📄 রোগী দেখতে গেলেন উসমান রা.
একদিন উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু এক রোগীকে দেখতে গেলেন। যে অসুস্থতার কারণে বিছানা থেকে উঠতে পারছিল না।
উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু লোকটির পাশে খুবই দরদের সাথে বললেন, তুমি বল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্। তখন লোকটি ক্ষীণ আওয়াজও বলল।
এরপর উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর আশপাশের লোকদেরকে বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! লোকটি কালেমা দ্বারা তাঁর গুনাহগুলো নিক্ষেপ করে ঘূর্ণিবাতুর করে দিয়েছে।
উপস্থিত এক লোক যাঁর অন্তরে উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কথাটি গেঁথে গেছে সে বলল, আপনি কী তাকে কিছু বলতে শুনেছেন?
উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন; বরং আমি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তখন আমরা বললাম, এত এত অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এত এত ব্যক্তির জন্য তো কটুক্তি কার্যকর?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুহুদের জন্যো বেশি ধ্বংসকারী। অর্থাৎ কামনা সুস্থ ব্যক্তিদেরও গুনাহকে আরো মারাত্মকভাবে ধ্বংস করে দেয়。
টিকাঃ
১০০২ আল মুসনাদ, ইমাম আহমদ, ৮ খন্ড, ৮২ পৃঃ.
📄 আমীরের পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ
হযরত উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু সেলিম মদিনা মুনাওয়ারায় আসলেন, যেদিন লোকেরা উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছিল। লোকেরা তাঁকে বললেন, আপনিও বায়আত গ্রহণ করুন। তুলহা (রাঃ) বললেন, কুরাইশদের সকলে কী তাঁকে সমর্থন করেছে? তারা বলল, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি হযরত উসমান (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। উসমান (রাঃ) তাঁকে বললেন, এ ব্যাপারে তোমার স্বাধীনতা আছে। যদি তুমি অস্বীকার কর, তাহলে আমি খিলাফতের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিব। তিনি বললেন, ফিরিয়ে দিবেন? উসমান (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, লোকেরা সকলে কী আপনার হাতে হাত রেখে বায়আত গ্রহণ করেছে? উসমান (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে আমিও বায়আত গ্রহণ করতে রাজি আছি। সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকৃত সিদ্ধান্ত থেকে আমি পৃথক থাকতে পারি না। এ কথা বলে তিনিও বায়আত গ্রহণ করলেন。
টিকাঃ
৯২ তারীখে তাবারী, ৩য় খণ্ড, ২৪৫ পৃঃ。
📄 অপরের কাছে উপদেশ চাইলেন
হযরত হুমরান বিন আবান (রাঃ) বর্ণনা করেন, খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করার পর আমীরুল মুমিনীন উসমান (রাঃ) আব্বাস (রাঃ)-কে এক পাঠালেন। আব্বাস (রাঃ) আসার পর তিনি তাঁকে বললেন, আজ আমি আপনার উপদেশ শুনা খুব প্রয়োজন বোধ করছি। আব্বাস (রাঃ) বললেন, আপনি পাঁচটি বিষয়ের ওপর কঠোরতার সাথে আমল করুন, তাহলে জাতি কখনো আপনার বিরোধিতা করবে না। উসমান (রাঃ) বললেন, সেগুলো কী? তিনি বললেন, কাউকে হত্যা করা থেকে ধৈর্যধারণ করুন অর্থাৎ হত্যা থেকে বিরত থাকুন। লোকদের সাথে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখুন। জনগণকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন। নগ্ন ব্যবহার গ্রহণ করুন। রহস্য গোপন রাখুন。
টিকাঃ
৯৩ তারীখে তাবারী, ৩য় খণ্ড, ৩০৬ পৃঃ।
📄 খলিফার কাপড়
উসমান (রাঃ) তৎকালীন বিশিষ্ট ধনীদের একজন হওয়ার পরেও সাধারণভাবে জীবনযাপন করতেন। তাঁকে দুনিয়ার লোভ স্পর্শ করেনি। তাঁর চলাফেরা ও পোশাকের ব্যাপারে বর্ণনা করতে গিয়ে আব্দুল মালিক বিন সা’দাদ (রহ) বলেন, আমি উসমান বিন আফফান (রাঃ)-কে জুমার দিন একটি মোটা জামা পরতে দেখেছি যার মূল্য মাত্র চার দেরহাম। তিনি সে সময়ে আমীরুল মুমিনীন ছিলেন。
হযরত হাসান (রাঃ) বললেন, আমি উসমান (রাঃ)-কে দেখেছি তিনি মসজিদে ঘুমাতেন। তিনি সে সময়ে মুসলমানদের খলিফা। তারপর তিনি ঘুম থেকে উঠলেন তখন তাঁর শরীরে ছোট ছোট কঙ্করের দাগ দেখা যাচ্ছিল。
টিকাঃ
_______ ১৫৮ আহকামুল সাহারা, ২য় খণ্ড, ৬৭ পৃঃ।