📄 অভিযুক্ত মহিলা
উসমান (রা)-এর কাছে এক মহিলাকে আনা হয়েছে যে ছয় মাসে বাচ্চা প্রসব করেছে। তখন তিনি নিজের গবেষণায় ভুল হবে এ ভয়ে কিছু রায় দেননি।
তিনি বিচারে তাড়াহুড়া না করে মিশরে উঠে বিষয়টি সাহাবীদের কাছে পেশ করলেন। হতে পারে এতে ইলমের নতুন কোনো নুর বের হবে।
তখন ইবনে আব্বাস (রা) বললেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
وَوَصَيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا وَحَمْلُهُ وَفِصَالُهُ ثَلَاثُونَ شَهْرًا
‘আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্ট করে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার দুধপান করানোরত ত্রিশ মাস লেগেছে।’ (সূরা আহকাফ : ১৫)
আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,
وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ
‘আর সন্তানবতী নারী তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে, যদি তারা দুধ পান করানোর পূর্ব মেয়াদ সমাপ্ত করতে চায়।’ (সূরা বাকারা : ২৩০)
আয়াতে বলা হয়েছে মায়ের কষ্ট সর্বমোট ত্রিশ মাস। তাহলে যদি কোনো মা দুধপান পূর্ণ করে অর্থাৎ দুই বছর দুধ পান করান তাহলে গর্ভধারণের সময় বাকি থাকে ছয় মাস।
ইবনে আব্বাসের এ সিদ্ধান্তে উসমান (রা) সে মহিলাকে ছেড়ে দিয়ে দিলেন。
টিকাঃ
১৯২ তারীখুল মদীনা, ৩২ খণ্ড, ৮৫৭ পৃ.
📄 উসমান রা.-এর ব্যাপারে ইবনে ওমর রা.-এর বক্তব্য
বীরবিক্রমের মতো ইবনে ওমর (রা) পূর্ণ তরবারি হাতে দ্রুত ছুটে এলেন। তাঁর অন্তর ইসমামের আলোতে ভরপুর। তিনি আমীরুল মুমিনীন উসমান (রা)-এর শত্রুদেরকে প্রতিরোধ করতে যাচ্ছেন।
তিনি দ্রুত ছুটে এসে মানুষের কাতার ভেঙে সিংহের মতো বীরবিক্রমে উসমান (রা)-এর সামনে এসে হাজির হলেন।
তাঁর সামনে হাজির হয়ে তিনি বললেন, আমি রাসুল (সা)-এর সংস্পর্শে ছিলাম, তাঁর সংস্পর্শে থাকার কারণে তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাতের সতাতা জানতে পেরেছি। আমি আবু বকর (রা)-এর সংস্পর্শে ছিলাম, আমি তাঁর নেতৃত্বের ন্যায়পরায়ণতা জানতে পেরেছি। আমি ওমর (রা)-এর সংস্পর্শে ছিলাম, আমি তাঁর পিতৃত্ব ও নেতৃত্বের ন্যায়পরায়ণতা জানতে পেরেছি। আর আপনার ব্যাপারেও তেমন জানতে পেরেছি।
তখন উসমান (রা) তাঁকে বললেন, আল্লাহ তোমাকে আহলে বাইতের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার আদেশ আসা পর্যন্ত তুমি তোমার ঘরে অবস্থান কর。
টিকাঃ
১৯৩ মুসনাদু আহাদিস সাহাবা, ২য় খণ্ড, ২৭১ পৃ.
📄 বাঁদীর সাথেও পর্দায় যত্নবান
বুনান নামে উসমান (রা)-এর একটি দাসী ছিল।
সে বর্ণনা করে বলে, উসমান (রা) গোসল করার পর যখন আমি কাপড় নিয়ে উপস্থিত হলাম তিনি আমাকে বলতেন, তুমি আমার শরীরের দিকে তাকাবে না, এটা তোমার জন্য জায়েয নয়。
টিকাঃ
১৯৪ হযরত উসমান মুনতাজেম।
📄 কিয়ামতের দিন উসমান রা.-এর শাফায়াত
নবী করীম (সা) তাঁর সাহাবীদের মাঝে বসেছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম মনোযোগসহকারে তাঁর মিষ্টি মধুর কথাগুলো শুনছিলেন।
নবী করীম (সা) তখন খুব গুরুত্বের সাথে আল্লাহর কাছে এও লোকের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন।
তিনি বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! আমার উম্মতের মধ্যে এমন একজন লোক আছে যার সুপারিশে আমার উম্মতের এত সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে যে, তাদের সংখ্যা রবীআ' ও মুদার গোত্রের লোক থেকেও বেশি হবে।
হযরত হাসান (রা) নবী (সা) থেকে মারা এ হাদীস শুনেছেন তারা ঐ লোক সম্পর্কে বলেছেন যে, ওই লোক হচ্ছেন উসমান বিন আফফান (রা) অথবা উওয়াইস করনী (রহ)。
টিকাঃ
১৯৫ আবু নুয়ম, দিলন ইয়াম আহলে, ১৩১।