📄 খলিফার কাপড়
উসমান (রাঃ) তৎকালীন বিশিষ্ট ধনীদের একজন হওয়ার পরেও সাধারণভাবে জীবনযাপন করতেন। তাঁকে দুনিয়ার লোভ স্পর্শ করেনি। তাঁর চলাফেরা ও পোশাকের ব্যাপারে বর্ণনা করতে গিয়ে আব্দুল মালিক বিন সা’দাদ (রহ) বলেন, আমি উসমান বিন আফফান (রাঃ)-কে জুমার দিন একটি মোটা জামা পরতে দেখেছি যার মূল্য মাত্র চার দেরহাম। তিনি সে সময়ে আমীরুল মুমিনীন ছিলেন。
হযরত হাসান (রাঃ) বললেন, আমি উসমান (রাঃ)-কে দেখেছি তিনি মসজিদে ঘুমাতেন। তিনি সে সময়ে মুসলমানদের খলিফা। তারপর তিনি ঘুম থেকে উঠলেন তখন তাঁর শরীরে ছোট ছোট কঙ্করের দাগ দেখা যাচ্ছিল。
টিকাঃ
_______ ১৫৮ আহকামুল সাহারা, ২য় খণ্ড, ৬৭ পৃঃ।
📄 উসমান রা. কবরস্থানে কাঁদছেন
উসমান (রাঃ)-এর চেহারায় দুঃখ ও হতাশা ফুটে উঠেছে। তিনি যখনই কবরস্থানের পাশে যেতেন তখনই খুব কাঁদতেন। কাঁদতে কাঁদতে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। চোখের পানি তাঁর চেহারায় বয়ে দিত। তখন তাঁকে বলা হলো, আপনি জান্নাত জাহান্নামের স্মরণ করলেও কান্না করেন না, কিন্তু কবরের কথা স্মরণ করলেই কান্না করেন। তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে বললেন, আমি রাসুল (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি, কবর হচ্ছে আখেরাতের প্রথম ধাপ, যে ব্যক্তি কবরে নাজাত পায় তার জন্যে পরের ধাপগুলো আরো সহজ হয়ে যাবে। যদি সে কবরে নাজাত না পায় তার জন্যে পরেরগুলো আরো কঠিন হয়ে যাবে。
টিকাঃ
১৫৯ তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং, ২০৪৩।
📄 উসমান রা. ও ইবনে মাসউদ রা.
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) অসুস্থ হলে উসমান (রাঃ) তাঁকে দেখতে গেলেন। তিনি তাঁকে বললেন, তুমি কিসের ভয় করছ? ইবনে মাসউদ (রাঃ) বললেন, আমার গুনাহর। তিনি বললেন, তোমার আশা কী? ইবনে মাসউদ (রাঃ) বললেন, আমার প্রভুর রহমত। তিনি বললেন, আমরা কি তোমার জন্যে ডাক্তার নিয়ে আসব না? ইবনে মাসউদ (রাঃ) বললেন, ডাক্তারই তো আমাকে রোগাক্রান্ত করেছেন। তিনি বললেন, আমরা কী তোমাকে কোনো অনুদান দিব না? ইবনে মাসউদ (রাঃ) বললেন, আমার তা প্রয়োজন নেই。
টিকাঃ
১৬০ আবু দাউদ, মিশকাত, ৯৬ পৃ.
📄 উসমান রা.-এর বিচক্ষণতা
ঊনত্রিশ হিজরীতে আমীরুল মুমিনীন উসমান (রাঃ) হজ্জ্ব করতে মক্কায় গমন করেন। তিনি যখন মিনায় অবস্থান করছিলেন তখন নামায কসর না করে পূর্ণ চার রাকাত আদায় করলেন। এ খবরটি আব্দুর রহমান বিন আওফ (রাঃ)-এর কানে গিয়ে পৌঁছে। তখন আব্দুর রহমান বিন আওফ (রাঃ) তাঁর সাথীদেরকে নিয়ে নামায কসর করে চার রাকাতের পরিবর্তে দুই রাকাত আদায় করলেন। তারপর তিনি উসমান (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। তিনি তাঁকে বললেন, আপনি কি রাসুল (সাঃ)-এর সাথে এ স্থানে নামায দুই রাকাত পড়তেন? উসমান (রাঃ) বললেন, হ্যা, পড়েছি। তিনি বললেন, আবু বকরের সাথে কি দুই রাকাত করে পড়তেন? উসমান (রাঃ) বললেন, হ্যা, পড়েছি। তিনি বললেন, আপনি কি ওমরের সাথে কি দুই রাকাত করে পড়তেন? উসমান (রাঃ) বললেন, হ্যা, পড়েছি। তিনি বললেন, আপনি কি আপনার খিলাফতও শুরুত এখানে দুই রাকাত করে পড়তেন? উসমান (রাঃ) বললেন, হ্যা, পড়েছি। তারপর উসমান (রাঃ) বললেন, আবু মু’আয (আব্দুর রহমান বিন আওফ), তাহলে আমার কথা শুন, আমি খবর পেয়েছি ইয়ামান ও জুফার কিছু মানুষ গত বছর বলেছে, নামায স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্যে দুই রাকাত। কেননা উসমান বিন তোমায়ের ইমাম যিনি মক্কায় স্থায়ী হিসেবে অবস্থান নেওয়ার পরেও দুই রাকাত পড়েছেন। আর এ কারণেই মানুষের ভুল ভাঙ্গানোর জন্যে আমি কসর না করে পূর্ণ চার রাকাত আদায় করেছি। যখন আব্দুর রহমান বিন আওফ (রাঃ) দেখলেন মানুষকে ফেতনা থেকে বাঁচানোর জন্যে উসমান (রাঃ) ঠিক কাজ করেছেন তখন তিনিও মানুষকে নিয়ে নামায কসর না করে পূর্ণ চার রাকাত আদায় করেছেন。
টিকাঃ
১৬১ তারীখে তাবারী, ৩য় খণ্ড, ২৮০ পৃঃ。
১৬২ তারীখে তাবারী, ৩য় খণ্ড, ৩০৬ পৃঃ।