📄 দুই নূরের অধিকারী
আব্দুল্লাহ বিন ওমার বিন আবান আল জু‘আফী তাঁর মামা হুসাইন আল জু‘আফীর পাশে বসলেন। তাঁরা উভয়ে উসমান বিন আফফান (রাঃ)-এর জীবনী নিয়ে কথা বলেছিলেন। তখন হুসাইন আল জু‘আফী বললেন, তুমি কী জান উসমানকে কেন যুন নুরাইন (দুই নূরের অধিকারী) বলা হয়? আব্দুল্লাহ বললেন, না। তিনি বললেন, আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর থেকে এ পর্যন্ত উসমান ব্যতীত কোনো ব্যক্তি কোনো নবীর দুই মেয়েকে বিয়ে করতে পারেনি। এ কারণে তাঁকে যুন নুরাইন বলা হয়。
টিকাঃ
২৬৫ তারিখে খুলাফা, ২৪০ পৃ.
📄 উহুদ স্থির হও
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আবু বকর (রাঃ), ওমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) ওহুদ পাহাড়ে চড়লেন। তাঁরা পাহাড়ে উঠার পর পাহাড় কাঁপতে শুরু করল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওহুদ গিরি হও, তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও দুইজন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই। এখানে নবী হচ্ছেন স্বয়ং তিনি নিজে। সিদ্দিক হচ্ছেন আবু বকর (রাঃ)। আর দুই শহীদ হচ্ছেন, ওমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) যে শহীদ হবেন সে দিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিত করেছেন।
📄 উসমান নির্যাতিতদের আমীর
উসমান (রাঃ) একদিন মসজিদে নববীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র জবান থেকে হাদিস শুনাচ্ছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু আমর! কাছে আস,.......আবু আমর! কাছে আস। তিনি তাঁকে বারবার কাছে আসতে বললেন। এমনকি তাঁর হাঁটু উনার হাঁটুর সাথে মিলে গেলো। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ ‘মহান আল্লাহ্ তা‘আলার পবিত্রতা ঘোষণা করছি’ তিনি এ কথা তিনবার বললেন। তারপর তিনি উসমান (রাঃ)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, আসমানবাসীদের কাছে তোমার আলাদা মর্যাদা রয়েছে। তুমি সেই ব্যক্তি যাকে আমার হাউজে কাউসারে নিয়ে আসা হবে তখন তোমার শরীর থেকে রক্ত ঝরতে থাকবে। এ অবস্থা দেখে আমি বললাম, তোমাকে কে এমন করেছে? তখন কেউ একজন বললেন, অমুকের ছেলে অমুক। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শুনে রাখ, উসমান হচ্ছে নির্বাচিতদের আমীর。
টিকাঃ
২৬৬ ফাযায়েলে সাহাবা, ইমাম আহমদ, ২ য় খণ্ড, ৬ য় পৃ., ৮১০।
📄 হে আল্লাহ, আপনি উসমানকে দান করুন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে কোনো এক যুদ্ধে মুসলমানরা করুণ ও কঠিন অবস্থায় পতিত হলো। তাদের চেহারা দুশ্চিন্তা ছাপিয়ে ফুটে উঠল। এমন পরিস্থিতিতে দেখে মুনাফিকদের চেহারায় হাসোজ্জ্বল হয়ে উঠল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দৃশ্য দেখে বললেন, আল্লাহ্র শপথ! সূর্য ডুবার আগেই আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদের জন্য রিযিক নিয়ে আসবেন।
এদিকে উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু চৌদ্দটি বাহন ক্রয় করে সেগুলোর পিঠে খাবার বোঝাই করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো দেখে বললেন, এগুলো কী?
সাহাবায়ে কেরাম বললেন, উসমান আপনার জন্য হাদিয়া পাঠিয়েছে। এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখে হাসি ফুটে উঠল এবং তাঁর চেহারা হাসোজ্জ্বল হয়ে উঠল আর মুনাফিকদের চেহারা থেকে হাসি হারিয়ে গেল। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান রদিয়াল্লাহু আনহু-এর জন্য উপরের দিকে দুই হাত তুললেন।
ইবনে মাসউদ বলেন, তিনি এত ওপরে হাত তুললেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পাচ্ছিল। এরপর তিনি উসমানের জন্য দোয়া করতে শুরু করলেন। তিনি তাঁর জন্যে এমন দোয়া করলেন যে, আমি আর কারো জন্যে এমন দোয়া করতে দেখিনি। তিনি বলতে লাগলেন, ‘হে আল্লাহ উসমানকে দান করুন,...…হে আল্লাহ উসমানকে দান করুন।’
টিকাঃ
৯৯৪ ছালিসী ইবনুল কাইয়িম মাজায়েতে উল্লেখ করেছেন, ৯৯ খন্ড, ১।