📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. ও কূপের ইহুদি মালিক

📄 উসমান রা. ও কূপের ইহুদি মালিক


উসমান দ.-এর ব্যবহার ছিল হৃদয় ছোঁয়ার মতো। তাঁর ব্যবহারকে তাঁর দানশীলতা আরো বেশি ও ওপরে ধরেছিল। হিজরত করে মদিনায় আগমন করার পর যখন مسلمانوں মন সেখানে স্থির ছিল। মদিনার তাঁদের জীবন ভালো চলতো লাগল, কিন্তু মুসলমানগণ সেবানে সবচেয়ে বেশি বিপদে পদলন পানি নিয়ে। মদিনাতে শুধু একটি কূপেই মিঠা পানি পাওয়া যেত। কূপটি 'রুম' কূয়া নামে পরিচিত ছিল। কূপটির মালিক ছিল এক ইহুদি। সে কূপটির পানি বিক্রি করত, কিন্তু মুসলমানদের সবার কাছে পানি ক্রয় করে খাওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। এ কারণে পানির অভাবে তাঁরা বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হলেন। বিষয়টি রাসূল দ.-কে খুবই চিন্তিত করল। তাই তিনি মানুষদেরকে একত্রিত করে নসিহত করলেন এবং এ কূপটি ক্রয় করার প্রতি উৎসাহিত করতে লাগলেন। তিনি বললেন, কে আছ কুপটি ক্রয় করে তার বালতির সাথে মুসলমানদের বালতিও রাখবে আর বিনিময়ে জান্নাতে যে অনেক উত্তম কিছু লাভ করবে?
নবী দ.-এর কথাগুলো উসমান দ.-এর কানেও প্রতিধ্বনিত হলো। তাঁর অন্তরে কথাটি প্রভাবিত করল। তিনি রাসূল দ.-এর ঘোষিত পুরস্কার পাওয়ার আশায় সবার আগে ছুটে চললেন। তারপর অর্থকড়ি জমা করে ইহুদির কাছে গিয়ে দর কষাকষি করে বারো হাজার দেরহামের কূপটির অর্ধেক অংশ ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিলেন। তখন মুসলমানরা সে কুপ থেকে পানি পান করা শুরু করেছে। কূপটির পানি প্রতি দুই দিনের একদিন উসমান দ.-এর ভাগে ছিল। যার ফলে দিনের বেলা মুসলমানগণ সেখান থেকে পানি নিয়ে জমা রাখত। তখন ইহুদি লোকটি বলল, উসমান, তুমি আমার কূপটি নষ্ট করে দিয়েছ। সুতরাং আট হাজার দেরহামে কূপের বাকি অংশও কিনে নাও。

টিকাঃ
২৩৫. তিরমিযী শরীফ, ৩৭০৬ নং হাদীস।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা. জান্নাতি

📄 উসমান রা. জান্নাতি


আমি অবশ্যই রাসূল দ.-এর দরজার দারোয়ান হবো, এ কথা বলা রে আবু মুসা আশআরী রাদি. একটি লাঠি নিয়ে রওনা করলেন। এদিকে রাসূল দ. বীরে উরাইস এসে অযু করলেন। তারপর তিনি কূপের ওপর বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর আবু মুসা আশআরী রাদি. এসে তাঁকে সালাম দিলেন। তারপর তিনি সুস্থির সের মানুষের দারওয়ান হিসেসে দরজায় গিয়ে বসলেন। তিনি দরজায় গিয়ে বসার পর আবু বকর রাদি. এসে দরজায় টোকা দিলেন। আওয়াজ শুনে আবু মুসা আশআরী রাদি. বললেন, কে? আবু মুসা আশআরী রাদি. বললেন, অপেক্ষা কর। তিনি রাসূল দ.-এর কাছে গিয়ে আবু বকর রাদি. আসতে চাচ্ছেন এ কথা জানালেন।
রাসূল দ. বললেন, তাঁকে আসার অনুমতি দাও, আর সাথে সাথে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। অনুমতি পেয়ে আবু বকর রাদি. এসে রাসূল দ.-এর ডান পাশে বসলেন। এরপর আবু মুসা আশআরী রাদি. পুনরায় নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে বসলেন। কিছুক্ষণ পর আবার কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়া দিল। তিনি বললেন, কে? লোকটি বলল, ওম বিন খাত্তাব। তিনি বললেন, অপেক্ষা কর। তারপর তিনি রাসূল দ.-এর কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে বললেন, ওমর আপনার কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছে। রাসূল দ. বললেন, তাঁকে আসার অনুমতি দাও, আর সাথে সাথে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন তিনি দরজায় গিয়ে বললেন, আস, রাসূল দ. তোমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। অনুমতি পেয়ে ওমর রাদি. এসে রাসূল দ.-এর বাম পাশে বসলেন। আবার কিছুক্ষণ পর আরেক লোক এসে দরজায় কড়া নাড়া দিল। আবু মুসা আশআরী রাদি. বললেন, কে? লোকটি বলল, উসমান বিন আফফান। তিনি বললেন, অপেক্ষা কর। এরপর তিনি রাসূল দ.-কে সালাম দিয়ে বললেন, উসমান আপনার কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছে। তিনি বললেন, তাকে আসার অনুমতি দাও, আর সাথে সাথে মসিবতের সম্মুখীন হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে এ সুসংবাদও দাও। তারপর আবু মুসা রাদি. এসে রাসূল দ. তোমাকে মসিবতের সম্মুখীন হওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ দিয়েছেন। তখন উসমান রাদি. চিন্তিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহ, ধৈর্য চাই。

