📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 জান্নাতে উসমান রা.-এর স্ত্রী

📄 জান্নাতে উসমান রা.-এর স্ত্রী


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের এক দলের মাঝে বসেছিলেন। তিনি তাঁদেরকে জান্নাতের বিভিন্ন নেয়ামত ও জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহ্‌র ওয়াদাগুলা শুনাতে লাগলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি বসা ছিলাম, এরই মাঝে জিবরাইল আমার কাছে এসে আমাকে তাঁর ডান পাশার উপরে বসিয়ে জান্নাতে আদনে নিয়ে গেল। আমি সে জান্নাতে ছিলাম, এমন সময় একটি আপেল দের দিকে আমার দৃষ্টি পড়ল। আমি আপেলটি দুই ভাগ করার সাথে সাথে আপেলের ভেতর থেকে একটি মেয়ে বের হয়ে আসল। আমি সে মেয়ের মতো সুন্দর ও রূপবান আর দেখিনি। সে আল্লাহ্‌র এমন এক তাসবীহ জপছিল যা প্রথম (সৃষ্টি) থেকে শেষ (সৃষ্টি) পর্যন্ত কেউ শুনতে পারেনি। আমি বললাম, তুমি কে? সে বলল, আমি হুর, আমাকে আল্লাহ্‌ তা‘আলা তাঁর আরশের নূর থেকে বানিয়েছ। আমি বললাম, তুমি কার? সে বলল, আমি বিশ্বস্ত ধার্মিক নির্বাচিত খলিফা উসমান বিন আফফান (রাঃ)。

টিকাঃ
২৬৩ আল মুতাফাস্সির আলিয়া, ইবনে হাজার, ৪ৰ্থ খণ্ড, ৩২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 নবী সা. উসমানের জন্যে নিজের হাত রাখলেন

📄 নবী সা. উসমানের জন্যে নিজের হাত রাখলেন


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদিগকে নিয়ে ওমরা করার উদ্দেশ্যে মক্কায় রওনা দিলে হুদায়বিয়া নামক স্থানে সাহাবীদেরকে বাধার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করেন। এরই মধ্যে পরস্পর কথাবার্তা হচ্ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের বার্তাবাহক হিসাবে উসমান (রাঃ)-কে প্রেরণ করলেন। উসমান (রাঃ) মক্কাবাসীকে এ সংবাদ জানানো দরকার, উদ্দেশ্য ওমরা হচ্ছেনা যে, তাঁরা যুদ্ধ করতে আসেনি; বরং ওমরা করার উদ্দেশ্যে তাঁরা মক্কার আসলেন। কিন্তু অনেক সময় যাওয়ার পরও যখন উসমান (রাঃ) ফিরে আসছিলেন না তখন সাহাবায়ে কেরামদের মাঝে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ল যে, উসমান (রাঃ)-কে হত্যা করা হয়েছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ না করে আমরা ক্ষান্ত হব না। সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার জন্য হাত বাড়ালেন। তাঁরা এ কথার ওপর বাইয়াত গ্রহণ করলেন যে, তাঁরা যুদ্ধ থেকে পলায়ন করবে না প্রয়োজন শহীদ হবে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উসমানতো আল্লাহ্‌ ও আল্লাহ্‌র রাসূলের কাজে আছে। এ কথা বলে তিনি উসমান (রাঃ)-এর হাতের পরিবর্তে নিজের বাম হাত ডান হাতের উপর রাখলেন। এ কারণে সকলের হাত থেকেও উসমানের জন্য পেশকৃত হাতটি ছিল সবচেয়ে উত্তম। কেননা তার হাত ছিল স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত。

টিকাঃ
২৬৪ ইবন তিরমিযী, ৩৭৬৩, কিতাব ইবনে হিশাম, ১ ম খণ্ড, ৬২৮।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 দুই নূরের অধিকারী

📄 দুই নূরের অধিকারী


আব্দুল্লাহ বিন ওমার বিন আবান আল জু‘আফী তাঁর মামা হুসাইন আল জু‘আফীর পাশে বসলেন। তাঁরা উভয়ে উসমান বিন আফফান (রাঃ)-এর জীবনী নিয়ে কথা বলেছিলেন। তখন হুসাইন আল জু‘আফী বললেন, তুমি কী জান উসমানকে কেন যুন নুরাইন (দুই নূরের অধিকারী) বলা হয়? আব্দুল্লাহ বললেন, না। তিনি বললেন, আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করার পর থেকে এ পর্যন্ত উসমান ব্যতীত কোনো ব্যক্তি কোনো নবীর দুই মেয়েকে বিয়ে করতে পারেনি। এ কারণে তাঁকে যুন নুরাইন বলা হয়。

টিকাঃ
২৬৫ তারিখে খুলাফা, ২৪০ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উহুদ স্থির হও

📄 উহুদ স্থির হও


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আবু বকর (রাঃ), ওমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) ওহুদ পাহাড়ে চড়লেন। তাঁরা পাহাড়ে উঠার পর পাহাড় কাঁপতে শুরু করল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওহুদ গিরি হও, তোমার উপর একজন নবী, একজন সিদ্দিক ও দুইজন শহীদ ব্যতীত আর কেউ নেই। এখানে নবী হচ্ছেন স্বয়ং তিনি নিজে। সিদ্দিক হচ্ছেন আবু বকর (রাঃ)। আর দুই শহীদ হচ্ছেন, ওমর (রাঃ) ও উসমান (রাঃ) যে শহীদ হবেন সে দিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইঙ্গিত করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00