📄 সবচেয়ে উত্তম স্বামী স্ত্রী
রাসূল প্রিয় পালকপুত্র যায়েদের ছেলে উসামা -কে একটি গোত্রের পাত্র নিয়ে উসমান -এর বাড়ির দিকে রওনা দিলেন। সে গোত্রের পাত্রটি রাসূল তাঁর মেয়ে রুকাইয়া তাঁর জামাতা উসমান -এর জন্য হাদিয়া হিসেবে প্রেরণ করতে চেয়েছেন। উসামা তখন ছোট ছিলেন। তিনি তাঁর বাবার মতো রাসূল -এর কাছে অনেক প্রিয় ছিলেন। উসামা তাদের ঘরে প্রবেশ করলেন, রুকাইয়া বসে আছেন। তখন তিনি এসব কথা রুকাইয়া -এর দিকে তাকালেন আবার তাঁর স্বামী উসমান -এর দিকে তাকালেন। তাদের পাত্রটি দিয়ে এসে তিনি রাসূল -এর কাছে ফিরে এলেন। তখন রাসূল -তাকে বললেন, তুমি কী তাদের ঘরে গিয়েছিলে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল বললেন, তুমি কী তাদের থেকে উত্তম কোনো স্বামী স্ত্রী দেখেছ?
তিনি বললেন, না, হে আল্লাহ্র রাসূল!
📄 উসমান রা.-এর হাবশায় হিজরত
-এর দেহ কেটেছে আঘাতেই জর্জরিত। কুফ্ফার কাঁটাগুলো তাঁর পোশাককে বিদীর্ণ করার চেষ্টা করেছিল। এ অসহনীয় নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্যে তিনি হিজরত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি প্রথম পরিবার-পরিজনসহ হাবশায় হিজরত করেছেন। তাদের হিজরত করার সিদ্ধান্ত নবী করীম -এর কানে এসে পৌঁছে। তখন থেকে তিনি তাঁদের অবস্থার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতে লাগলেন। এরই মধ্যে এক মহিলা এসে বলল, আব্দুল কায়স! ...আমি আপনার জামাতাকে সকরু তরু করতে দেখেছি। তাঁর স্ত্রী একটি দুর্বল গাধার উপর আর সে নিজে গাধাটিকে হাঁকিয়ে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তখন নবী করীম বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁদের সহায়ক হোন। শূ (আ)-এর পর উসমানের প্রথম পরিবারসহ হিজরত করেছেন。
টিকাঃ
১৮৩ তারিখুল খুলাফা ২৪২ পৃ.
📄 উম্মে কুলসুম রা. ও উসমান রা.-এর বিয়ে
খুব অসুস্থ হওয়ার পর সাইয়্যিদা রুকাইয়া মদিনায় ইন্তিকাল করেন। তাঁর পবিত্র কর অত্যন্ত ভদ্র ও আত্মমর্যাদাবান ছিলেন। তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যপূর্ণ জীবনযাপন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে উসমান খুবই মর্মাহত হলেন। যেন দুঃখ ও বেদনা তাঁকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। তবুও তিনি কঠিন দুঃখ ও মসবৃত তাঁর আহত হৃদয় চেপে রেখেছেন। কাউকে তা বলতেন না। নিজের দুঃখ নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখা তিনি পছন্দ করতেন। এভাবে দিনের পর দিন অতিবাহিত হতে লাগল। এরই মধ্যে একদিন উসমান নবী করীম -এর সাথে দেখা করলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, উসমান! ইনি হচ্ছেন জিবরাঈল, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা রুকাইয়া মোহরানা তোমার মোহরানা স্বরে উম্মে কুলসুমকে তোমার সাথে বিয়ে দিয়েছেন। নবী করীম বললেন, আমি আসমানের অধী পেইয়ে উসমানের সাথে উম্মে কুলসুমকে বিয়ে দিয়েছি。
টিকাঃ
১৮৪ আল মু'জামুল কাবীর, ৪১ খন্ড, ৩১ পৃ.।
১৮৫ ইবনে মাজাহ হাদিসটি দুর্বল সনদে এনেছেন, ১১০।
১৮৬ হাদিসটি আলফাসাত আর মাজমাবে উল্লেখ করেছেন, ১খন্ড, ৮৫ পৃ.
📄 যদি আমার আরেকজন মেয়ে থাকত
হাদী আমার আরেকজন মেয়ে থাকে উমম হিযিরিঁর শাহাবান মানে রাসূল দ.-এর মেয়ে উমম কুলছুম র. যিনি উসমান র.-এর স্ত্রী, তিনি কঠিন অসুস্থ হওয়ার কিছুদিন পর ইন্তিকাল করেন। নবী করীম দ. তাঁর জানাযার নামায আদায় করেন। তিনি তাঁর কবরের পাশে বসলেন। ওহীদিকে তাঁর দুই চোখের অশ্রু অঝোর ধারে ঝরতে লাগল। উসমান র.ও একে একে স্ত্রী উমম কুলছুম র. ও রুকাইয়াকে হারানোর শোকে খুবই মমাহত হলেন। তখন নবী করীম দ. তাঁর কানে কানে বললেন, যদি আমার আরেকজন মেয়ে থাকত তবে তাঁকেও আমি তোমার সাথে বিয়ে দিতাম。
টিকাঃ
২৩০. মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৭ম খণ্ড, ৪১ পৃ.