📄 আমি উসমানের ওপর সন্তুষ্ট
রাসূল দ.-এর পরিবারের সদস্যরা চারদিন ধরে ক্ষুধার্ত। খাবার না পেয়ে তাঁদের পেট আর সহজে পরিপূর্ণ না। ক্ষুধায় বাচ্চারা কান্নাকাটি করছিল। এ কঠিন পরিস্থিতিতে রাসূল দ. আয়েশা রাদি.-এর কাছে এসে বললেন, আয়েশা, আমি ফাওয়ার পরে কি তোমরা কিছু পেয়েছ? তিনি বললেন, কোথায় থেকে? কতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলা আপনার হাত দ্বারা কিছুই ব্যবসা করেন। তখন রাসূল দ. অণু করে নামাযে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর কাছে খুব বিনয়ের সাথে কান্নাকাটি করে প্রার্থনা করতে লাগলেন। দিনের শেষ দিকে উসমান রাদি. খাবার-দাবার নিয়ে আসলেন। তিনি ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলেন। তখন আয়েশা রাদি. নিজেকে আড়ালে রাখতে চাইলেন। তারপর তিনি তাঁকে ঘরে আসার অনুমতি দিলেন। ঘরে প্রবেশ করে উসমান রাদি. বললেন, মা, রাসূল দ. কোথায়? তিনি বললেন, বেটা, মুহাম্মাদের পরিবার আজ চার দিন ধরে কোনোোকিছু খেতে পারেনি। এ কথা শুনে উসমান রাদি. প্রচণ্ড কান্না শুরু করলেন। তাঁর চোখের অশ্রু অঝোর ধারে প্রবাহিত হতে লাগল। কান্না জড়িতকণ্ঠে তিনি বলতে লাগলেন, দুনিয়ার সাথে শত্রুতা পোষণ করলাম। এরপর তিনি দ্রুত বাতাসের ন্যায় ছুটে গিয়ে রাসূল দ.-এর পরিবারের জন্য গপ্ন, আটা, খেজুরের বস্তা ও একটি চামড়া ছাগল ছাগল পাঠিয়ে দিলেন। সাথে তিন শত দিরহামও দিলেন। এরলাও আসো ও তৈরি হতে তো সময় লাগবে তাই তিনি কিছু রুটি ও ভূনা গোস্ত আগেই পাঠিয়ে দিলেন। এমন পুণ্যের কাজ করতে পেরে তিনি মৃদু হেসে তাঁদেরকে বলতে লাগলেন, আপনারা খেয়ে নিন, রাসূল দ. আসার আগেই তাঁর জন্যও তৈরি করে রাখুন।
এরপর তিনি আয়েশা রাদি.-এর কাছে গিয়ে আল্লাহর দোহাই দিয়ে তাঁকে অনুরোধ করে বললেন, রাসূল দ.-এর ঘরে এরকম পরিস্থিতি হলে তিনি যেন তাঁকে জানান। এক কিছুক্ষণ পর রাসূল দ. এসে বললেন, আমি ফাওয়ার পর কি তোমাদের কাছে কিছু এসেছে? তখন আয়েশা রাদি. হাসোজ্জ্বল চেহারায় বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। আমি জেনেছি আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে বের হয়েছিলেন। আর আমি এও জেনেছি আল্লাহ তা'আলা আপনার দোয়া ফিরিয়ে দিবেন না। তিনি বললেন, তোমরা কী কী পেয়েছ? আয়েশা রাদি. তাঁকে আটা, গম ও খেজুরসহ আরো আরো সবগুলোর কথা জানালেন। তিনি বললেন, কার পক্ষ থেকে এসেছে? তিনি বললেন, উসমান বিন আফফান রাদি.-এর পক্ষ থেকে। তিনি আমার কাছে এসেছেন, তখন আমি আমাদের অবস্থা বললাম তিনি তা শুনে খুবই কান্নাকাটি করলেন। তিনি দুনিয়ার ও ওপর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এও এমন পরিস্থিতি হলে আমি যেন তাঁকে জানাই সে জন্যো কসম দিয়ে অনুরোধ করে গেলেন। এ কথা শুনার পর রাসূল দ. একটু বসুনও নি, ক্ষুধার্ত হওয়ার পরেও কোনো খানা গ্রহণ করেননি; বরং সাথে সাথে মসজিদেরে দিকে ছুটে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আমি উসমানের ওপর সন্তষ্ট হয়ে গেছি, আপনিও তাঁর ওপর সন্তষ্ট হয়ে যান.........এ কথা তিনি তিনবার বললেন。
টিকাঃ
২৩৩. আবু বিকার ওয়ার্দী ওয়াল বুবা, ইবনে কুদামা, ১৮২ পৃ.
