📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর অন্তর্দৃষ্টি

📄 উসমান রা.-এর অন্তর্দৃষ্টি


এক মহিলাকে এক লোক দেখতে পেয়ে তাঁর দিকে লালসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এর কিছুক্ষণ পর সে উসমান رضي الله عنه-এর কাছে গেল। যখন লোকটি উসমান رضي الله عنه-এর ঘরে প্রবেশ করল তখন তিনি বললেন, তোমাদের কেউ একজন আমার কাছে এসেছ অথচ তাঁর চোখে যিনার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। লোকটি বলল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরেও কী ওহী আসে? তিনি বললেন, না, তবে তা মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি。

টিকাঃ
৯৭৭ জামিউল কারায়িদি আল আফিয়া, ২য় খণ্ড, ৬২।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. ও আফ্রিকা জয়

📄 উসমান রা. ও আফ্রিকা জয়


আফ্রিকাকে মুসলমানদের কোনো সংবাদ না আসার কারণে উসমান رضي الله عنه আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর رضي الله عنه-কে একটি বাহিনীসহ সেদিকে পাঠালেন। ইবনে যোবাইর সেখানে যাওয়ার পর ডাকতীর আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। তখন রোমের সম্রাট জারজারীর কী হয়েছে তা জিজ্ঞেস করল। তাতে বলা হলো, মুসলমানদের সাহায্যে সেনা এসেছে।
তখন সম্রাট চিৎকার দিয়ে বলল, যে মুসলমানদের সেনাপতি আব্দুল্লাহ বিন সা'দকে হত্যা করতে পারবে তাকে এক লক্ষ দিনার দেওয়া হবে এবং তার সাথে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দেব।
তখন আব্দুল্লাহ বিন সা'দ رضي الله عنهও ঘোষণা দিলেন, যে জারজারীর মাথা আমার কাছে নিয়ে আসতে পারবে তাকে আমি এক লক্ষ দিনার দিব ও জারজারীর কন্যা তার সাথে বিয়ে দেব।
যুদ্ধ প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলত। তখন আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর رضي الله عنه দুপুরের পর যুদ্ধ থামিয়ে দিতেন। যাতে করে রোমের সেনারা বিশ্রাম নিতে না পারে। এ কারণে তিনি সৈন্যদলকে দুই ভাগে ভাগ করলেন। একদল দুপুরের পর অখণ্ড যুদ্ধ করবে আরেকদল দুপুরের পর যুদ্ধ করবে। অন্যান্য দিনের মতো রোমের সেনারা দুপুর হওয়ার পর অস্ত্র-শস্ত্র রেখে বিশ্রাম নিতে তাদের তাঁবুতে ফিরে গেল, কিন্তু আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর رضي الله عنه তাঁর পরিকল্পনা মতো দ্বিতীয় দলকে নিয়ে দুপুরের পর শত্রুদের তাঁবুতে আক্রমণ করলেন। রোমের ক্লান্ত সৈন্যরা হঠাৎ আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয়ে ফেলল। মুসলমান সেনারা তাদের অনেককে হত্যা করল। আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর رضي الله عنه রোমের সম্রাট জারজারীকে হত্যা করে তাঁর থেকে নিয়ে আসলেন। তিনি জারজারীর মেয়েক উসমান رضي الله عنه-এর কাছে পাঠিয়ে বিজয়ের সুসংবাদ দিলেন।
উসমান رضي الله عنه তাঁর এমন বীরত্বপূর্ণ অবাক হলেন। তাই তিনি মানুষকে একত্রিত করে তাঁকে সে ঘটনা তাদের কাছে বর্ণনা বললেন。

টিকাঃ
৯৭৮ আল কামিল ফিল ইবনিল আসীর, ৩য় খণ্ড, ৪২,৪৫।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-কে হত্যা করতে চাইল এক লোক

📄 উসমান রা.-কে হত্যা করতে চাইল এক লোক


এক সকালে উসমান رضي الله عنه ফজরের নামায আদায় করতে বের হলেন। তিনি প্রতিদিন যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন আজও সে দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করলেন। হঠাৎ এক লোক তাঁর ওপর হামলা করল। তখন উসমান رضي الله عنه বলে উঠলেন, দেখ, দেখ। উপরিহিত লোকটিতে এসে দেখল লোকটির হাতে একটি বজর বা তরবারি। উসমান رضي الله عنه বললেন, এটি কী? সে বলল, আমি আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছি। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ, তোমার জন্য আফসোস! তুমি কেন আমাকে হত্যা করতে চেয়েছ? সে বলল, আপনার ইমানের গভীর আমার ওপর জুলুম করেছে। তিনি বললেন, তুমি কি তোমার বিষয়টি আমাকে বলতে পারনি? যদি আমি ন্যায়বিচার না করতাম তখন তুমি এ সিদ্ধান্ত নিতে।
এরপর উসমান رضي الله عنه লোকদেকে বললেন, তোমরা কী বল? তারা বলল, আমীরুল মুমিনীন, এ হচ্ছে শত্রু, আল্লাহ তাকে আপনার হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন: বরং আল্লাহর এক বান্দা, সে গুনাহ করতে চেয়েছে, আল্লাহ তা'আলা আমার দ্বারা তাকে গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তারপর উসমান رضي الله عنه লোকটিকে এ শর্তে ক্ষমা করে দিয়েছেন যে, তিনি যতদিন খলিফা থাকবেন ততদিন সে মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না。

টিকাঃ
১৭১ তারিখুন মদিনা, ৩০২৭ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. ও জমিনের মালিক

📄 উসমান রা. ও জমিনের মালিক


উসমান বিন আফফান رضي الله عنه এক লোক থেকে একটি জমিন ক্রয় করলেন। লোকটি জমিনটির মূল্য নিতেও দেরি করছিল আর জমিনটি হস্তান্তর করতেও দেরি করছিল। এক পর্যায়ে একদিন লোকটির সাথে মদিনার কোনো এক রাস্তায় উসমান رضي الله عنه-এর দেখা হলো। তিনি তাকে বললেন, কী কারণে তুমি তোমার মূল্য নিচ্ছ না? লোকটি বলল, আপনি আমাকে ধোঁকা দিয়েছেন? আমার সাথে যাওয়াই দেখা হয় সবাই আমাকে এ ব্যাপারে তিরস্কার করছে। তিনি বললেন, এ কারণেই তুমি নিচ্ছ না? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তুমি জমিন অথবা জমিনের মূল্য এ দুইটির একটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নাও। তারপর তিনি বললেন, রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা সে ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যে ব্যক্তি বেচা-কেনায়, বিচারে ও তার ওপর আরোপিত রায়ে সহজতা অবলম্বন করে。

টিকাঃ
১৭২ আল মুসান্নাফ, ইব্‌ন আবী শাইবা, ৫/৬৮, ৫৮১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00