📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. ও ইবনে আউফ রা.

📄 উসমান রা. ও ইবনে আউফ রা.


একদিন কোনো এক কারণে উসমান رضي الله عنه আব্দুল্লাহ রহমান বিন আওফ رضي الله عنه-এর সাথে জোর গলায় কথা বললেন। তখন আব্দুর রহমান رضي الله عنه বললেন, তুমি আমার সাথে জোর গলায় কথা বলছ! অথচ আমি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি তুমি করনি, আমি রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর হাতে বাইয়াতও হয়েছি তুমি হওনি, তুমি উহুদের যুদ্ধে ময়দান থেকে পালিয়ে গেছ আমি পালিয়ে যাইনি। তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, তুমি বলেছ, তুমি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছ আর আমি অংশগ্রহণ করিনি, এটা তো এ কারণে যে, রাসূল صلى الله عليه وسلم আমাকে তাঁর মেয়ের দেখাশোনা করার জন্য রেখে গেছেন। পরে তিনি আমাকে গণিমতের অংশও দিয়েছেন আর সওয়াবের ও ওয়াদা দিয়েছেন। আর তুমি বলেছ, তুমি রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর হাতে বাইয়াতও গ্রহণ করেছ আর আমি করিনি, এটা তো এ কারণে যে, রাসূল صلى الله عليه وسلم আমাকে মুশরিকদের কাছে পাঠিয়েছেন। যখন তারা আমাকে আটক করে রেখেছে তখন রাসূল صلى الله عليه وسلم নিজের ডান হাতের উপরে বাম হাত রেখে বললেন, এটা উসমান বিন আফফানের হাত। আর রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর বাম হাত তো আমার ডান হাত থেকেও উত্তম। আর তুমি বলেছ, আমি উহুদের যুদ্ধে পালিয়েছি, এ ব্যাপারে তো আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, إِنَّ الَّذِينَ تَوَلَّوْا مِنكُمْ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ إِنَّمَا اسْتَزَلَّهُمُ الشَّيْطَانُ بِبَعْضِ مَا كَسَبُوا ۖ وَلَقَدْ عَفَا اللَّهُ عَنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ ‘যেদিন দুটি দল পরস্পর সম্মুখীন হয়েছিল সেদিন তোমাদের মধ্য থেকে যারা পশ্চাদপসরণ করেছিল, শয়তানই তাদের পাপের দরুন তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিল, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও ধৈর্যশীল।' সুতরাং তুমি এমন গুনাহর জন্য আমাকে তিরস্কার করো না, যে গুনাহ আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন。

টিকাঃ
১৭৬ উসমান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর মর্যাদা উল্লেখ করেছেন, ১/৮৮, ৭১ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর নম্রতা

📄 উসমান রা.-এর নম্রতা


এক লোক উসমান رضي الله عنه-এর কাছে তার ছেলের ব্যাপারে অভিযোগ করে বলল, সে বিয়ে করতে চাচ্ছে না। উসমান رضي الله عنه ছেলেটির কাছে গিয়ে তাকে বিয়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে লাগলেন। তিনি বললেন, নবী صلى الله عليه وسلم কী বিয়ে করেননি? আবূ বকর কী বিয়ে করেননি? ওমর কী বিয়ে করেননি? আর আমারও তো কয়েকজন আছে। অর্থাৎ কয়েকজন স্ত্রী আছে। তখন ছেলেটি ইবাদতের প্রতি অধিক দেখিয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর মতো আমল কার আছে? আবূ বকর, ওমর ও আপনার মতো অন্য কার এমন আমল আছে? যখন উসমান رضي الله عنه দেখলেন ছেলেটি তাঁর প্রশংসা করছে তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, থাম! চাইলে তুমি বিয়ে কর, না হয় না করো। অর্থাৎ তুমি বিয়ে করলে কর বা না কর তবুও আমার প্রশংসা করো না。

টিকাঃ
১৭৭ মুসনাদু আহাদিস সাহাবা, ২/৮৭, ৫৬৩ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. কেন হাসলেন

📄 উসমান রা. কেন হাসলেন


উসমান رضي الله عنه তাঁর সাথিদের মাঝে বসে তাদেরকে জ্ঞান ও শিষ্টাচার শিখাচ্ছিলেন। তারপর তিনি অজুর পানি আনার নির্দেশ দিলেন। পানি আনলে তিনি তা দ্বারা তিনবার হাতের কব্জি পর্যন্ত ধৌত করলেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন, চেহারা তিনবার ধৌত করলেন, মাথা মাসেহ করলেন, এরপর দুই পা ধৌত করলেন....অজু শেষে তিনি মুচকি হাসলেন। হাসার পর তিনি তাঁর সাথিদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কী জিজ্ঞেস করবে না কী কারণে আমি হাসলাম? তখন তারা আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি কেন হাসলেন? তাদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি মুচকি হেসে অযূর ফলিত বর্ণনা করে বললেন, যখন কোনো বান্দা অজু করতে গিয়ে চেহারা ধৌত করে তখন তার চেহারা দ্বারা গঠিত সকল গুনাহ ঝরে যায়। আর যখন দুই হাত ধৌত করে তখন হাত দ্বারা গঠিত সকল গুনাহ ঝরে যায়। আর যখন মাথা মাসেহ করে তখন ও তেমন হয়। আর যখন পা ধৌত করে তখন ও তেমন হয়。

টিকাঃ
১৭৮ মুসনাদু আহাদিস সাহাবা, ২/৭৭, ৫৪৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 হে সম্পদশালীরা, তোমরা সব কল্যাণ নিয়ে নিলে

📄 হে সম্পদশালীরা, তোমরা সব কল্যাণ নিয়ে নিলে


আমীরুল মুমিনীন উসমান رضي الله عنه তাঁর সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় একের পর এক ব্যয় করেছেন। তিনি প্রতিটি ভালো কাজে বাতাসের মতো ছুটে যেতেন। একদিন সদকা করতেন, অন্যদিন গোলাম আযাদ করতেন, অন্যদিন গরীব মিসকীনদের খেতে দিতেন। এরই মধ্যে একদিন একদল লোক তাঁর সাথে কথাবার্তা বলার জন্য ও তাঁর জ্ঞান ও কথা থেকে কিছু শিখার জন্য আসল। তাদের মধ্যে একজন বলল, হে সম্পদশালীরা, তোমরা সব কল্যাণ নিয়ে নিলে। তোমরা সদকা কর, গোলাম আযাদ কর, হজ্ব কর, দান কর। উসমান رضي الله عنه বললেন, তোমরা কী আমাদের নিয়ে ঈর্ষা কর? সে বলল, হ্যাঁ, আমরা তোমাদের নিয়ে ঈর্ষা করি। তখন উসমান رضي الله عنه খুব সাধারণভাবে বললেন, কষ্ট করে উপার্জিত এক দিরহাম দান করা, হাজারবার ঈর্ষা করা থেকেও উত্তম। আমীরুল মুমিনীন উসমান رضي الله عنه-এর এমন কথার তীব্র অন্তরও প্রশান্ত হয়ে গেল। সে তাঁর কথা মনে গেঁথে নিল। তারপর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে সে ও তাঁর সাথে লোকেরা চলে গেল。

টিকাঃ
১৭৯ মুসনাদু আহাদিস সাহাবা, ২/৭৭, ৫৪৮ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00