুনতাজেম।
📄 কিয়ামতের দিন উসমান রা.-এর শাফায়াত
নবী করীম (সা) তাঁর সাহাবীদের মাঝে বসেছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম মনোযোগসহকারে তাঁর মিষ্টি মধুর কথাগুলো শুনছিলেন।
নবী করীম (সা) তখন খুব গুরুত্বের সাথে আল্লাহর কাছে এও লোকের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন।
তিনি বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! আমার উম্মতের মধ্যে এমন একজন লোক আছে যার সুপারিশে আমার উম্মতের এত সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে যে, তাদের সংখ্যা রবীআ' ও মুদার গোত্রের লোক থেকেও বেশি হবে।
হযরত হাসান (রা) নবী (সা) থেকে মারা এ হাদীস শুনেছেন তারা ঐ লোক সম্পর্কে বলেছেন যে, ওই লোক হচ্ছেন উসমান বিন আফফান (রা) অথবা উওয়াইস করনী (রহ)。
টিকাঃ
১৯৫ আবু নুয়ম, দিলন ইয়াম আহলে, ১৩১।
📄 বিয়ের অনুষ্ঠান
আনন্দের বন্যা বয়ে যেতে লাগল। সকলের মন খুশিতে নাচছিল। কেননা আজ মুগীরা বিন ও'ছার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল।
ছেলেটির মনে আনন্দের জোর বইতে লাগল। ছেলেটি একে এক সবাইকে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে লাগল। দাওয়াত দিতে যেতে যেতে এবার সে আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা)-এর উদ্দেশ্যে রওনা দিল। সে তাঁর সাথে দেখা করে তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার দাওয়াত দিল।
খলিফা উসমান (রা) সে ছেলের বিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন। তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, আমি রোযা রেখেছি, তবুও আমি পছন্দ করেছি তাঁর দাওয়াত ও সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হব এবং তাঁর জন্যে বরকতের দোয়া করব。
টিকাঃ
১৯৬ আবু নুয়ম, দিলন ইয়াম আহলে, ১০৯।