📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 হে আল্লাহ, আপনি উসমানকে দান করুন

📄 হে আল্লাহ, আপনি উসমানকে দান করুন


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে কোনো এক যুদ্ধে মুসলমানরা করুণ ও কঠিন অবস্থায় পতিত হলো। তাদের চেহারা দুশ্চিন্তা ছাপিয়ে ফুটে উঠল। এমন পরিস্থিতিতে দেখে মুনাফিকদের চেহারায় হাসোজ্জ্বল হয়ে উঠল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দৃশ্য দেখে বললেন, আল্লাহ্‌র শপথ! সূর্য ডুবার আগেই আল্লাহ্‌ তা‘আলা তোমাদের জন্য রিযিক নিয়ে আসবেন।
এদিকে উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু চৌদ্দটি বাহন ক্রয় করে সেগুলোর পিঠে খাবার বোঝাই করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো দেখে বললেন, এগুলো কী?
সাহাবায়ে কেরাম বললেন, উসমান আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখে হাসি ফুটে উঠল এবং তাঁর চেহারা হাসোজ্জ্বল হয়ে উঠল আর মুনাফিকদের চেহারা থেকে হাসি হারিয়ে গেল। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু-এর জন্য উপরের দিকে দুই হাত তুললেন।
ইবনে মাসউদ বলেন, তিনি এত ওপরে হাত তুললেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পাচ্ছিল। এরপর তিনি উসমানের জন্য দোয়া করতে শুরু করলেন। তিনি তাঁর জন্যে এমন দোয়া করলেন যে, আমি আর কারো জন্যে এমন দোয়া করতে দেখিনি। তিনি বলতে লাগলেন, ‘হে আল্লাহ উসমানকে দান করুন,...…হে আল্লাহ উসমানকে দান করুন।’

টিকাঃ
৯৯৪ ছালিসী ইবনুল কাইয়িম মাজায়েতে উল্লেখ করেছেন, ৯৯ খন্ড, ১।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. আল্লাহ ও রাসূল সা.-এর কাছে সম্মানিত

📄 উসমান রা. আল্লাহ ও রাসূল সা.-এর কাছে সম্মানিত


মক্কা মুকাররাবার মানুষেরা হজ্ব করতে দলে দলে এসেছে। তখন এক মহিলা আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা-এর কাছে এসে বললেন, আপনার এক সকল আপনাকে সালাম জানিয়েছে, আর সে আপনাকে উসমান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছে। কেননা মানুষ তাঁকে গালি দিচ্ছে।
তখন আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা চিন্তিত মনে বললেন, যে তাঁকে অভিশাপ দেয় তার ওপর আল্লাহ্র অভিশাপ। আল্লাহ্র শপথ! সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসা ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে পিঠ করে তার দিকে ফিরে বসেছিলেন। এমন সময় জিবরাইল তখনও আসনি। তখন তিনি উসমানকে বললেন, হে উসাইমা, তুমি লিখ। অবশ্যই সে যদি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সম্মানের পাত্র না হতো তাহলে তাকে ওহী লেখকের মর্যাদা দেওয়া হতো না。

টিকাঃ
৯৯৫ আল মুসনাদ, ইমাম আহমদ, ১৬ খন্ড, ২২০।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মসজিদ সম্প্রসারণ

📄 মসজিদ সম্প্রসারণ


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে মসজিদ নামাযের স্থান হিসেবে ব্যবহার হতো আবার সেই মসজিদেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে পাঠদান করতেন। সেখান থেকেই যুদ্ধ জিহাদের বাহিনী রওনা করত।
যখন ধীরে ধীরে বিজয় আসতে লাগল, আরবদের বিভিন্ন দল এসে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল তখন মসজিদ মাদ্রাসার জায়গা হতো না। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের পাশের জমিটি ক্রয় করে মসজিদ সম্প্রসারণ করতে চাইলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎসাহিত করার মনোভাব নিয়ে বললেন, কে আছ এ জায়গায় বুকওয়া’ ক্রয় করে মসজিদ সম্প্রসারণ করবে, বিনিময়ে সে জান্নাতে এর থেকে উত্তম জায়গা পাবে?
তখন কল্যাণেশ্বর ওফাকারী উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু নিজের সম্পদ থেকে পঁচিশ হাজার দিরহাম দিয়ে এ জায়গা ক্রয় করে দিলেন। তাঁর ক্রয়কৃত জমিতেই মসজিদ সম্প্রসারণ করা হলো。

টিকাঃ
৯৯৬ সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ২৩৬১।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমানের জন্যে নবী সা.-এর ওয়াদা

📄 উসমানের জন্যে নবী সা.-এর ওয়াদা


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুশয্যায় ক্ষীণ আওয়াজ দিয়ে বললেন, আমার কোনো এক সাহাবীকে ডাকব?
আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আবুবকরকে ডাকব? তিনি বললেন, না।
আয়েশা রdiয়াল্লাহু আনহা বললেন, ওমর? তিনি বললেন, না।
আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আপনার চাচাতো ভাই আলী? তিনি বললেন, না।
আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, উসমান? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
যখন উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রবেশ করলেন তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, তুমি একটু দূরে যাও।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে একাধিক কথা বলেছিলেন, উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কথাগুলো শুনছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যা বলেছিলেন সেগুলো শুনে তাঁর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে যেতে লাগল।
এরপর যখন উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু ও খেলাফতের শেষের দিকে বিদ্রোহীরা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করে ফেলল তখন সাহাবায়ে কেরام বললেন, আমিরুল মুমিনীন, আপনি কী যুদ্ধ করবেন না।
তিনি বললেন, না, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি ওয়াদা দিয়েছেন। আমি এ ওয়াদার ওপর ধৈর্যধারণ করব。

টিকাঃ
৯৯৭ আল মুসনাদ, ইমাম আহমদ, ১৪ খন্ড, ৮৩৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00