📄 হে সম্পদশালীরা, তোমরা সব কল্যাণ নিয়ে নিলে
আমীরুল মুমিনীন উসমান رضي الله عنه তাঁর সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় একের পর এক ব্যয় করেছেন। তিনি প্রতিটি ভালো কাজে বাতাসের মতো ছুটে যেতেন। একদিন সদকা করতেন, অন্যদিন গোলাম আযাদ করতেন, অন্যদিন গরীব মিসকীনদের খেতে দিতেন। এরই মধ্যে একদিন একদল লোক তাঁর সাথে কথাবার্তা বলার জন্য ও তাঁর জ্ঞান ও কথা থেকে কিছু শিখার জন্য আসল। তাদের মধ্যে একজন বলল, হে সম্পদশালীরা, তোমরা সব কল্যাণ নিয়ে নিলে। তোমরা সদকা কর, গোলাম আযাদ কর, হজ্ব কর, দান কর। উসমান رضي الله عنه বললেন, তোমরা কী আমাদের নিয়ে ঈর্ষা কর? সে বলল, হ্যাঁ, আমরা তোমাদের নিয়ে ঈর্ষা করি। তখন উসমান رضي الله عنه খুব সাধারণভাবে বললেন, কষ্ট করে উপার্জিত এক দিরহাম দান করা, হাজারবার ঈর্ষা করা থেকেও উত্তম। আমীরুল মুমিনীন উসমান رضي الله عنه-এর এমন কথার তীব্র অন্তরও প্রশান্ত হয়ে গেল। সে তাঁর কথা মনে গেঁথে নিল। তারপর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে সে ও তাঁর সাথে লোকেরা চলে গেল。
টিকাঃ
১৭৯ মুসনাদু আহাদিস সাহাবা, ২/৭৭, ৫৪৮ পৃ.
📄 লাঠি ভাঙা লোক
সম্মানিত ও সৎকর্মশীলদের মতো উসমান رضي الله عنه মিশরের ডানে জান হাতে লাঠি নিয়ে যুদ্ধবা দিতে লাগলেন। যে লাঠিকে নবী করীম صلى الله عليه وسلم ভয় দিয়েছিলেন। উসমান رضي الله عنه তাঁর মিষ্টি মিষ্টি কথায় মানুষকে দ্বীন বুঝাচ্ছিলেন, তাদের অন্তরকে পবিত্র করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ করে জাহজাহ গিফারী নামের এক লোক দ্রুত উঠে উসমান رضي الله عنه-এর লাঠি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করল। উপস্থিত লোকজন চিৎকার করে বলতে লাগল, ভেঙ্গো না, ভেঙ্গো না। কিন্তু সে তাদের কথা শুনেনি সে তা ভেঙে ফেলল। এমন ব্যবহারের উসমান رضي الله عنه মিশর থেকে নেমে চলে গেলেন। কিছুদিন পরেই আল্লাহ তা'আলা লোকটির শরীরে মারাত্মকব্যাধি দিলেন। সে রোগ তার সম্পূর্ণ শরীর নষ্ট করে ফেলল। এ ঘটনার পর এক বছর হওয়ার আগেই লোকটি মারা গেল。
টিকাঃ
১৮০ আল ইকাবা, ১/২৪৮, ৬২২ পৃ.
📄 এক লোক উসমান রা. সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন
একপলকে দেখে মনে হচ্ছে তারা অনেক তাকওয়াওয়ালা ও আল্লাহওয়ালা। তখন এঁরা মায়া মায়া উঁচু করে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল, উনারা কারা? লোকেরা বলল, উনারা কোরাইশী দল। তারপর সে চোখ তুলে দেখল সে দলে একজন লোক আছে চেহারা ও বৈশিষ্ট্য নবীদের মতো। যিনি তাবাহীহ ও জিকিরে মশগুল হয়ে আছেন। তখন সে বলল, এ শায়েখ কে? তারা বলল, আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه। এ কথা শুনার সাথে সাথে লোকটি এগিয়ে আসল মনে হচ্ছিল সে তার হারানো কোনো জিনিস খুঁজে পেয়েছে। সে এসে বলল, ইবনে ওমর, আমি আপনাকে কি কিছু জিজ্ঞেস করব আপনি তা বর্ণনা করুন। লোকটি তাঁর নিরপেক্ষতার মতো প্রশ্ন শুরু করল। সে বলল, আপনি কী জানেন উসমান رضي الله عنه উহুদের যুদ্ধ ময়দান থেকে পালিয়ে গেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বলল, আপনি কী জানেন তিনি বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। লোকটি বলল, আপনি কী জানেন তিনি বাইয়াতুয়ে রিদওয়ানে উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
তার কথাগুলোর সতাতা পেয়ে লোকটি খুশি হয়ে চিৎকার দিয়ে বলে উঠল, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।
তখন ইবনে ওমর (রা) লোকটির দিকে এমন তাকালেন যে, তার কপালে ভাঁজ উঠল।
এরপর তিনি বললেন, এই লোকের মাথা থেকে জ্ঞান বুদ্ধি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এদিকে আস, আমি তোমাকে ব্যাপারটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে শুনাচ্ছি।
উসমান (রা) উছুদের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া, এ ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ তা'আলা তাঁর সে অপরাধ ক্ষমা করে দিয়েছেন।
আর বদরের যুদ্ধে তিনি উপস্থিত ছিলেন না, তা তো তাঁর স্ত্রী, যিনি রাসুল (সা)-এর মেয়ে তাঁর অসুস্থতার কারণে। আর তাহাড়াও রাসুল (সা) তো তাঁকে বলেছেন, 'বদরে উপস্থিত থেকে যুদ্ধ করা লোকের সমান প্রতিদান ও গণীমতের অংশ তোমার জন্য রয়েছে।'
আর বাইয়াত্বে রিদওয়ান তাঁর অনুপস্থিতি, যদি সেদিন উসমান (রা) থেকে উত্তম কেউ থাকত তবে রাসুল (সা) তাঁকে মক্কায় পাঠাতেন। রাসুল (সা) উসমান (রা)-কে মক্কায় প্রেরণ করেছেন। আর বাইয়াত্বুর রিদওয়ান তো তিনি মক্কা যাওয়ার পরে হয়েছে। তাছাড়া 'এ হাত উসমানের' এ কথা বলে রাসুল (সা) উসমানের হাতের পরিবর্তে নিজের বাম হাত তাঁর ডান হাতের উপর রাখলেন。
টিকাঃ
১৮৮ ইয়াম বুখারী হাদীসিটি এনেছেন, ৫২ খণ্ড, ২৪, ৬৮৩।
📄 উসমান রা.-এর লাজুকতা
হযরত হাসান (রা) মানুষকে উসমান (রা)-কে নিয়ে কথা শুনাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর শিষ্টাচারিতা ও লাজুকতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বললেন, যদি ঘরের দরজা বন্ধও থাকত তবুও গোসলের সময় বস্ত্র ব্যতীত গায়ে পানি ঢালার জন্যে তিনি তাঁর কাপড় খুলতেন না। লাজুকতাই তাঁকে কাপড়বিহীনভাবে দাঁড়াতে বাধা দিত。
টিকাঃ
১৮৯ আবু নুয়ম, দিলন ইয়াম আহলে, ১১৯।