📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আহা ওমর!

📄 আহা ওমর!


ওমর ১৬৬ মাথা নিচু একখানা চাদর নিয়ে জীর্ণ শরীরটাকে মসজিদের মেঝেতে এলিয়ে দিলেন। এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর এক লোক চিৎকার করে বললেন, আহা ওমর! আহা ওমর! আওয়াজ শুনে তিনি ভীত হয়ে দ্রুত আওয়াজের দিকে ছুটে গেলেন। তিনি দেখলেন, এক বেদুইন ঘোড়ার লাগام ধরে আছে। আর মানুষ তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।
লোকজন বলল, ইনিই আমিরুল মুমিনীন।
তার সামনে লোকটি বৃষ্টিহীনতার অভিযোগে কয়েকটি ছন্দ গাইল।
তার কবিতা শুনে ওমর ১৬৬ হাতখানা কপালে রেখে আফসোস করতে করতে বললেন, আহা ওমর! আহা ওমর! তোমরা জান সে কী বলছে? সে বৃষ্টিহীনতার কথা বলছে। ওমরের মায়ের ছেলে দরিদ্রতার সাথে বাঁচে আর পান করছে। আর মুসলমানরা বৃষ্টিহীনতা ও সংকীর্ণতায় ভুগছে।
তখন ওমর ১৬৬ দুজন আমীর ব্যক্তির সাথে খাদ্য বোঝাই করা অনেকগুলি উট সেদিকে প্রেরণ করলেন। তারা সে সকল খাদ্য বোঝাই করা উট নিয়ে ইয়াযামা প্রবেশ করলেন এবং নিয়ে আসা খাদ্যগুলো লোকের মাঝে বিলি করে দিলেন। অবশেষে তাদের নিকট এতটুকু খাদ্যও ছিল যা এক মুষ্টি পুরা করবে।
যখন তারা মদিনায় ফিরে যাবেন তখন দেখলেন এক লোক ক্ষুধায় কাসঁনে যার হাঁটু দুইটি মিলে গেছে সে নামাজ পড়ছিল। তাদেরকে দেখে সে নামাজ ছেড়ে দ্রুত দৌড়ে এসে বলল, তোমাদের সাথে কিছু আছে?
ওমর ১৬৬ তার কাছে সামান্য খাদ্য ছিল তা তারা তাকে দিয়ে দিলেন ওমর ১৬৬-এর ব্যাপারে সংবাদ দিলেন যে, তিনি তোমাদের জন্য আরো পাঠাবেন। তখন লোকটি অসন্তোষের সাথে বলল, আল্লাহর শপথ! যদি আমরা ওমরও ওপর নির্ভর করি তবে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।
তারপর লোকটি আক্ষেপের জায়গায় গিয়ে পুনরায় নামাজ আদায় করল। এরপর সে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দীর্ঘক্ষণ কাকুতি মিনতি করে দোয়া করল। তার কাকুতি মিনতি আল্লাহ তা'আলা ফিরিয়ে দেননি। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করলেন。

টিকাঃ
১৩৫ মানাকিবু লি ইবনিল জাওযী, ৭৪ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ঋণগ্রস্ত বৃদ্ধ

📄 ঋণগ্রস্ত বৃদ্ধ


ওমর ১৬৬ দিশেহারা মতো ঘুরছিলেন। তিনি তার হাত রেখে চিৎকার করে বললেন, আহা জটলা! আহা জটলা!
লোকজন ওমর ১৬৬-এর দিকে বিস্ময়ের সাথে তাকিয়ে বলাবলি করতে লাগল, আমীরুল মুমিনীনই কি হয়েছে?
ওমর ১৬৬ বললেন, কয়েকজন আমীরের পক্ষ থেকে আমার কাছে চিঠি এসেছে। তাতে তারা লিখেছে, নদী পার হওয়ার জন্য তারা নৌকা পেল না। তখন তাদের আমীর বললেন, আমাদের জন্য এমন একজন লোক খুঁজে আন যে নদীর গভীরতা বুঝতে পারে। তখন একজন বৃদ্ধ লোককে নিয়ে আসা হলো।
লোকটি ভীত হয়ে বলল, আমি ভীতাকে খুব ভয় করি। তবুও তারা লোকটি কে নদীতে নামালো। এতে সে ডাক দিয়ে বলতে লাগল, আহা ওমর! আহা ওমর! এরপর সে ডুবে মারা গেল।
এ চিঠি পড়ার পর ওমর ১৬৬ ওই আমীরকে তার কাছে আসতে বললেন। সে তার কাছে আসল। তখন ওমর ১৬৬ কিছুদিন তাকে উপেক্ষা করে চললেন। এরপর একদিন বললেন, যে লোককে তুমি হত্যা করেছ তাকে কী করেছ?
সে ওজর পেশ করে বলল, আমীরুল মুমিনীন আমি তাকে হত্যা করতে চাইনি। আমরা তো প.নীর গভীরতা জানতে চেয়েছি।
এরপর ওই আমীর ওমর ১৬৬-এর রাগ থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন এলাকা বিজয় সংবাদ দিয়ে বলল, আমরা অমুক অমুক এলাকা জয় করেছি এবং এত এত সম্পদ লাভ করেছি।
তখন ওমর ১৬৬ ধমক দিয়ে বললেন, তুমি যা নিয়ে এসেছ এসব কিছু থেকে আমার কাছে একজন মুসলমান অধিক প্রিয়। যদি না তোমাকে হত্যার ব্যাপারে নির্ধারিত কোনো বিধান না থাকত তবে অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করতাম। তুমি চলে যাও, তার পরিবারের লোকদেরকে রক্তপণ প্রদান কর। বের হয়ে যাও আমি আর তোমাকে দেখতে চাই না。

