📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সাঈদ বিন আমের রা. ও হিমসবাসী

📄 সাঈদ বিন আমের রা. ও হিমসবাসী


এরপর কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর হিমসের মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হযরত ওমর ১৬৬ হিমস শহরে যাত্রাবৃত্তি করেন। এ শহরকে ‘কুহায়বা’ বা ছোট কুয়া নামেও ডাকা হতো। এটি কুফা শহরের ভাগীদার এবং হিমসের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। কেননা এ শহরের অধিবাসীরা তাদের গভর্নর ও সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে অধিক অভিযোগ করত যেমনিভাবে কুফাবাসীরা করত।
হযরত ওমর ১৬৬ শহুরে পা রাখার পর শহরের অধিবাসীরা তাঁকে সালাম ও স্বাগতম জানাতে ছুটে আসল।
তিনি তাদেরকে বললেন, তোমাদের গভর্নর কেমন?
তারা হযরত সাঈদের ব্যাপারে তার কাছে চারটি অভিযোগ করে। এগুলো একটি অন্যটির চেয়েও মারাত্মক ছিল।
হযরত ওমর ১৬৬ বলেন:
এরপর আমি সাঈদকে ও শহরের অধিবাসীদেরকে একত্রিত করলাম। আর আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম আল্লাহ যেন সাঈদের ব্যাপারে আমার সুধারণাকে নষ্ট না করে দেয়। কেননা তার ব্যাপারে আমি অনেক ভালো ধারণা করতাম। যখন তাদের গভর্নর ও তারা আমার কাছে একত্রিত হলো তখন আমি তাদেরকে বললাম, তোমাদের গভর্নরের ব্যাপারে তোমাদের কী কী অভিযোগ?
তারা বলল, সূর্য পূর্বকাশ ছেড়ে উপরে না উঠা পর্যন্ত তিনি আমাদের নিকট আসেন না। অর্থাৎ প্রত্যহ দেরি করে দরবারে উপস্থিত হন।
আমি বললাম, হে সাঈদ! এ অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কি?
হযরত সাঈদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি এ কথা বলতে অপছন্দ করি, কিন্তু আমি এমন বলতে বাধ্য, তা হচ্ছে আমার কোনো খাদেম নেই আর এ কারণেই আমি সকালে আমার পরিবারের জন্য গম পিসে ময়দা বানিয়ে দিই। তারপর তা সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি। এরপর তা দ্বারা আমার পরিবারের জন্য রুটি বানাই। রুটি বানানো শেষ করে আমি আবু হুরায়রা মানুষের নিকট থেকে বের হয়ে আসি।
হযরত ওমর ১৬৬ বললেন, তারপর আমি তাদেরকে বললাম: তার ব্যাপারে তোমাদের আর কী কী অভিযোগ আছে?
তারা বলল, তিনি রাতে কারো ডাকে সাড়া দেন না।
আমি বললাম, হে সাঈদ! এ অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কী?
হযরত সাঈদ বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি এ বিষয়টি প্রকাশ করা অপছন্দ করছি...। আর তা হচ্ছে আমি দিনকে জনকল্যাণকর কাজের জন্য নির্ধারণ করেছি আর রাতকে আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করার জন্য নির্ধারণ করেছি।
আমি বললাম, তার ব্যাপারে তোমাদের আর কী কী অভিযোগ আছে?
তারা বলল, তিনি মাসে একদিন আমাদের নিকট আসেন না।
আমি বললাম, হে সাঈদ! এ অভিযোগের ব্যাপারে তোমার বক্তব্য কী?
হযরত সাঈদ বললেন, আমার কোনো খাদেম নেই আর আমার পরিচিত এ জামা ব্যতীত আর কোনো জামাও নেই। এ কারণে আমি মাসে একবার জামাটি ধৌত করি। এরপর জামাটি শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করি। দিনের শেষে জামাটি শুকানোর পর আমি তাদের কাছে আসি।
আমি বললাম, তার ব্যাপারে তোমাদের আর কী কী অভিযোগ আছে?
আমি বললাম, তবে সময় তিনি সত্যই সেবাকে অন্যমনস্ক হয়ে যান।
আমি বললাম, হে সাঈদ! তুমি এমন কর কেন?
হযরত সাঈদ ১৬৬ বললেন, আমি খুবাইব বিন আদীকে হত্যা করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তখন আমি মুসলিম ছিলাম। আমি কোরাইশদেরকে তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে টুকরো টুকরো করতে দেখেছি। তখন তারা তাকে বলল, তোমার পরিবর্তে মুহাম্মদকে হত্যা করা হবে আর তোমাকে মুক্তি দেওয়া হবে, তুমি কি তা পছন্দ কর। হযরত খুবাইবও তখন বললেন, আল্লাহ্ শপথ করে বলি, আমি নিরাপদে আমার পরিবার ও সন্তানদের কাছে ফিরে যাব আর মুহাম্মদ -কে একটি কাঁটার আঘাত সইতে হবে তাও আমি পছন্দ করি না। আল্লাহ্র শপথ! যখনি আমার এ ঘটনা মনে পড়ে আমি কেন তাঁকে সাহায্য করলাম না তখনি আমার মনে হয় আল্লাহ্ আমাকে ক্ষমা করবেন না, আর এ চিন্তা আমাকে অন্যমনস্ক করে ফেলে। হযরত সাঈদ বিন আমের -এর থেকে অভিযানের এ জবাবগুলো শুনে হযরত ওমর -এর বাবা ওমার -এর কাছে অভিযোগ করলেন। এতে ওমার -এর ধারণা সাঈদকে সঠিক করেছেন。

