📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. জান্নাতি

📄 উসমান রা. জান্নাতি


আমি অবশ্যই রাসূল দ.-এর দরজার দারোয়ান হবো, এ কথা বলা রে আবু মুসা আশআরী রাদি. একটি লাঠি নিয়ে রওনা করলেন। এদিকে রাসূল দ. বীরে উরাইস এসে অযু করলেন। তারপর তিনি কূপের ওপর বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর আবু মুসা আশআরী রাদি. এসে তাঁকে সালাম দিলেন। তারপর তিনি সুস্থির সের মানুষের দারওয়ান হিসেসে দরজায় গিয়ে বসলেন। তিনি দরজায় গিয়ে বসার পর আবু বকর রাদি. এসে দরজায় টোকা দিলেন। আওয়াজ শুনে আবু মুসা আশআরী রাদি. বললেন, কে? আবু মুসা আশআরী রাদি. বললেন, অপেক্ষা কর। তিনি রাসূল দ.-এর কাছে গিয়ে আবু বকর রাদি. আসতে চাচ্ছেন এ কথা জানালেন।
রাসূল দ. বললেন, তাঁকে আসার অনুমতি দাও, আর সাথে সাথে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। অনুমতি পেয়ে আবু বকর রাদি. এসে রাসূল দ.-এর ডান পাশে বসলেন। এরপর আবু মুসা আশআরী রাদি. পুনরায় নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে বসলেন। কিছুক্ষণ পর আবার কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়া দিল। তিনি বললেন, কে? লোকটি বলল, ওম বিন খাত্তাব। তিনি বললেন, অপেক্ষা কর। তারপর তিনি রাসূল দ.-এর কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে বললেন, ওমর আপনার কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছে। রাসূল দ. বললেন, তাঁকে আসার অনুমতি দাও, আর সাথে সাথে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন তিনি দরজায় গিয়ে বললেন, আস, রাসূল দ. তোমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। অনুমতি পেয়ে ওমর রাদি. এসে রাসূল দ.-এর বাম পাশে বসলেন। আবার কিছুক্ষণ পর আরেক লোক এসে দরজায় কড়া নাড়া দিল। আবু মুসা আশআরী রাদি. বললেন, কে? লোকটি বলল, উসমান বিন আফফান। তিনি বললেন, অপেক্ষা কর। এরপর তিনি রাসূল দ.-কে সালাম দিয়ে বললেন, উসমান আপনার কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছে। তিনি বললেন, তাকে আসার অনুমতি দাও, আর সাথে সাথে মসিবতের সম্মুখীন হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে এ সুসংবাদও দাও। তারপর আবু মুসা রাদি. এসে রাসূল দ. তোমাকে মসিবতের সম্মুখীন হওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ দিয়েছেন। তখন উসমান রাদি. চিন্তিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহ, ধৈর্য চাই。

টিকাঃ
২৩৬. মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৪০১।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তুমি আল্লাহর জামা খুলে ফেলো না

📄 তুমি আল্লাহর জামা খুলে ফেলো না


নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে পাঠালেন। উসমান (রাঃ) তাঁর কাছে আসলে তিনি তাঁর সাথে অনেকক্ষণ যাবত কথাবার্তা বললেন। এরপর তিনি তাঁর কাঁধে মৃদু আঘাতে হাত রেখে বললেন, উসমান, সম্ভবত আল্লাহ্‌ তা‘আলা তোমাকে একটি জামা পরিধান করাবে। যদি মুনাফিকরা সে জামা খুলে ফেলতে চায় তুমি তা খুলবে না যতক্ষণ না আমার সাথে মিলিত হও। এ কথাটি তিনি তিন বার বললেন。

টিকাঃ
২৫৯ আল মুসনাদ, ইমাম আহমদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৮৬। ফাযায়েল, ৮৬৯।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 দুঃসময়ের সৈন্যদল