টিকাঃ
১৩৬ আস সুনানুস কুবরা, ৮খঃ ৮০, ৩২০ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 গরিব আমীর

📄 গরিব আমীর


হযরত ওমর ১৬৬ হযরত সাঈদ বিন আমের ১৬৬-কে ইয়ামানের সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান করলেন।
তিনি বললেন, হে সাঈদ! আমি আপনাকে হিমসবাসীদের আমীর হিসেবে নিয়োগ দিলাম।
হযরত সাঈদ ১৬৬ বললেন, হে ওমর! আমি তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বললে আমাকে পরীক্ষায় ফেললে না।
তার এ কথায় হযরত ওমর ১৬৬ খুব রাগান্বিত হয়ে বললেন: কি আশ্চর্য...........! তোমরা আমার ঘাড় খিলাফতের দায়িত্ব দিয়ে আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছ! আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে ছেড়ে দেব না। এরপর তিনি তাঁকে হিমস শহরের গভর্নরের হিসেবে নিযুক্ত করলেন।
হযরত ওমর ১৬৬ বললেন, আমি কি আপনার জন্য বেতন-ভাতা নির্ধারিত করে দিব না?
হযরত সাঈদ বিন আমের ১৬৬ বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! বেতন ভাতা দিয়ে আমি কি করব? কেননা বায়তুল মালের বেতন-ভাতা আমার প্রয়োজনের চেয়েও বেশি। তারপর তিনি হিমসে চলে গেলেন।
কিছুদিন পর না হতেই আমীরুল মুমিনীন বিশ্বস্ত হেমসের কিছু লোক তার কাছে আসল।
হযরত ওমর ১৬৬ তাদেরকে বললেন, তোমরা গরিব লোকদের নামের তালিকা দাও যাতে করে তাদের প্রয়োজন মিটিয়ে দিতে পারি।
তারা তার হাতে গরিব লোকদের একটি তালিকা দিল, সেখানে অনেক ব্যক্তির নাম ছিল তার মধ্যে হযরত সাঈদ বিন আমেরের নামও ছিল।
হযরত ওমর ১৬৬ বললেন, সাঈদ বিন আমের কে?
তারা বলল, আমাদের গভর্নর।
হযরত ওমর ১৬৬ আশ্চর্য হয়ে বললেন, তোমাদের গভর্নর গরিব!
তারা বলল, হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! এমন অনেক দিন অতিবাহিত হয় তাঁর চুলায় আগুন জ্বলে না।
এ কথা শুনার পর হযরত ওমর ১৬৬ কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তিনি এত বেশি কাঁদলেন যে, তাঁর দাড়ি মোবারক চোখের পানিতে ভিজে গেল। তিনি তাঁর নিকট এক হাজার দীনার পাঠানোর ইচ্ছা করলেন। সে দীনারগুলো একটি থলেতে দিয়ে বললেন, তোমরা তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে আর বলবে, আপনার প্রয়োজন মেটানোর জন্য এগুলো আমীরুল মুমিনীন আপনাকে দিয়েছেন।
হযরত ওমরের পাঠানো প্রতিনিধি দল দীনারের থলে নিয়ে তাঁর কাছে গেল। হযরত সাঈদ ১৬৬ দীনারের থলেটি দেখার সাথে সাথে ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলে তা দূরে নিক্ষেপ করলেন। মনে হয় যেন তাঁর ওপর বিশাল কোনো মুসিবত নেমে এসেছে অথবা মারাত্মক কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। তার এ আকুতিতে হযরত ওমর ১৬৬ বললেন, সাঈদ! আপনার কি হয়েছে?...... নাকি আমীরুল মুমিনীন ইন্তিকাল করেছেন?
তিনি বললেন; বরং এ থেকেও ভয়ানক।
তিনি বললেন, মুসলমানরা কি কোথাও আক্রান্ত হয়েছে?
তিনি বললেন; বরং এ থেকেও ভয়ানক।
তিনি বললেন, এ থেকেও ভয়ানক কি ঘটেছে?
তিনি বললেন, আমার আখিরাত নষ্ট করার জন্য দুনিয়া আমার নিকট চলে এসেছে। ফিতনা আমার ঘরে এসে উপস্থিত হয়েছে।
তিনি বললেন, আপনি তা থেকে মুক্ত হোন।
অথচ তখন দীনার সম্পর্কে কিছুই জানেননি!
তিনি বললেন, তুমি কি আমাকে এতে সাহায্য করবে?
তিনি বললেন, হ্যাঁ।
এরপর তিনি থলেটি নিয়ে গরিব মুসলমানদের মাঝে সবগুলো দীনার বিলিয়ে দিলেন। নিজের জন্য একটি দীনারও রাখলেন না。

টিকাঃ
১৩৭ মুয়াজ্জামুল বিন ইয়াজিদিল সাওয়াবী, ৬৭ পৃ:।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মধুর পাত্র

📄 মধুর পাত্র


একদিন ওমর ১৬৬ বললেন, তিনি খুবই অসুস্থ। তখন তাঁকে মৌমাছির মধু খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো। বাইতুল মালে তখন মধুর একটি ছোট পাত্র ছিল। তখন তিনি লাঠিতে তার দিয়ে মসজিদের মেঝেতে পৌঁছে বললেন, যদি তোমরা পাত্র থেকে মধু নেওয়ার অনুমতি প্রদান কর তবে আমি তা নিব। আর তা না হলে এটি আমার জন্য হারাম।
উপস্থিত সকলে সন্তুষ্টি চিত্তে অনুমতি দিল。

টিকাঃ
১৩৮ মুসনাদু ফারুফিল উম্মাত, ৪খঃ ৮০, ৪৬৬ পৃ:।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00