📄 তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে আগ্রহ ব্যতীত বিয়ে করো না
এক লোক উসমান رضي الله عنه-এর কাছে এসেছেন। উসমান رضي الله عنه তখন বাহনে আরোহণ করে কোথাও যাওয়ার উদ্দেশে রওনা করেছিলেন। লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনার সাথে আমার জরুরি কথা আছে। উসমান رضي الله عنه বললেন, আমি এখন খুবই ব্যস্ত, তুমি চাইলে আমার পিছে আরোহণ কর তারপর আমার কাছে তোমার সমস্যা সমাধান করে নাও।
তখন লোকটি আমীরুল মুমিনীনের পিছনে উঠে বসল। তারপর সে বলল, আমার এক প্রতিবেশী আছে যে রাতের মাথায় নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। তাই আমি চেয়েছি আমার সম্পদ দ্বারা আমি তাকে বিয়ে করে তার সাথে সহবাস করার পর তাকে তালাক দিয়ে তার পূর্ব স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দিব।
তখন উসমান رضي الله عنه তাকে পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে বললেন, মহিলার প্রতি তোমার আগ্রহ না থাকলে তাকে বিয়ে করো না। প্রিয় পাঠক, এ পদ্ধতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করে গেছেন। যা আমাদের দেশে হিল্লা বিয়ে নামে পরিচিত। যে ব্যক্তি তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে আগের স্বামীর জন্য হালাল করতে বিয়ে করবে তাকে ও সে স্বামীকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা'নত দিয়েছেন। সুতরাং এ পদ্ধতি অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকুন。
টিকাঃ
৯৭৩ মাওসুআতে ফিকহে উসমান বিন আফফান, ৩০১।
📄 উসমান রা. নিষিদ্ধতা উঠিয়ে দিলেন
জাফর رضي الله عنه-এর ছেলে আব্দুল্লাহ ছয় লক্ষ দিরহাম দ্বারা একটি জমি ক্রয় করল। তাঁর এমন অসম বেচাকেনার কারণে তাঁর চাচা আলী رضي الله عنه খুবই রাগান্বিত হয়েছিলেন। কেননা জমিনের দাম এত বেশি হয় না। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আমীরুল মুমিনীন উসমান رضي الله عنه-এর কাছে যাবেন যেন তিনি এ ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করে দেন।
যখন আব্দুল্লাহ এ কথা শুনল, সে দ্রুত যোবাইর বিন আওয়াম رضي الله عنه-এর কাছে ছুটে গেল। যোবাইর رضي الله عنه একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। সে তাঁর কাছে সবকিছু খুলে বলল।
তখন যোবাইর رضي الله عنه বললেন, আমি তোমার এ ক্রয় অংশীদার হলাম। এরপর আলী رضي الله عنه-এর কাছে বিচার নিয়ে এলেন। তিনি তাঁকে আব্দুল্লাহর জমিন ক্রয় তারপর তাঁর সাথে যোবাইর رضي الله عنه-এর অংশীদারিত্ব গ্রহণসহ সবকিছু খুলে বলে এ বেচাকেনা বাতিল করার আবেদন করলেন।
তখন উসমান رضي الله عنه বললেন, আমি সে লোকের বেচাকেনা কীভাবে বাদ করব যার সাথে যোবাইর বিন আওয়ام رضي الله عنه শরীক আছে。
টিকাঃ
৯৭৪ তারিখে দামেস্ক, ইবনে আসাকির, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩০১।
📄 উসমান রা. ও আবু যর রা.
যিকির ও তাসবীহ জপা অবস্থায় আবু যর গিফারী رضي الله عنه সিরিয়া থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শহরে ফিরে আসছিলেন। তাঁকে আমীরুল মুমিনীন উসমান رضي الله عنه দেখতে পেয়ে বললেন, স্বাগতম, স্বাগতম, আমার ভাই।
আবু যর رضي الله عنه বললেন, আপনাকেও স্বাগতম ভাই। আপনার কঠোর আদেশ আমাদেরকে কষ্টই ফেলে দিয়েছে। আল্লাহর শপথ, আপনি যদি আমাকে হামাঅভি দিয়ে আসতে বলতেন তাহলে আমি হামাঅভি দিয়েই আসতাম। একদিন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে অমুক ব্যক্তির এলাকার উদ্দেশে বের হয়েছিলাম।
তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমার ছাত্র যাওয়ার পর তোমার জন্যে আফসোস! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কী আপনার পর জীবিত থাকব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন তুমি দেখবে দামান-কোটা পাহাড়ের চূড়ার উপরে উঠে গেছে, তখন সত (হেদায়েত) পশ্চিম দিকের কুদাইয়া'র জমিনে চলে যাবে। তাঁর কথাগুলো শুনে উসমান رضي الله عنه সিরিয়া থেকে মদীনায় নিয়ে আসার কারণ হিসেবে বললেন, আমি তোমাকে তোমার সাথীদের সাথে রাখতে পছন্দ করেছি, আর তোমার ব্যাপারে মানুষের খারাপ ব্যবহার হয় না。
টিকাঃ
৯৭৫ সিয়াক আসমাউন নুবালা, ২য় খণ্ড, ৭৩ পৃ.
📄 মদীনাকে ভুলে যেয়ো না
একবার হযরত আবু যর رضي الله عنه মদীনায় বাইরে বসবাস করার জন্য উসমান رضي الله عنه-এর কাছে অনুমতি চাইলেন, কিন্তু তিনি তাঁকে অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেন। পরে বারবার অনুমতি চাওয়ার কারণে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। রওবার প্রাক্কালে তিনি তাঁকে এক পাল উট ও দুইজন গোলাম দিয়ে বললেন, মদীনায় আসা-যাওয়া রেখো, এমন যেন না হয়, গ্রামে গিয়ে গ্রাম্য বেদুঈন হয়ে গেছ। আবু যর رضي الله عنه তখন 'রাবায়্যা'হ চলে গেলেন। তিনি সেখানে একটি মসজিদ বানালেন। উসমান رضي الله عنه-এর কথা মতো তিনি মাঝে মাঝে মদীনায় আসতেন。
টিকাঃ
৯৭৬ তারিখে তাবারী, ৩য় খণ্ড, ৭৮৫ পৃ.