📄 হত্যাকারী লোক
ভাঙ্গা হৃদয়ে, চিন্তিত মনে, ব্যথিত অন্তরে এক লোক উসমান (রাঃ)-এর কাছে আসল। যার চেহারায় চিন্তা ও হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছিল। লোকটি খলিফা উসমান (রাঃ)-এর কাছে অবনত মস্তকে বসে রইল। কিছু বলতে চেয়েও কথা কণ্ঠস্বর থেকে বের করতে পারল না। অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি হত্যা করেছি, আমার জন্যে কী তাওবার সুযোগ আছে? লোকটি যা করেছে সে সম্পর্কে জানতে পেরে উসমান رضي الله عنه তাকে আল্লাহর কালাম তেলাওয়াত করে শুনালেন-
حَمْ ﴿۱﴾ تَنزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ﴿۲﴾ غَافِرِ الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ ۖ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ۖ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ ﴿۳﴾
অর্থ, হা-মীম। পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাযিল হয়েছে। যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা ও সামর্থ্যবান। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে। (সূরা গাফির : ১-৩)
লোকটি যেন দায়াবত আদায় করার পর তাওবা করতে দেরি না করে এ কারণে তিনি বললেন, আমল করতে থাক, নিরাশ হয়ো না。
টিকাঃ
৯৭০ মুসনাদে আহমাদ সাহাবা, ৩য় খণ্ড, ৬ পৃ.
📄 বৃদ্ধ ও বালক
দুপুর বেলার পর শ্রমিকেরা মসজিদে নববী সম্প্রসারণ ও নবায়নের কাজ শুরু করল। তারা কাজ করছিল এমন সময় ইবনে সাঈদ আল মাখযুমী আসলেন। তিনি তখন ছোট ছিলেন। তিনি মসজিদে এসে দেখলেন সুন্দর চেহারার এক বৃদ্ধ লোক একটি ইঁটে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছেন। তখন তিনি বৃদ্ধ লোকের সুন্দর চেহারা দেখে তাঁর নিকটবর্তী হলেন। এমন সময় বৃদ্ধ লোকটি চোখ খুললেন। বৃদ্ধ লোকটি বললেন, তুমি কে? হে বালক। তিনি তাঁর পরিচয় দিলেন।
এরপর বৃদ্ধ লোকটি তাঁর পাশে ঘুমন্ত এক বালককে ডাকলেন, কিন্তু সে উঠল না। তখন বৃদ্ধ লোকটি তাঁকে বললেন, এ বালকটিকে ডাক। তিনি তাঁকে ডাকলেন। সে উঠলে বৃদ্ধ লোকটি তাঁকে কোনো এক আদেশ দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন।
তারপর বৃদ্ধ লোকটি তাঁকে বললেন, তুমি বস। ঘুম থেকে উঠা বালকটি বৃদ্ধের আদেশে একটি জামা ও এক হাজার দিরহাম নিয়ে ফিরে আসল। তখন বৃদ্ধ লোকটি তাঁর কাপড় খুলে তাঁকে এ জামাটি পরাল এবং তাঁর আমার পকেটে এক হাজার দিরহাম দিয়ে দিল। ইবনে সাঈদ বলেন, তিনি আমাকে জামা পরিয়ে পকেটে এক হাজার দিরহাম দেওয়ার পর আমি আমার বাবার কাছে ফিরে গেলাম।
তখন আমার বাবা বললেন, হে আমার ছেলে, তোমাকে এগুলো কে দিয়েছে?
আমি বললাম, আমি চিনি না, তবে তিনি মসজিদে ঘুমন্ত ছিলেন, তাঁর মতো সুন্দর চেহারার লোক আমি আর দেখিনি। তখন পিতা বললেন, তিনি হচ্ছেন আমীরুল মুমিনীন উসমান বিন আফফান
টিকাঃ
৯৭১ আল কিফায়াহ ওয়াল কিরায়া, ৭ম খণ্ড, ১২০ পৃ.
📄 অনুতপ্তের অশ্রু
আমীরুল মুমিনীন উসমান বিন আফফান رضي الله عنه-এর খিলাফতকালে আনসারদের এক লোক আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه-এর কাছে এসে উসমান رضي الله عنه-এর ব্যাপারে মিথ্যা বাণোয়াট কথা বলতে লাগল। সে বলতে বলতে অনেক বলল।
তার কথা শেষ হলে আব্দুল্লাহ বিন ওমর رضي الله عنه তাকে খুব সুন্দরভাবে বললেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত থাকা অবস্থায় আমরা বলতাম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে তাঁর উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি আবু বকর রضي الله عنه, তারপর ওমর রضي الله عنه তারপর উসমান رضي الله عنه। আল্লাহর শপথ! আমার জানা মতে, উসমান কখনো কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেননি, কোনো কবিরা গুনাহও করেননি।
কিন্তু তোমাদের অভিযোগের কারণ হচ্ছে এ সম্পদ, যদি তা তোমাদেরকে দেওয়া হয় তখন তোমরা খুব খুশি হও। আর যদি তোমাদের থেকেও অধিক হকদার ব্যক্তিদিগকে দেওয়া হয় তখন তোমরা অসন্তুষ্ট হও। তোমরা তো পারস্য ও রোবাসীয়র মতো হতে চাও, তারা তো তাদের কোনো আমীরকে হত্যা না করে ক্ষান্ত হয়নি।
তখন লোকটির চোখ দিয়ে অনুতপ্তের অশ্রু ঝরতে শুরু করল আর সে বলতে লাগল, হে আল্লাহ, আমরা এটা চাই না। অর্থাৎ আমরা আমাদের আমীরকে হত্যা করতে চাই না。
টিকাঃ
৯৭২ তারিখে দামেস্ক, ইবনে আসাকির, ১৯১।
📄 তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে আগ্রহ ব্যতীত বিয়ে করো না
এক লোক উসমান رضي الله عنه-এর কাছে এসেছেন। উসমান رضي الله عنه তখন বাহনে আরোহণ করে কোথাও যাওয়ার উদ্দেশে রওনা করেছিলেন। লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনার সাথে আমার জরুরি কথা আছে। উসমান رضي الله عنه বললেন, আমি এখন খুবই ব্যস্ত, তুমি চাইলে আমার পিছে আরোহণ কর তারপর আমার কাছে তোমার সমস্যা সমাধান করে নাও।
তখন লোকটি আমীরুল মুমিনীনের পিছনে উঠে বসল। তারপর সে বলল, আমার এক প্রতিবেশী আছে যে রাতের মাথায় নিজের স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে। তাই আমি চেয়েছি আমার সম্পদ দ্বারা আমি তাকে বিয়ে করে তার সাথে সহবাস করার পর তাকে তালাক দিয়ে তার পূর্ব স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দিব।
তখন উসমান رضي الله عنه তাকে পরামর্শ ও উপদেশ দিয়ে বললেন, মহিলার প্রতি তোমার আগ্রহ না থাকলে তাকে বিয়ে করো না। প্রিয় পাঠক, এ পদ্ধতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করে গেছেন। যা আমাদের দেশে হিল্লা বিয়ে নামে পরিচিত। যে ব্যক্তি তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে আগের স্বামীর জন্য হালাল করতে বিয়ে করবে তাকে ও সে স্বামীকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা'নত দিয়েছেন। সুতরাং এ পদ্ধতি অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকুন。
টিকাঃ
৯৭৩ মাওসুআতে ফিকহে উসমান বিন আফফান, ৩০১।