টিকাঃ
২৩৬. মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৪০১।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তুমি আল্লাহর জামা খুলে ফেলো না

📄 তুমি আল্লাহর জামা খুলে ফেলো না


নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে পাঠালেন। উসমান (রাঃ) তাঁর কাছে আসলে তিনি তাঁর সাথে অনেকক্ষণ যাবত কথাবার্তা বললেন। এরপর তিনি তাঁর কাঁধে মৃদু আঘাতে হাত রেখে বললেন, উসমান, সম্ভবত আল্লাহ্‌ তা‘আলা তোমাকে একটি জামা পরিধান করাবে। যদি মুনাফিকরা সে জামা খুলে ফেলতে চায় তুমি তা খুলবে না যতক্ষণ না আমার সাথে মিলিত হও। এ কথাটি তিনি তিন বার বললেন。

টিকাঃ
২৫৯ আল মুসনাদ, ইমাম আহমদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৮৬। ফাযায়েল, ৮৬৯।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 দুঃসময়ের সৈন্যদল

📄 দুঃসময়ের সৈন্যদল


দান করলে মানুষে আলোচনাধর্মী হয়। সম্পদতো হাতের ময়লা। যে সম্পদ অন্বেষণ করতে যাই সেটি তাকে সে পথে নিয়ে যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'শ ভাগাভাগিতে হৃদয় মিশে উঠলেন। তিনি মানুষকে জিহাদ দান করার জন্য উৎসাহিত করতে গিয়ে বললেন, কে জায়সুল উসরার সজ্জিত করবে? জায়সুল উসরা অর্থ দুঃসময়ের সেনাদল বা অভাবে গঠিত সেনাদল। এ কথা বলার পর তাঁর দৃষ্টি একের পর একের দিকে যেতে লাগল। সকলের মাঝে নীরবতা বিরাজ করছিল। এমন সময় উসমান (রাঃ) বললেন, আমি একশত উট ও সেগুলোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলাম। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় আবার ঘোষণা দিলেন, কে জায়সুল উসরাকে সজ্জিত করবে? উসমান (রাঃ) আবার দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল, আমি দুইশত উট ও সেগুলোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলাম। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়বারের মতো আওয়াজ উঁচু করে বললেন, কে জায়সুল উসরাকে সজ্জিত করবে? উসমান (রাঃ) আবারও তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন, আমি তিনশত উট ও সেগুলোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে নেমে হাসোজ্জ্বল হয়ে বলতে লাগলেন, এরপর উসমান (রাঃ) যাই করুক না কেন তার কোনো ক্ষতি হবে না, এরপর উসমান (রাঃ) যাই করুক না কেন তার কোনো ক্ষতি হবে না। অর্থাৎ উসমান (রাঃ) যে আমলই করুন না কেন তিনি জান্নাতেই যাবেন。

টিকাঃ
২৬০ তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং ৩৭০০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00