📄 রাসূল সা.-এর সাথে চারিত্রিক মিল
একদিন রাসূল দ. তাঁর মেয়ে উম্মে কুলছুম র.-এর ঘরে এসে দেখতে পেলেন, তিনি তাঁর স্বামী উসমানের মাথা ধুয়ে দিচ্ছে। তখন রাসূল দ. বললেন, হে আমার মেয়ে আব্দুল্লাহ বাবার (উসমান) সাথে সদ্ব্যবহার কর, কেননা আমার সাহাবীদের মধ্যে সে চারিত্রিক দিক দিয়ে আমার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ。
টিকাঃ
২৩৪. তাহবীব হাদীসাতি আবি মাজমাওত তাহবীব করেছি, নং ১৮০৬০০। এর বর্ণনাখারীরা সহীহ।
📄 উসমান রা. ও কূপের ইহুদি মালিক
উসমান দ.-এর ব্যবহার ছিল হৃদয় ছোঁয়ার মতো। তাঁর ব্যবহারকে তাঁর দানশীলতা আরো বেশি ও ওপরে ধরেছিল। হিজরত করে মদিনায় আগমন করার পর যখন مسلمانوں মন সেখানে স্থির ছিল। মদিনার তাঁদের জীবন ভালো চলতো লাগল, কিন্তু মুসলমানগণ সেবানে সবচেয়ে বেশি বিপদে পদলন পানি নিয়ে। মদিনাতে শুধু একটি কূপেই মিঠা পানি পাওয়া যেত। কূপটি 'রুম' কূয়া নামে পরিচিত ছিল। কূপটির মালিক ছিল এক ইহুদি। সে কূপটির পানি বিক্রি করত, কিন্তু মুসলমানদের সবার কাছে পানি ক্রয় করে খাওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না। এ কারণে পানির অভাবে তাঁরা বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হলেন। বিষয়টি রাসূল দ.-কে খুবই চিন্তিত করল। তাই তিনি মানুষদেরকে একত্রিত করে নসিহত করলেন এবং এ কূপটি ক্রয় করার প্রতি উৎসাহিত করতে লাগলেন। তিনি বললেন, কে আছ কুপটি ক্রয় করে তার বালতির সাথে মুসলমানদের বালতিও রাখবে আর বিনিময়ে জান্নাতে যে অনেক উত্তম কিছু লাভ করবে?
নবী দ.-এর কথাগুলো উসমান দ.-এর কানেও প্রতিধ্বনিত হলো। তাঁর অন্তরে কথাটি প্রভাবিত করল। তিনি রাসূল দ.-এর ঘোষিত পুরস্কার পাওয়ার আশায় সবার আগে ছুটে চললেন। তারপর অর্থকড়ি জমা করে ইহুদির কাছে গিয়ে দর কষাকষি করে বারো হাজার দেরহামের কূপটির অর্ধেক অংশ ক্রয় করে মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করে দিলেন। তখন মুসলমানরা সে কুপ থেকে পানি পান করা শুরু করেছে। কূপটির পানি প্রতি দুই দিনের একদিন উসমান দ.-এর ভাগে ছিল। যার ফলে দিনের বেলা মুসলমানগণ সেখান থেকে পানি নিয়ে জমা রাখত। তখন ইহুদি লোকটি বলল, উসমান, তুমি আমার কূপটি নষ্ট করে দিয়েছ। সুতরাং আট হাজার দেরহামে কূপের বাকি অংশও কিনে নাও。
টিকাঃ
২৩৫. তিরমিযী শরীফ, ৩৭০৬ নং হাদীস।
📄 উসমান রা. জান্নাতি
আমি অবশ্যই রাসূল দ.-এর দরজার দারোয়ান হবো, এ কথা বলা রে আবু মুসা আশআরী রাদি. একটি লাঠি নিয়ে রওনা করলেন। এদিকে রাসূল দ. বীরে উরাইস এসে অযু করলেন। তারপর তিনি কূপের ওপর বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর আবু মুসা আশআরী রাদি. এসে তাঁকে সালাম দিলেন। তারপর তিনি সুস্থির সের মানুষের দারওয়ান হিসেসে দরজায় গিয়ে বসলেন। তিনি দরজায় গিয়ে বসার পর আবু বকর রাদি. এসে দরজায় টোকা দিলেন। আওয়াজ শুনে আবু মুসা আশআরী রাদি. বললেন, কে? আবু মুসা আশআরী রাদি. বললেন, অপেক্ষা কর। তিনি রাসূল দ.-এর কাছে গিয়ে আবু বকর রাদি. আসতে চাচ্ছেন এ কথা জানালেন।
রাসূল দ. বললেন, তাঁকে আসার অনুমতি দাও, আর সাথে সাথে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। অনুমতি পেয়ে আবু বকর রাদি. এসে রাসূল দ.-এর ডান পাশে বসলেন। এরপর আবু মুসা আশআরী রাদি. পুনরায় নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে বসলেন। কিছুক্ষণ পর আবার কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়া দিল। তিনি বললেন, কে? লোকটি বলল, ওম বিন খাত্তাব। তিনি বললেন, অপেক্ষা কর। তারপর তিনি রাসূল দ.-এর কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে বললেন, ওমর আপনার কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছে। রাসূল দ. বললেন, তাঁকে আসার অনুমতি দাও, আর সাথে সাথে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তখন তিনি দরজায় গিয়ে বললেন, আস, রাসূল দ. তোমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। অনুমতি পেয়ে ওমর রাদি. এসে রাসূল দ.-এর বাম পাশে বসলেন। আবার কিছুক্ষণ পর আরেক লোক এসে দরজায় কড়া নাড়া দিল। আবু মুসা আশআরী রাদি. বললেন, কে? লোকটি বলল, উসমান বিন আফফান। তিনি বললেন, অপেক্ষা কর। এরপর তিনি রাসূল দ.-কে সালাম দিয়ে বললেন, উসমান আপনার কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছে। তিনি বললেন, তাকে আসার অনুমতি দাও, আর সাথে সাথে মসিবতের সম্মুখীন হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে এ সুসংবাদও দাও। তারপর আবু মুসা রাদি. এসে রাসূল দ. তোমাকে মসিবতের সম্মুখীন হওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ দিয়েছেন। তখন উসমান রাদি. চিন্তিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহ, ধৈর্য চাই。
টিকাঃ
২৩৬. মুসলিম শরীফ, হাদীস নং ২৪০১।