📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. নিজের ওপর সাথিদেরকে প্রাধান্য দিলেন

📄 উসমান রা. নিজের ওপর সাথিদেরকে প্রাধান্য দিলেন


আমীরুল মুমিনীন উসমান (রাঃ) তাঁর কিছু সাথীদের নিয়ে ওমরা করার নিয়তে আল্লাহ তা'আলার ঘরের উদ্দেশ্যে বের হলেন। এরই মধ্যে কেউ একজন তাঁকে একটি পাখি রান্না করে হাদিয়া দিল। তখন তিনি তাঁর সাথীদেরকে বললেন, তোমরা খাও ...কিন্তু তিনি নিজে সেখান থেকে খেতে চাইলেন না। তখন আমর বিন আ'স (রাঃ) অবাক হয়ে বললেন, আমরা কী এমন খাবার খাব যা আপনি নিজে খাবেন না! এভাবেই উসমান (রাঃ) নিজে না খেয়ে তাঁর সাথীদেরকে প্রাধান্য দিয়ে তাদেরকে খাওয়ালেন。

টিকাঃ
১৬৪ আহকামুল সাহারা, ২য় খণ্ড, ৬৭ পৃঃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর রা.-এর অসিয়ত

📄 আবু বকর রা.-এর অসিয়ত


আবু বকর (রাঃ) মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয়ে আছেন। তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে তাঁর অসিয়ত লেখার জন্য তিনি উসমান (রাঃ)-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি আসার পর আবু বকর (রাঃ) অসিয়তগুলো বলতে লাগলেন আর তিনি লিখতে লাগলেন। কিন্তু তাঁর পরবর্তী খলিফার নাম বলার আগেই তিনি বেহুঁশ হয়ে জ্ঞান হারালেন। উসমান (রাঃ) তাঁর পরবর্তী খলিফা হিসেবে ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)-এর নাম লিখলেন। তাঁর জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি বললেন, তুমি কী লিখেছ? উসমান (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমি লিখেছি। তিনি বললেন, কার নাম লিখেছ? উসমান (রাঃ) বললেন, আমি ওমরের নাম লিখেছি। তখন আবু বকর (রাঃ) মুচকি হেসে বললেন, আমি যার নাম লিখতে বলার ইচ্ছে করেছি তুমি তার নামই লিখেছ। তুমি তোমার নিজের নামও লিখতে তবে তুমিও সেটির যোগ্য। অর্থাৎ তাহলে কোনো সমস্যা হতো না কেননা তুমিও খিলাফতের যোগ্য。

টিকাঃ
১৬৫ তাইরীখুল মাদীনাহ সিরাতে উসমান বিন আফফান, ২০ পৃঃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 হত্যাকারী লোক

📄 হত্যাকারী লোক


ভাঙ্গা হৃদয়ে, চিন্তিত মনে, ব্যথিত অন্তরে এক লোক উসমান (রাঃ)-এর কাছে আসল। যার চেহারায় চিন্তা ও হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছিল। লোকটি খলিফা উসমান (রাঃ)-এর কাছে অবনত মস্তকে বসে রইল। কিছু বলতে চেয়েও কথা কণ্ঠস্বর থেকে বের করতে পারল না। অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি হত্যা করেছি, আমার জন্যে কী তাওবার সুযোগ আছে? লোকটি যা করেছে সে সম্পর্কে জানতে পেরে উসমান رضي الله عنه তাকে আল্লাহর কালাম তেলাওয়াত করে শুনালেন-
حَمْ ﴿۱﴾ تَنزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ﴿۲﴾ غَافِرِ الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ ۖ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ۖ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ ﴿۳﴾
অর্থ, হা-মীম। পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাযিল হয়েছে। যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা ও সামর্থ্যবান। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে। (সূরা গাফির : ১-৩)
লোকটি যেন দায়াবত আদায় করার পর তাওবা করতে দেরি না করে এ কারণে তিনি বললেন, আমল করতে থাক, নিরাশ হয়ো না。

টিকাঃ
৯৭০ মুসনাদে আহমাদ সাহাবা, ৩য় খণ্ড, ৬ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বৃদ্ধ ও বালক

📄 বৃদ্ধ ও বালক


দুপুর বেলার পর শ্রমিকেরা মসজিদে নববী সম্প্রসারণ ও নবায়নের কাজ শুরু করল। তারা কাজ করছিল এমন সময় ইবনে সাঈদ আল মাখযুমী আসলেন। তিনি তখন ছোট ছিলেন। তিনি মসজিদে এসে দেখলেন সুন্দর চেহারার এক বৃদ্ধ লোক একটি ইঁটে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছেন। তখন তিনি বৃদ্ধ লোকের সুন্দর চেহারা দেখে তাঁর নিকটবর্তী হলেন। এমন সময় বৃদ্ধ লোকটি চোখ খুললেন। বৃদ্ধ লোকটি বললেন, তুমি কে? হে বালক। তিনি তাঁর পরিচয় দিলেন।
এরপর বৃদ্ধ লোকটি তাঁর পাশে ঘুমন্ত এক বালককে ডাকলেন, কিন্তু সে উঠল না। তখন বৃদ্ধ লোকটি তাঁকে বললেন, এ বালকটিকে ডাক। তিনি তাঁকে ডাকলেন। সে উঠলে বৃদ্ধ লোকটি তাঁকে কোনো এক আদেশ দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন।
তারপর বৃদ্ধ লোকটি তাঁকে বললেন, তুমি বস। ঘুম থেকে উঠা বালকটি বৃদ্ধের আদেশে একটি জামা ও এক হাজার দিরহাম নিয়ে ফিরে আসল। তখন বৃদ্ধ লোকটি তাঁর কাপড় খুলে তাঁকে এ জামাটি পরাল এবং তাঁর আমার পকেটে এক হাজার দিরহাম দিয়ে দিল। ইবনে সাঈদ বলেন, তিনি আমাকে জামা পরিয়ে পকেটে এক হাজার দিরহাম দেওয়ার পর আমি আমার বাবার কাছে ফিরে গেলাম।
তখন আমার বাবা বললেন, হে আমার ছেলে, তোমাকে এগুলো কে দিয়েছে?
আমি বললাম, আমি চিনি না, তবে তিনি মসজিদে ঘুমন্ত ছিলেন, তাঁর মতো সুন্দর চেহারার লোক আমি আর দেখিনি। তখন পিতা বললেন, তিনি হচ্ছেন আমীরুল মুমিনীন উসমান বিন আফফান

টিকাঃ
৯৭১ আল কিফায়াহ ওয়াল কিরায়া, ৭ম খণ্ড, ১২০ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00