📄 দুঃসময়ের সৈন্যদল


দান করলে মানুষে আলোচনাধর্মী হয়। সম্পদতো হাতের ময়লা। যে সম্পদ অন্বেষণ করতে যাই সেটি তাকে সে পথে নিয়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'শ ভাগাভাগিতে হৃদয় মিশে উঠলেন। তিনি মানুষকে জিহাদ দান করার জন্য উৎসাহিত করতে গিয়ে বললেন, কে জায়সুল উসরার সজ্জিত করবে? জায়সুল উসরা অর্থ দুঃসময়ের সেনাদল বা অভাবে গঠিত সেনাদল। এ কথা বলার পর তাঁর দৃষ্টি একের পর একের দিকে যেতে লাগল। সকলের মাঝে নীরবতা বিরাজ করছিল। এমন সময় উসমান (রাঃ) বললেন, আমি একশত উট ও সেগুলোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলাম। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় আবার ঘোষণা দিলেন, কে জায়সুল উসরাকে সজ্জিত করবে? উসমান (রাঃ) আবার দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আমি দুইশত উট ও সেগুলোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলাম। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়বারের মতো আওয়াজ উঁচু করে বললেন, কে জায়সুল উসরাকে সজ্জিত করবে? উসমান (রাঃ) আবারও তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন, আমি তিনশত উট ও সেগুলোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে নেমে হাসোজ্জ্বল হয়ে বলতে লাগলেন, এরপর উসমান (রাঃ) যাই করুক না কেন তার কোনো ক্ষতি হবে না, এরপর উসমান (রাঃ) যাই করুক না কেন তার কোনো ক্ষতি হবে না। অর্থাৎ উসমান (রাঃ) যে আমলই করুন না কেন তিনি জান্নাতেই যাবেন。

টিকাঃ
২৬০ তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং ৩৭০০।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমরা উসমানকে অনুসরণ কর

📄 তোমরা উসমানকে অনুসরণ কর


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবেহ আলতার উঠান পথ থেকে দূরে বড় একটি গাছের ছায়ায় বসলেন। তার পাশে একজন লেখক ছিল, তিনি লেখকের দিকে ফিরে বসেছিলেন, আর লেখক তাঁর কথাগুলো কলমের কালিতে লিখে সাজাচ্ছিলেন। এমন সময় আব্দুল্লাহ বিন হাওয়ালা আল আজদী সেখানে আসলেন।
তিনি আসলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, ইবনে হাওয়ালা, আমরা কী তোমার নাম লিখব? তিনি বললেন, কোথায় হে আল্লাহ্‌র রাসূল? ইবনে হাওয়ালা বললেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে দিয়ে আবার লেখকের দিকে মনোযোগী হলেন। তিনি আবার মাথা উঁচু করে বললেন, ইবনে হাওয়ালা, আমরা কী তোমার নাম লিখব? আমি বললাম, কোথায় হে আল্লাহ্‌র রাসূল? আমার প্রশ্নে তিনি আবারও আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে দিয়ে লেখকের দিকে মনোযোগী হলেন। তখন আমি বইটির দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেখানে ওমরের নাম লেখা, আমি ভাবলাম ওমরের নাম তো ভালো কাজ ব্যতীত কোথাও লেখা হবে না। এরপর তিনি আবার বললেন, ইবনে হাওয়ালা, আমরা কী তোমার নাম লিখব? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, ইবনে হাওয়ালা, যখন গরুর শিংয়ের মতো ফেতনা পৃথিবীর চারদিক থেকে তেড়ে আসবে তখন তুমি কী করবে? আমি বললাম, আমি জানি না, আল্লাহ্‌ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য কী পছন্দ করে রেখেছেন। তিনি বললেন, তখন তুমি কী করবে যখন সে ফেতনার পরে আরেক ফেতনা তেড়ে আসবে যে ফেতনার তুলনায় প্রথম ফেতনাটি মাত্র খরগোশের একটি ফুঁকের মতো মনে হবে। আমি বললাম, আমি জানি না, আল্লাহ্‌ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য কী পছন্দ করে রেখেছেন। তিনি বললেন, এক অনুসরণ করবে। এ কথা বলে তিনি এক লোকের দিকে ইশারা করলেন। যে লোকটি তখন চালানে ঢাকা ছিলেন। তখন ইবনে হাওয়ালা লোকটির কাছে গিয়ে কাঁধ ধরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে এসে বললেন, এ লোক? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। তখন ইবনে হাওয়ালা লোকটির চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখলেন তিনি হচ্ছেন উসমান ইবন আফফান (রাঃ)。

টিকাঃ
২৬১ ইমাম আহমদ হাদিসটি এনেছেন, ৪র্থ খণ্ড, ১০৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00