📄 দিনারের অধিকারী
উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সম্পদ আল্লাহ্র রাস্তায় প্রকাশ্যে ও গোপনে দান করতেন। তিনি জান্নাতুল উসরাকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে সাজিয়েছিলেন। তাবুকের যুদ্ধের প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর যাত্রার আগ দিয়ে উসমান রdiয়াল্লাহু আনহু খুবই বিনয়ের সাথে এক হাজার দিনারের একটি ব্যাগ এনে গোপনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে দিলেন।
মুসলমানদের কঠিন সময়ে এত विशाल दान পেয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে বললেন, উসমান আজকের পরে যে আমলই করুক না কেন তাতে তার কোনো ক্ষতি হবে............ উসমান আজকের পরে যে আমলই করুক না কেন তাতে তার কোনো ক্ষতি হবে。
টিকাঃ
৯৯৯ আবু দাউদ ওয়ানুল বুদ, ১২০ পৃঃ.
📄 জান্নাতে উসমান রা.-এর বিয়ে
উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহ্ তা’আলা সন্তুষ্টির জন্যে সিরিয়া থেকে আগত তাঁর একশত উট বোঝাই করা খাদ্যসামগ্রী গরিব মুসলমানদেরকে সদকা করে দিলেন।
তিনি বললেন, আমি আল্লাহকে সাক্ষ্য রেখে বলছি, আমি এ খাদ্যসামগ্রী গরিব মুসলমানদের জন্যে সদকা করে দিলাম।
এ রাতে ইবনে আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহু স্বপ্নে দেখেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঘোড়া বা খচ্চরের পিঠে আরোহণ করে আছেন। তাঁর পায়ে নূরের জুতা, তাঁর হাতে একটি নূরের লাঠি। তিনি খুব তাড়াতাড়ি করছিলেন।
তখন ইবনে আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমি আপনার প্রতি ও আপনার কথার প্রতি খুবই আকৃষ্ট। আপনি কোথায় যেতে এত তাড়াতাড়ি করছেন?
তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস, উসমান একটি সদকা করেছে, আল্লাহ্ তা’আলা তা কবুল করেছেন এবং জান্নাতের এক হুরের সাথে তাঁর বিয়ে দিয়েছেন। আমাদেরকে সে বিয়েতে দাওয়াতও দিয়েছেন。
টিকাঃ
১০০০ আবু দাউদ ওয়ানুল বুদ, ১৮০ পৃঃ.
📄 উসমান রা. থেকে এক বালকের কিসাস গ্রহণ
উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু সমাজের সর্বোচ্চ দিক অর্জন করেন। তাঁর মতে কিসাস গ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে আত্মার সরবতার সময়ে উত্তম পরিচ্ছন্নতা।
একদিন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাঁ হাতে খুব জোর করে তাঁর কান টেনে দিলেন। তিনি এতও জোর কান টানলেন যে বালকটি প্রচণ্ড ব্যথা পেল।
কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, আমি তোমার কান টেনে দিয়েছি, তুমি তার প্রতিশোধ নাও।
বালকটি প্রতিশোধ নিতে চাইল না। প্রতিশোধ নিতে তার লজ্জা লাগছিল, কিন্তু উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু জোর করে বালকটিকে তাঁর কান ধরতে রাখলেন। তখন বালকটি উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কান আলতোভাবে ধরল।
উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু ধমক দিয়ে বললেন, জোরে মেরে দাও! তুমি দুনিয়াতে প্রতিশোধ নিও না。
টিকাঃ
১০০১ মুসনাদু আবি ইয়ালা, ২য় খন্ড, ১০৯ পৃঃ.
📄 রোগী দেখতে গেলেন উসমান রা.
একদিন উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু এক রোগীকে দেখতে গেলেন। যে অসুস্থতার কারণে বিছানা থেকে উঠতে পারছিল না।
উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু লোকটির পাশে খুবই দরদের সাথে বললেন, তুমি বল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্। তখন লোকটি ক্ষীণ আওয়াজও বলল।
এরপর উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর আশপাশের লোকদেরকে বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! লোকটি কালেমা দ্বারা তাঁর গুনাহগুলো নিক্ষেপ করে ঘূর্ণিবাতুর করে দিয়েছে।
উপস্থিত এক লোক যাঁর অন্তরে উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কথাটি গেঁথে গেছে সে বলল, আপনি কী তাকে কিছু বলতে শুনেছেন?
উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন; বরং আমি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি। তখন আমরা বললাম, এত এত অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এত এত ব্যক্তির জন্য তো কটুক্তি কার্যকর?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুহুদের জন্যো বেশি ধ্বংসকারী। অর্থাৎ কামনা সুস্থ ব্যক্তিদেরও গুনাহকে আরো মারাত্মকভাবে ধ্বংস করে দেয়。
টিকাঃ
১০০২ আল মুসনাদ, ইমাম আহমদ, ৮ খন্ড, ৮২ পৃঃ.