📄 উসমান রা.-কে হত্যা করতে চাইল এক লোক
এক সকালে উসমান رضي الله عنه ফজরের নামায আদায় করতে বের হলেন। তিনি প্রতিদিন যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন আজও সে দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন। হঠাৎ এক লোক তাঁর ওপর হামলা করল। তখন উসমান رضي الله عنه বলে উঠলেন, দেখ, দেখ। উপরিহিত লোকটিতে এসে দেখল লোকটির হাতে একটি বজর বা তরবারি। উসমান رضي الله عنه বললেন, এটি কী? সে বলল, আমি আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছি। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ, তোমার জন্য আফসোস! তুমি কেন আমাকে হত্যা করতে চেয়েছ? সে বলল, আপনার ইমানের গভীর আমার ওপর জুলুম করেছে। তিনি বললেন, তুমি কি তোমার বিষয়টি আমাকে বলতে পারনি? যদি আমি ন্যায়বিচার না করতাম তখন তুমি এ সিদ্ধান্ত নিতে।
এরপর উসমান رضي الله عنه লোকদেকে বললেন, তোমরা কী বল? তারা বলল, আমীরুল মুমিনীন, এ হচ্ছে শত্রু, আল্লাহ তাকে আপনার হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন: বরং আল্লাহর এক বান্দা, সে গুনাহ করতে চেয়েছে, আল্লাহ তা'আলা আমার দ্বারা তাকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তারপর উসমান رضي الله عنه লোকটিকে এ শর্তে ক্ষমা করে দিয়েছেন যে, তিনি যতদিন খলিফা থাকবেন ততদিন সে মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না。
টিকাঃ
১৭১ তারিখুন মদিনা, ৩০২৭ পৃ.
📄 উসমান রা. ও জমিনের মালিক
উসমান বিন আফফান رضي الله عنه এক লোক থেকে একটি জমিন ক্রয় করলেন। লোকটি জমিনটির মূল্য নিতেও দেরি করছিল আর জমিনটি হস্তান্তর করতেও দেরি করছিল। এক পর্যায়ে একদিন লোকটির সাথে মদিনার কোনো এক রাস্তায় উসমান رضي الله عنه-এর দেখা হলো। তিনি তাকে বললেন, কী কারণে তুমি তোমার মূল্য নিচ্ছ না? লোকটি বলল, আপনি আমাকে ধোঁকা দিয়েছেন? আমার সাথে যাওয়াই দেখা হয় সবাই আমাকে এ ব্যাপারে তিরস্কার করছে। তিনি বললেন, এ কারণেই তুমি নিচ্ছ না? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তুমি জমিন অথবা জমিনের মূল্য এ দুইটির একটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নাও। তারপর তিনি বললেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা সে ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যে ব্যক্তি বেচা-কেনায়, বিচারে ও তার ওপর আরোপিত রায়ে সহজতা অবলম্বন করে。
টিকাঃ
১৭২ আল মুসান্নাফ, ইব্ন আবী শাইবা, ৫/৬৮, ৫৮১।
📄 উসমান রা.-এর তাকওয়া
আমীরুল মুমিনীন উসমান বিন আফফান رضي الله عنه সাদা পোশাক পরে বায়তুল্লাহর দিকে চলতে লাগলেন। যেতে যেতে তিনি মক্কা ও মদিনার মাঝ পথে পৌঁছলেন। তখন তাঁকে মুহাম্মাদ বিন জা’ফর رضي الله عنه স্বাগত জানালেন। মুহাম্মাদ বিন জা’ফরের গায়ে তখন সূক্ষ্ম বস্ত্রাদি মাখানো ছিল। তাঁর গায়ে হলুদ রঙের একটি উন্নতমানের জামা ছিল।
উসমান رضي الله عنه তা দেখে খুব রেগে গেলেন। তিনি তাঁকে ধমক দিয়ে বললেন, তুমি হলুদ রঙের জামা পরেছ, অথচ রাসূল صلى الله عليه وسلم তা পরতে নিষেধ করেছেন! উসমান رضي الله عنه-এর সময়ে আব্দুল্লাহ মুসালমানদেরকে খাবারটি করেছিলেন। এ কারণে তারা বিলাসিতা শুরু করল। তাদের কিছু মানুষ কবুতর পালন করত এবং কবুতরের উড়াদুড়ি দেখায় ব্যস্ত থাকত। উসমান رضي الله عنه কবুতর নিয়ে মানুষের এমন ব্যস্ততায় খুব রাগান্বিত হলেন। এ কারণে তিনি প্রতি জুম'আর খুতবায় কবুতর জবাই করার নির্দেশ দিতেন。
টিকাঃ
১৭৩ ইমামা দাহাবিন হাদীসটি সহীহ বলছেন, ১/৮৮, ৭১ পৃ.।
১৭৪ আল মুসান্নাফ মুস্তাদ, লিদ বুখারী, হাদিস নং, ৮০০১।
📄 নবী সা.-এর আংটি
নবী করীম صلى الله عليه وسلم এবং মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم লিখিত সিলমোহরকে একটি আইডি তৈরি করলেন। নবী করীম صلى الله عليه وسلم-এর ইন্তিকালের পর সে আইডি আবূ বকর রضي الله عنه ও উমর রضي الله عنه হাতে দিয়েছেন। তাঁদের ইন্তিকালের পর ছয় বছর পর্যন্ত উসমান رضي الله عنه হাতে দিলেন। উসমান رضي الله عنه-এর খিলাফতের ছয় বছর পর একদিন তিনি উরাইসের কূপের ওপর বসে আইডিটি নাড়া-চাড়া করছিলেন। হঠাৎ করে আইডিটি তাঁর হাত থেকে কূপে পড়ে গেল। তখন তিনি ও তাঁর সাথে থাকা লোকেরা তাড়াহুড়ো করে কূপে নেমে আইডিটি খুঁজতে লাগলেন। তিন দিন পর্যন্ত খুঁজেও তাঁরা আইডিটি খুঁজে পেলেন না。
টিকাঃ
১৭৫ তারাকাতু ইবনি সা'দ ২/৯৪, ১৬৮ পৃ.। ফযী — ১৫