📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. ও আবু যর রা.

📄 উসমান রা. ও আবু যর রা.


যিকির ও তাসবীহ জপা অবস্থায় আবু যর গিফারী رضي الله عنه সিরিয়া থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শহরে ফিরে আসছিলেন। তাঁকে আমীরুল মুমিনীন উসমান رضي الله عنه দেখতে পেয়ে বললেন, স্বাগতম, স্বাগতম, আমার ভাই।
আবু যর رضي الله عنه বললেন, আপনাকেও স্বাগতম ভাই। আপনার কঠোর আদেশ আমাদেরকে কষ্টই ফেলে দিয়েছে। আল্লাহর শপথ, আপনি যদি আমাকে হামাঅভি দিয়ে আসতে বলতেন তাহলে আমি হামাঅভি দিয়েই আসতাম। একদিন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে অমুক ব্যক্তির এলাকার উদ্দেশে বের হয়েছিলাম।
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার ছাত্র যাওয়ার পর তোমার জন্যে আফসোস! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কী আপনার পর জীবিত থাকব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন তুমি দেখবে দামান-কোটা পাহাড়ের চূড়ার উপরে উঠে গেছে, তখন সত (হেদায়েত) পশ্চিম দিকের কুদাইয়া'র জমিনে চলে যাবে। তাঁর কথাগুলো শুনে উসমান رضي الله عنه সিরিয়া থেকে মদীনায় নিয়ে আসার কারণ হিসেবে বললেন, আমি তোমাকে তোমার সাথীদের সাথে রাখতে পছন্দ করেছি, আর তোমার ব্যাপারে মানুষের খারাপ ব্যবহার হয় না。

টিকাঃ
৯৭৫ সিয়াক আসমাউন নুবালা, ২য় খণ্ড, ৭৩ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মদীনাকে ভুলে যেয়ো না

📄 মদীনাকে ভুলে যেয়ো না


একবার হযরত আবু যর رضي الله عنه মদীনায় বাইরে বসবাস করার জন্য উসমান رضي الله عنه-এর কাছে অনুমতি চাইলেন, কিন্তু তিনি তাঁকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেন। পরে বারবার অনুমতি চাওয়ার কারণে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। রওবার প্রাক্কালে তিনি তাঁকে এক পাল উট ও দুইজন গোলাম দিয়ে বললেন, মদীনায় আসা-যাওয়া রেখো, এমন যেন না হয়, গ্রামে গিয়ে গ্রাম্য বেদুঈন হয়ে গেছ। আবু যর رضي الله عنه তখন 'রাবায়্যা'হ চলে গেলেন। তিনি সেখানে একটি মসজিদ বানালেন। উসমান رضي الله عنه-এর কথা মতো তিনি মাঝে মাঝে মদীনায় আসতেন。

টিকাঃ
৯৭৬ তারিখে তাবারী, ৩য় খণ্ড, ৭৮৫ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর অন্তর্দৃষ্টি

📄 উসমান রা.-এর অন্তর্দৃষ্টি


এক মহিলাকে এক লোক দেখতে পেয়ে তাঁর দিকে লালসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এর কিছুক্ষণ পর সে উসমান رضي الله عنه-এর কাছে গেল। যখন লোকটি উসমান رضي الله عنه-এর ঘরে প্রবেশ করল তখন তিনি বললেন, তোমাদের কেউ একজন আমার কাছে এসেছ অথচ তাঁর চোখে যিনার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। লোকটি বলল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরেও কী ওহী আসে? তিনি বললেন, না, তবে তা মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি。

টিকাঃ
৯৭৭ জামিউল কারায়িদি আল আফিয়া, ২য় খণ্ড, ৬২।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. ও আফ্রিকা জয়

📄 উসমান রা. ও আফ্রিকা জয়


আফ্রিকাকে মুসলমানদের কোনো সংবাদ না আসার কারণে উসমান رضي الله عنه আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর رضي الله عنه-কে একটি বাহিনীসহ সেদিকে পাঠালেন। ইবনে যোবাইর সেখানে যাওয়ার পর ডাকতীর আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। তখন রোমের সম্রাট জারজারীর কী হয়েছে তা জিজ্ঞেস করল। তাতে বলা হলো, মুসলমানদের সাহায্যে সেনা এসেছে।
তখন সম্রাট চিৎকার দিয়ে বলল, যে মুসলমানদের সেনাপতি আব্দুল্লাহ বিন সা'দকে হত্যা করতে পারবে তাকে এক লক্ষ দিনার দেওয়া হবে এবং তার সাথে আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দেব।
তখন আব্দুল্লাহ বিন সা'দ رضي الله عنهও ঘোষণা দিলেন, যে জারজারীর মাথা আমার কাছে নিয়ে আসতে পারবে তাকে আমি এক লক্ষ দিনার দিব ও জারজারীর কন্যা তার সাথে বিয়ে দেব।
যুদ্ধ প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলত। তখন আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর رضي الله عنه দুপুরের পর যুদ্ধ থামিয়ে দিতেন। যাতে করে রোমের সেনারা বিশ্রাম নিতে না পারে। এ কারণে তিনি সৈন্যদলকে দুই ভাগে ভাগ করলেন। একদল দুপুরের পর অখণ্ড যুদ্ধ করবে আরেকদল দুপুরের পর যুদ্ধ করবে। অন্যান্য দিনের মতো রোমের সেনারা দুপুর হওয়ার পর অস্ত্র-শস্ত্র রেখে বিশ্রাম নিতে তাদের তাঁবুতে ফিরে গেল, কিন্তু আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর رضي الله عنه তাঁর পরিকল্পনা মতো দ্বিতীয় দলকে নিয়ে দুপুরের পর শত্রুদের তাঁবুতে আক্রমণ করলেন। রোমের ক্লান্ত সৈন্যরা হঠাৎ আক্রমণে ছত্রভঙ্গ হয়ে ফেলল। মুসলমান সেনারা তাদের অনেককে হত্যা করল। আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর رضي الله عنه রোমের সম্রাট জারজারীকে হত্যা করে তাঁর থেকে নিয়ে আসলেন। তিনি জারজারীর মেয়েক উসমান رضي الله عنه-এর কাছে পাঠিয়ে বিজয়ের সুসংবাদ দিলেন।
উসমান رضي الله عنه তাঁর এমন বীরত্বপূর্ণ অবাক হলেন। তাই তিনি মানুষকে একত্রিত করে তাঁকে সে ঘটনা তাদের কাছে বর্ণনা বললেন。

টিকাঃ
৯৭৮ আল কামিল ফিল ইবনিল আসীর, ৩য় খণ্ড, ৪২,৪৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00