📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর বিয়ে

📄 উসমান রা.-এর বিয়ে


আবু লাহাব ও তাঁর স্ত্রী উম্মে জামিলের মুখের বিরাত্রীর বারবার নবী ও তাঁর নতুন ধর্মের দিকে উগ্র বেগে ছুটে এসে আঘাত করেছিল। তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করে এর প্রতিরোধ রোধ করেন। তিনি বলেন, أَبُو لَهَبٍ وَتَبَّ ۜ مَا أَغۡنَىٰ عَنۡهُ مَالُهُۥ وَمَا كَسَبَ ۜ "আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হয়ে গেছে, সে নিজেও ধ্বংস হয়ে গেছে।" এতে আবু লাহাব খুবই রেগে গেল। সে এর প্রতিশোধ নিতে চাইল। তাঁর দুই ছেলেকে রাসূল -এর মেয়ে রুকাইয়া ও উম্মু কুলসুম তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। তখন তাঁর ছেলেরা রাসূল -এর মেয়েদেরকে তালাক দিয়ে দিল। বিয়েতে হাতে গোনা অল্প লোক উপস্থিত হয়েছিল। সে বিয়েতে কেবল রাসূল , উসমান ও তাদের পরিবার এবং কয়েকজন মাত্র উপস্থিত ছিল। এত বড় বিয়ের অনুষ্ঠানে হযরত উসমান ও হযরত রুকাইয়া একে অপরকে পেয়ে যেন বেহেশতে এসে পৌঁছালেন। তারা খুবই খুশি ছিলেন। মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূল -এর সম্মানে তাদের দুজনকে মিলিয়ে দিয়েছেন। এ খবর মক্কায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। খবরটি উসমান -এর কানেও গেল। তিনি কৃতজ্ঞ নবী করীম -এর কাছে গিয়ে রুকাইয়া -এর জন্য প্রস্তাব দিলেন। নবী করীম তাঁর প্রস্তাব গ্রহণ করে তাঁর সাথে তাঁর মেয়ে রুকাইয়াকে বিয়ে দিলেন। বিবাহিতের মধ্যে উসমান ও রুকাইয়া -এর জুটি অনেক মানানসই ছিল। লোকে মুখে মুখে এ কথা রটে গেল। তারা বলত লাশন, আমরা উসমান ও রুকাইয়ার মতো সুন্দর জুটি আর দেখিনি。

টিকাঃ
১৮২ তাহযীবুল কামাল আয মানান ফি সীরাতে উসমান বিন আফ্ফান, ২১ পৃ。

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সবচেয়ে উত্তম স্বামী স্ত্রী

📄 সবচেয়ে উত্তম স্বামী স্ত্রী


রাসূল প্রিয় পালকপুত্র যায়েদের ছেলে উসামা -কে একটি গোত্রের পাত্র নিয়ে উসমান -এর বাড়ির দিকে রওনা দিলেন। সে গোত্রের পাত্রটি রাসূল তাঁর মেয়ে রুকাইয়া তাঁর জামাতা উসমান -এর জন্য হাদিয়া হিসেবে প্রেরণ করতে চেয়েছেন। উসামা তখন ছোট ছিলেন। তিনি তাঁর বাবার মতো রাসূল -এর কাছে অনেক প্রিয় ছিলেন। উসামা তাদের ঘরে প্রবেশ করলেন, রুকাইয়া বসে আছেন। তখন তিনি এসব কথা রুকাইয়া -এর দিকে তাকালেন আবার তাঁর স্বামী উসমান -এর দিকে তাকালেন। তাদের পাত্রটি দিয়ে এসে তিনি রাসূল -এর কাছে ফিরে এলেন। তখন রাসূল -তাকে বললেন, তুমি কী তাদের ঘরে গিয়েছিলে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাসূল বললেন, তুমি কী তাদের থেকে উত্তম কোনো স্বামী স্ত্রী দেখেছ?
তিনি বললেন, না, হে আল্লাহ্র রাসূল!

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উসমান রা.-এর হাবশায় হিজরত

📄 উসমান রা.-এর হাবশায় হিজরত


-এর দেহ কেটেছে আঘাতেই জর্জরিত। কুফ্ফার কাঁটাগুলো তাঁর পোশাককে বিদীর্ণ করার চেষ্টা করেছিল। এ অসহনীয় নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্যে তিনি হিজরত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি প্রথম পরিবার-পরিজনসহ হাবশায় হিজরত করেছেন। তাদের হিজরত করার সিদ্ধান্ত নবী করীম -এর কানে এসে পৌঁছে। তখন থেকে তিনি তাঁদের অবস্থার অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর রাখতে লাগলেন। এরই মধ্যে এক মহিলা এসে বলল, আব্দুল কায়স! ...আমি আপনার জামাতাকে সকরু তরু করতে দেখেছি। তাঁর স্ত্রী একটি দুর্বল গাধার উপর আর সে নিজে গাধাটিকে হাঁকিয়ে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তখন নবী করীম বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁদের সহায়ক হোন। শূ (আ)-এর পর উসমানের প্রথম পরিবারসহ হিজরত করেছেন。

টিকাঃ
১৮৩ তারিখুল খুলাফা ২৪২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উম্মে কুলসুম রা. ও উসমান রা.-এর বিয়ে

📄 উম্মে কুলসুম রা. ও উসমান রা.-এর বিয়ে


খুব অসুস্থ হওয়ার পর সাইয়্যিদা রুকাইয়া মদিনায় ইন্তিকাল করেন। তাঁর পবিত্র কর অত্যন্ত ভদ্র ও আত্মমর্যাদাবান ছিলেন। তিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যপূর্ণ জীবনযাপন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে উসমান খুবই মর্মাহত হলেন। যেন দুঃখ ও বেদনা তাঁকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে। তবুও তিনি কঠিন দুঃখ ও মসবৃত তাঁর আহত হৃদয় চেপে রেখেছেন। কাউকে তা বলতেন না। নিজের দুঃখ নিজের মাঝে লুকিয়ে রাখা তিনি পছন্দ করতেন। এভাবে দিনের পর দিন অতিবাহিত হতে লাগল। এরই মধ্যে একদিন উসমান নবী করীম -এর সাথে দেখা করলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, উসমান! ইনি হচ্ছেন জিবরাঈল, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তা'আলা রুকাইয়া মোহরানা তোমার মোহরানা স্বরে উম্মে কুলসুমকে তোমার সাথে বিয়ে দিয়েছেন। নবী করীম বললেন, আমি আসমানের অধী পেইয়ে উসমানের সাথে উম্মে কুলসুমকে বিয়ে দিয়েছি。

টিকাঃ
১৮৪ আল মু'জামুল কাবীর, ৪১ খন্ড, ৩১ পৃ.।
১৮৫ ইবনে মাজাহ হাদিসটি দুর্বল সনদে এনেছেন, ১১০।
১৮৬ হাদিসটি আলফাসাত আর মাজমাবে উল্লেখ করেছেন, ১খন্ড, ৮৫ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00