📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এ উম্মতের নাজাত কিসে নিহিত?

📄 এ উম্মতের নাজাত কিসে নিহিত?


সবাইকে কাঁদিয়ে একদিন রাসুল (সাঃ) পবিত্র মুখ মোবারক তাঁর প্রতিপালকের কাছে চলে গেছে। তাঁর বিদায়ে মদিনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাহাবায়ে কেরামদের চোখের বুক ভেসে গেছে। সকল হৃদয় এক বিশাল বেদনায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তখন খিলাফতের দায়িত্ব আবু বকর (রাঃ)-এর হাতে নামলো। এরই মধ্যে একদিন উসমান (রাঃ) ভ্রমণে বেরিয়েছেন। এমন সময় তাঁর পাশ দিয়ে ওমর (রাঃ) গমন করলেন। ওমর (রাঃ) তাঁকে বসে সালাম দিলেন, কিন্তু তিনি সালামের উত্তর দিলেন না। তাঁর থেকে সালামের উত্তর না পাওয়ার পর ওমর (রাঃ) গিয়ে আবু বকর (রাঃ)-এর কাছে অভিযোগ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসুলের খলিফা, আমি উসমানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে সালাম দিয়েছি, কিন্তু তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন না। আবু বকর (রাঃ) এ কথা শুনে ওমর (রাঃ)-এর হাত ধরে তাঁর কাছে আসলেন। আবু বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, উসমান, তোমার পাশ দিয়ে তোমার ভাই যাওয়ার সময় তোমাকে সালাম দিয়েছে, কিন্তু তুমি সালামের কোনো উত্তর দাওনি। কী কারণে তুমি এমন করেছ? উসমান (রাঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি টেরই পাইনি, সে যে আমার পাশ দিয়ে গিয়েছে আর আমাকে সালাম দিয়েছে। আবু বকর (রাঃ) বললেন, তুমি সত্য বলছ, আল্লাহর শপথ! আমার মনে হয়, তুমি মনে মনে কোনো বিষয়ে ভাবছিলে যা তোমাকে অন্যমনস্ক করে রেখেছে। তিনি বললেন, হ্যা। আবু বকর (রাঃ) বললেন, তা কী? তিনি চিন্তিত মনে বললেন, রাসুল (সাঃ) ইন্তিকাল করেছেন অথচ আমি রাসুল (সাঃ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পারিনি যে, এ উম্মতের নাজাত কিসে নিহিত? আমি এ বিষয়টি মনে ভাবছিলাম, কিন্তু আমি অবাক হয়েছি আমি জিজ্ঞেস করতে দেরি করে ফেলেছি। তখন আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) হাসোজ্জ্বল চেহারায় বললেন, আমি তা জিজ্ঞেস করেছি, তিনি আমাকে তা বলেছেন। উসমান (রাঃ) এ কথা শুনে খুশি হয়ে বললেন, তা কী? তিনি বললেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! এ উম্মতের নাজাতো (মুক্তি) কিসে নিহিত? রাসুল (সাঃ) বললেন, আমি যে কালিমা আমার চাচার সামনে পেশ করে পর তিনি তা গ্রহণ করেননি, যে ব্যক্তি এ কালিমা গ্রহণ করবে, সে ক্বিয়ামাহ তার জন্যে নাজাতো হবে। যে কালিমা রাসুল (সাঃ) তাঁর চাচা আবু তালিবের সামনে পেশ করেছেন সে কালিমা হচ্ছে এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল। لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ ٱللَّهِ

টিকাঃ
১৬৩ ইবনু আহমদ হাদিসটি এনেছেন, ১ম খণ্ড, ৬৫ ও মাজমাউস যাওয়াদ, ১ম খণ্ড, ৬৪।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. নিজের ওপর সাথিদেরকে প্রাধান্য দিলেন

