📄 এক লোক উসমান রা. সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন
একপলকে দেখে মনে হচ্ছে তারা অনেক তাকওয়াওয়ালা ও আল্লাহওয়ালা। তখন এঁরা মায়া মায়া উঁচু করে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল, উনারা কারা? লোকেরা বলল, উনারা কোরাইশী দল। তারপর সে চোখ তুলে দেখল সে দলে একজন লোক আছে চেহারা ও বৈশিষ্ট্য নবীদের মতো। যিনি তাবাহীহ ও জিকিরে মশগুল হয়ে আছেন। তখন সে বলল, এ শায়েখ কে? তারা বলল, আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه। এ কথা শুনার সাথে সাথে লোকটি এগিয়ে আসল মনে হচ্ছিল সে তার হারানো কোনো জিনিস খুঁজে পেয়েছে। সে এসে বলল, ইবনে ওমর, আমি আপনাকে কি কিছু জিজ্ঞেস করব আপনি তা বর্ণনা করুন। লোকটি তাঁর নিরপেক্ষতার মতো প্রশ্ন শুরু করল। সে বলল, আপনি কী জানেন উসমান رضي الله عنه উহুদের যুদ্ধ ময়দান থেকে পালিয়ে গেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বলল, আপনি কী জানেন তিনি বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বলল, আপনি কী জানেন তিনি বাইয়াতুয়ে রিদওয়ানে উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
তার কথাগুলোর সতাতা পেয়ে লোকটি খুশি হয়ে চিৎকার দিয়ে বলে উঠল, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।
তখন ইবনে ওমর (রা) লোকটির দিকে এমন তাকালেন যে, তার কপালে ভাঁজ উঠল।
এরপর তিনি বললেন, এই লোকের মাথা থেকে জ্ঞান বুদ্ধি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এদিকে আস, আমি তোমাকে ব্যাপারটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে শুনাচ্ছি।
উসমান (রা) উছুদের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া, এ ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ তা'আলা তাঁর সে অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আর বদরের যুদ্ধে তিনি উপস্থিত ছিলেন না, তা তো তাঁর স্ত্রী, যিনি রাসুল (সা)-এর মেয়ে তাঁর অসুস্থতার কারণে। আর তাহাড়াও রাসুল (সা) তো তাঁকে বলেছেন, 'বদরে উপস্থিত থেকে যুদ্ধ করা লোকের সমান প্রতিদান ও গণীমতের অংশ তোমার জন্য রয়েছে।'
আর বাইয়াত্বে রিদওয়ান তাঁর অনুপস্থিতি, যদি সেদিন উসমান (রা) থেকে উত্তম কেউ থাকত তবে রাসুল (সা) তাঁকে মক্কায় পাঠাতেন। রাসুল (সা) উসমান (রা)-কে মক্কায় প্রেরণ করেছেন। আর বাইয়াত্বুর রিদওয়ান তো তিনি মক্কা যাওয়ার পরে হয়েছে। তাছাড়া 'এ হাত উসমানের' এ কথা বলে রাসুল (সা) উসমানের হাতের পরিবর্তে নিজের বাম হাত তাঁর ডান হাতের উপর রাখলেন。
টিকাঃ
১৮৮ ইয়াম বুখারী হাদীসিটি এনেছেন, ৫২ খণ্ড, ২৪, ৬৮৩।
📄 উসমান রা.-এর লাজুকতা
হযরত হাসান (রা) মানুষকে উসমান (রা)-কে নিয়ে কথা শুনাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর শিষ্টাচারিতা ও লাজুকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বললেন, যদি ঘরের দরজা বন্ধও থাকত তবুও গোসলের সময় বস্ত্র ব্যতীত গায়ে পানি ঢালার জন্যে তিনি তাঁর কাপড় খুলতেন না। লাজুকতাই তাঁকে কাপড়বিহীনভাবে দাঁড়াতে বাধা দিত。
টিকাঃ
১৮৯ আবু নুয়ম, দিলন ইয়াম আহলে, ১১৯।
📄 কোরাইশদের মধ্যে তিনজন
আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা) একদল শিক্ষার্থীর কাছে বসে মর্যাদাবান সাহাবীদের ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন এবং তাঁদের প্রশংসনীয় চারিত্রিক দিকগুলো বর্ণনা করছিলেন।
বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বললেন, কোরাইশদের তিনজন ব্যক্তি এমন যারা চেহারাগতভাবে ও চারিত্রিকভাবে সবার থেকে সুন্দর এবং সবার থেকে অধিক লজ্জাশীল। যদি তারা তোমাকে কোনো কথা বলেন তবে মিথ্যা বলবেন না। আর যদি তুমি তাঁদের কোনো কথা বলো তবে তোমাকে মিথ্যাবাদী বলবেন না। তাঁরা হচ্ছেন, আবু বকর সিদ্দিক (রা), উসমান বিন আফফান (রা) ও আবু উবায়দা বিন আল জাররাহ (রা)。
টিকাঃ
১৯০ আল বিদায়া, ৫২ খণ্ড, ৮৩ পৃ.। আল ইসাবা, ১৯ খণ্ড, ২৬৩ পৃ.
📄 মীকাতের প্রতি লক্ষ্য রাখার তাগিদ
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রা) অসংখ্য বিষয়ের পথিকৃত ছিলেন। কৃতজ্ঞতাবশত তিনি উমরা করার নিয়তও করতেন। তিনি নিশাপুর (খোরাসান) থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কা মুকাররামায় দিকে রওনা দিলেন। যখন তিনি উসমান (রা)-এর কাছে এলেন তখন উসমান (রা) তাঁকে নিশাপুর থেকে ইহরাম বাঁধার কারণে তিরস্কার করে বললেন, কত ভালো হতো, যদি তুমি সেখান থেকে ইহরাম বাঁধতে, যেখান থেকে মুসলমানগণ ইহরাম বাঁধে。
টিকাঃ
১৯১ তারীখে তাবারী, ৩য় খণ্ড, ৩১৩।