📄 শহীদের ছেলে শহীদ
হযরত ওমর বিন খাত্তাব -এর খিলাফতকালে একদিন হযরত আমর বিন তোফায়েল তাঁর কাছে আসলেন। তখন ওমর -এর জন্যে খাবার নিয়ে আসা হলো, মানুষেরা তাঁর কাছে বসা ছিল, তিনি সবাইকে খানা খাওয়ার জন্য আহ্বান করলেন, কিন্তু হযরত আমর খাওয়া থেকে বিরত থাকলেন। হযরত ওমর তাঁকে বললেন, তোমার কি হলো? মনে হয় তোমার জান হাত না থাকায়, লজ্জায় তুমি খাদ্য গ্রহণ করছ না। হযরত আমর বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি এ খাদ্যের স্বাদ ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করব না যতক্ষণ না তুমি তোমার কর্তিত হাত দ্বারা এ খাদ্য খেটে দিবে। আল্লাহ্র শপথ! আমাদের মধ্যে ব্যক্তি কেউ এমন নেই যার কিছু অংশ জান্নাতে চলে গেছে (এ কথা দ্বারা তিনি কর্তিত হাতকে বুঝিয়েছেন)। পিতার শাহাদাতের পর হযরত আমর নিজে শাহাদাত বরণ করার স্বপ্নে বিভোর থাকতেন। যখন ইয়ারমুকের যুদ্ধ শুরু হলো তখন অন্যান্য মুজাহিদদের সাথে তিনিও জিহাদ অংশগ্রহণ করলেন। এ যুদ্ধে তিনি কঠিনভাবে শত্রুর বিপক্ষে অবস্থান নেন। অবশেষে তিনি শত্রুদের মোকাবিলা করতে করতে সে কাঙ্ক্ষিত শাহাদাত লাভ করেন যা তাঁর জন্য তাঁর বাবা কামনা করেছিলেন。
টিকাঃ
২২৬ কানযুল উম্মাল, ১০ম খণ্ড, ৪৪০, ৪৪১ পৃ:।
📄 মুসলমানদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি গাছ
এক রাতে নবী করীম সাহাবীদের সাথে কথাবার্তা বলছিলেন। তিনি বললেন, নিশ্চয় গাছের মাঝে একটি গাছ আছে যার পাতা নিচে পড়ে না। সে গাছটি মুসলমানদের মতো। তোমরা আমাকে বলো সেটি কি গাছ? তখন সাহাবায়ে কেরামের মনে মরুভূমিতে থাকা গাছের কথা মনে পড়ল। তাদের মধ্যে শুধু আব্দুল্লাহ্ বিন ওমর সে গাছটি সম্পর্কে জানতেন, কিন্তু বয়স কম হওয়ার কারণে তিনি তা বলেননি। সাহাবায়ে কেরام বললেন, হে আল্লাহ্র রাসুল! আপনি আমাদেরকে সে গাছ সম্পর্কে বলুন। রাসুল বললেন, সেটি হলো খেজুর গাছ। আব্দুল্লাহ্ বিন ওমর বললেন, আমার মনে যে গাছটির কথা এসেছে তা পরে আমি আমার বাবার কাছে বলেছি। এ কথা শুনে ওমর বললেন, যদি তুমি তখন সে কথাটি বলতে তবে তা আমার কাছে অমুক অমুক জিনিস থেকেও অধিক প্রিয় হতো。
টিকাঃ
২২৭ বুখারী শরীফ, হাদিস নং ২৬১।
📄 তুমি কুরআন শিখ
এক ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য, অর্থ-সম্পদ পাওয়ার আশায় বারবার ওমর -এর কাছে আসত। তাঁর বারবার আসা-যাওয়া দেখে ওমর বললেন, তুমি গিয়ে কুরআন শিখ। সে লোকটি কুরআন শিখতে চলে গেল। এর থেকে সে ওমর -এর কাছে আসা বন্ধ করে দিল। এরই মধ্যে একদিন তার সাথে ওমর -এর দেখা হলে, তিনি তাকে না আসার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। তখন লোকটি বলল, আল্লাহ্র কিতাবে আমি এমন কিছু পেয়েছি যা আমাকে ওমরের দরজায় যাওয়া থেকে মুক্ত করেছে。
টিকাঃ
২২৮ কানযুল উম্মাল, ১খ খণ্ড, ২৯ পৃ:।
📄 খেজুর গাছ ও রোমের সম্রাট
শাও ও বীরভাবে সংবাদপত্রাক এসে বলল, ........ আমীরুল মুমিনীন, রোমের সম্রাটের পক্ষ থেকে একটি চিঠি। তিনি তা খুলে পড়তে লাগলেন। পরকথা, আমার এক বার্তাবাহক আমাকে জানিয়েছে, তোমাদের এখানে নাকি একটি গাছ আছে যা হাতির কানের মতো বের হয়। তারপর তা সাদা মুজার মতো হয়ে ফুটে। তারপর তা পাখির মতো সবুজ হয়ে ডাল মেলে। তারপর এটি ইয়াকুতের মতো লাল হয়। তারপর এটি পরিপক্ক হলে তা খাওয়া হয়। এরপর শুকিয়ে গেলে স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্যে সংরক্ষণ হয় আর মুসাফিরদের জন্যে পাথেয় হয়। যদি আমার বার্তাবাহক আমাকে সত্য বলে থাকে তবে তা হচ্ছে জান্নাতের গাছ। তখন ওমর তাঁকে লিখলেন......... পরম করুণাময় আল্লাহ্র নামে শুরু করছি....... আল্লাহ্র বান্দা আমীরুল মুমিনীন ওমরের পক্ষ থেকে রোমের সম্রাটের প্রতি। যারা খেনোতের ওপর আছে তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। পরকথা..... তোমার বার্তাবাহক সত্য বলেছে, যখন মরিয়ম -কে ফুঁ দেওয়া হয়েছিল তখন আল্লাহ্ তাআলা সে গাছটি সৃষ্টি করেছিলেন। সুতরাং আল্লাহ্কে ভয় কর, আর আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে ইসাকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করো না。
টিকাঃ
২২৯ কিতাবুন নাবাতা, ১২০ পৃ:।