📄 উসমান রা. নিজের ওপর সাথিদেরকে প্রাধান্য দিলেন


আমীরুল মুমিনীন উসমান (রাঃ) তাঁর কিছু সাথীদের নিয়ে ওমরা করার নিয়তে আল্লাহ তা'আলার ঘরের উদ্দেশ্যে বের হলেন। এরই মধ্যে কেউ একজন তাঁকে একটি পাখি রান্না করে হাদিয়া দিল। তখন তিনি তাঁর সাথীদেরকে বললেন, তোমরা খাও ...কিন্তু তিনি নিজে সেখান থেকে খেতে চাইলেন না। তখন আমর বিন আ'স (রাঃ) অবাক হয়ে বললেন, আমরা কী এমন খাবার খাব যা আপনি নিজে খাবেন না! এভাবেই উসমান (রাঃ) নিজে না খেয়ে তাঁর সাথীদেরকে প্রাধান্য দিয়ে তাদেরকে খাওয়ালেন。

টিকাঃ
১৬৪ আহকামুল সাহারা, ২য় খণ্ড, ৬৭ পৃঃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর রা.-এর অসিয়ত

📄 আবু বকর রা.-এর অসিয়ত


আবু বকর (রাঃ) মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয়ে আছেন। তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছেন। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে তাঁর অসিয়ত লেখার জন্য তিনি উসমান (রাঃ)-কে ডেকে পাঠালেন। তিনি আসার পর আবু বকর (রাঃ) অসিয়তগুলো বলতে লাগলেন আর তিনি লিখতে লাগলেন। কিন্তু তাঁর পরবর্তী খলিফার নাম বলার আগেই তিনি বেহুঁশ হয়ে জ্ঞান হারালেন। উসমান (রাঃ) তাঁর পরবর্তী খলিফা হিসেবে ওমর বিন খাত্তাব (রাঃ)-এর নাম লিখলেন। তাঁর জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি বললেন, তুমি কী লিখেছ? উসমান (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমি লিখেছি। তিনি বললেন, কার নাম লিখেছ? উসমান (রাঃ) বললেন, আমি ওমরের নাম লিখেছি। তখন আবু বকর (রাঃ) মুচকি হেসে বললেন, আমি যার নাম লিখতে বলার ইচ্ছে করেছি তুমি তার নামই লিখেছ। তুমি তোমার নিজের নামও লিখতে তবে তুমিও সেটির যোগ্য। অর্থাৎ তাহলে কোনো সমস্যা হতো না কেননা তুমিও খিলাফতের যোগ্য。

টিকাঃ
১৬৫ তাইরীখুল মাদীনাহ সিরাতে উসমান বিন আফফান, ২০ পৃঃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 হত্যাকারী লোক

📄 হত্যাকারী লোক


ভাঙ্গা হৃদয়ে, চিন্তিত মনে, ব্যথিত অন্তরে এক লোক উসমান (রাঃ)-এর কাছে আসল। যার চেহারায় চিন্তা ও হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছিল। লোকটি খলিফা উসমান (রাঃ)-এর কাছে অবনত মস্তকে বসে রইল। কিছু বলতে চেয়েও কথা কণ্ঠস্বর থেকে বের করতে পারল না। অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি হত্যা করেছি, আমার জন্যে কী তাওবার সুযোগ আছে? লোকটি যা করেছে সে সম্পর্কে জানতে পেরে উসমান رضي الله عنه তাকে আল্লাহর কালাম তেলাওয়াত করে শুনালেন-
حَمْ ﴿۱﴾ تَنزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ﴿۲﴾ غَافِرِ الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ ۖ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ ۖ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ ﴿۳﴾
অর্থ, হা-মীম। পরাক্রমশালী মহাজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব নাযিল হয়েছে। যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা ও সামর্থ্যবান। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন হবে। (সূরা গাফির : ১-৩)
লোকটি যেন দায়াবত আদায় করার পর তাওবা করতে দেরি না করে এ কারণে তিনি বললেন, আমল করতে থাক, নিরাশ হয়ো না。

টিকাঃ
৯৭০ মুসনাদে আহমাদ সাহাবা, ৩য় খণ্ড, ৬ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00