টিকাঃ
২১৮ বুখারী মুসলিম হায়াতিন সাহাবা, ১খ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 যা খেয়ে তুমি পরিতৃপ্ত হবে তা খাইয়ে মুসলমানদেরকে

📄 যা খেয়ে তুমি পরিতৃপ্ত হবে তা খাইয়ে মুসলমানদেরকে


আজরাবাইজান উতবা বিন ফারক্বাদের কাছে এক প্রকার খাদ্য আসল। যে খাদ্যের নাম ‘খবীছ’। তিনি তা দেখে দেখলেন তা খুবই মিষ্টি ও মজাদার। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমরা যদি আমীরুল মুমিনিনের জন্যে এ খাবার তৈরি করতাম! তখন তারা দুই পাত্র খাবার তৈরি করে তা একটি উট বহন করে দুইজন লোক দ্বারা পাঠিয়ে দিলেন। ওই দুই লোক যখন ওমর -এর কাছে গিয়ে পৌঁছল। তখন তিনি তাদেরকে বললেন, এটি কী? তারা বলল, খবীছ। ওমর -এর তা থেকে সামান্য মুখে দিয়ে দেখলেন তা খুবই সুস্বাদু ও মজাদার। এরপর তিনি ওই দুই লোককে লক্ষ্য করে বললেন, প্রত্যেক মুসলমান কী এটি খেয়ে পরিতৃপ্ত হতে পারবে? তারা বলল, না। তখন তিনি খাবার ফিরিয়ে নিয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন এবং উতবা বিন ফারক্বাদকে লিখে বললেন, এটি তোমার বাবার বা তোমার মায়ের বাতিল নয়। তুমি যা খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়েছ তা মুসলমানদেরকেও খাইয়ে পরিতৃপ্ত কর。

টিকাঃ
২১৯ মানাকিবু আমিরিল মুমিনীন, ১৫৫ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উম্মে সুলাইত পাওয়ার অধিক হকদার

📄 উম্মে সুলাইত পাওয়ার অধিক হকদার


ওমর কিছু কাপড় মদিনার মহিলাদের মাঝে বণ্টন করছিলেন। সবগুলো কাপড় দেওয়ার পর আর একটি কাপড় বাকি ছিল। তখন কেউ কেউ বলল, আবদুল্লাহ্ বিন ওমর -এর নাতিকে দিন । তাদের উদ্দেশ্য আলী -এর কন্যা উম্মে কুলসুম যিনি ওমর -এর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু ওমর তা তাঁর পরিবারের কাউকে দিতে অস্বীকার করলেন। তখন তিনি বললেন যে, উম্মে সুলাইত এটি পাওয়ার অধিক হকদার। কেননা সে রাসুল -এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছে এবং উহুদ যুদ্ধেও আমাদেরকে পানি পান করিয়েছে。

টিকাঃ
২২০ আল বুখারী ফিল ফাতহে, ৪খ খণ্ড, ১২৭।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর রা. নিজ ছেলেকে ধমকাচ্ছেন

📄 ওমর রা. নিজ ছেলেকে ধমকাচ্ছেন


আব্দুল্লাহ্ বিন ওমর ও হযরত মিকদাদ -এর মাঝে কিছু হয়েছিল। তখন আব্দুল্লাহ্ তাকে কটু দেয় এমন কিছু বলেছিল। তখন মিকদাদ আব্দুল্লাহ্ -এর বাবা ওমর -এর কাছে অভিযোগ করলেন। এতে ওমর তাঁর ছেলের জিহ্বা কেটে দেওয়া সংস্কার করলেন। যখন আব্দুল্লাহ্ এ ব্যাপারে ভয় করলেন যে, তাঁর বাবা তাঁর জিহ্বা কেটে দিবেন। তখন তিনি সাহাবীদেরকে একত্রিত করে তাঁর সাথে কথা বলার অনুরোধ করলেন। যাতেকরে তিনি তাঁকে ক্ষমা করে দেন। এদিকে ওমর বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও আমি তাঁর জিহ্বা কেটে নিব। যাতেকরে এটি জাহিদ হয়ে যায় যে, যে ব্যক্তি রাসুল -এর কোনো সাহাবীকে গাছি দিবে তার জিহ্বা কেটে দেওয়া হবে。

টিকাঃ
২২১ মুনাফাবুর কাবিরুল উসাল, ৪খ খণ্ড, ৪২৪ পৃ:

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00