📄 দিনারের ব্যাগ
একদিন ওমর (রা.)-এর কাছে সম্পদ এসে পৌঁছল। তিনি তা থেকে চারশত দিনার একটি ব্যাগ নিয়ে তা তাঁর গোলামকে দিয়ে বললেন, এগুলো নিয়ে আবু উবায়দা বিন জাররাহর কাছে যাও। তারপর সেখানে গিয়ে ব্যস্ততার ভান দেখিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে এবং লক্ষ্য রাখবে তিনি এগুলোকে কী করেন? গোলাম সে ব্যাগটি নিয়ে আবু উবায়দা (রা.)-এর কাছে গিয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনাকে বলেছেন, এগুলো দ্বারা আপনার প্রয়োজন পূরণ করবেন।
আবু উবায়দা (রা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন, তাঁর প্রতি রহম করুন। তারপর তিনি তাঁর দাসীকে বললেন, তুমি এ পাঁচ দিনার অন্যকে দিয়ে আস, আর এ পাঁচ দিনার অন্যকে দিয়ে আস। এভাবে তিনি সবগুলো দিনার অন্যদেেরক দান করে দিলেন। এরপর গোলামটি ফিরে এসে তা ওমর (রা.)-কে জানাল। ওমর (রা.) আরও একটি ব্যাগ চারশত দিনার নিয়ে তাকে মুয়াজ বিন জাবাল (রা.)-এর কাছে পাঠালেন। তিনি তাকে বললেন, এগুলো নিয়ে মুয়াজের কাছে যাও। তারপর সেখানে গিয়ে ব্যস্ততার ভান দেখিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে এবং লক্ষ্য রাখবে তিনি এগুলোকে কী করেন? গোলাম ব্যাগটি নিয়ে মুয়াজ (রা.)-এর কাছে গিয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন আপনাকে বলেছেন, এগুলো দ্বারা আপনার প্রয়োজন পূরণ করবেন। মুয়াজ (রা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন, তাঁর প্রতি রহম করুন। এই যে এই দাসী, তুমি এ পরিমাণ দিনার নিয়ে অন্যকে কাছে যাও, আর এ পরিমাণ দিনার নিয়ে অন্যকে কাছে যাও। এভাবে তিনি সবগুলো দিনার দান করে দিলেন। তখন মুয়াজ (রা.)-এর স্ত্রী বললেন, আল্লাহর শপথ! আমরা তো আরও বেশি অভাবী। আমাদেরকে কিছু দিন। বাসের ভেতর তখন মাত্র দুই দিনার ছিল। মুয়াজ (রা.) সে দুই দিনার তাঁর স্ত্রীকে দিলেন। এরপর গোলামটি ফিরে এসে ওমর (রা.)-কে যা ঘটেছে তা জানাল। এদিকে ওমর (রা.) হুজায়ফা (রা.)-এর জমিও চারশত দিনারের একটি ব্যাগ প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। তিনি তা গোলামকে দিয়ে তাঁর কাছে পাঠালেন। হুজায়ফা (রা.)-ও তাদের মতো সব দিনার বিলিয়ে দিলেন। এ তিন জনই এমন কাজে ওমর (রা.) খুবই খুশি হলেন। তিনি বললেন, তারা একে অপরের ভাই。
টিকাঃ
১৯ আল মু'জামুল কাবীর, ২য় খণ্ড, ৬২ পৃ.
📄 কবরে বাচ্চা
একদিন ওমর (রা.) তাঁর প্রজাদের অবস্থা দেখছিলেন। এমন সময় তিনি দেখতে পেলেন এক লোক তাঁর ছেলেকে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে। তখন ওমর (রা.) বললেন, বাবা আর ছেলের সাথে এত্টা মিল আর অন্য কোনো ছেলের মাঝে দেখিনি। তখন লোকটি বলল, জেনে রাখুন, আল্লাহর শপথ! তার মা মৃত অবস্থায় তাকে গ্রহণ করেছে।
ওমর (রা.) বললেন, তোমার জন্ম আফসোস! এটা কি সম্ভব?
সে বললেন, আমি অমুক সময়ে সফরে বের হয়েছি। তখন আমার স্ত্রী গর্ভবতী ছিল। যাওয়ার সময় আমি তাকে বললাম, তোমার পেটে যা কিছু আছে তা আমি আল্লাহর কাছে গচ্ছিত রাখলাম। আমি সফর থেকে ফিরে এসে জানতে পারলাম সে মারা গেছে।
এরই মাঝে একদিন আমি আমার চাচাতো ভাইয়ের সাথে জান্নাতুল বাকীতে বসেছিলাম। হঠাৎ করে দেখতে পেলাম বাতির মতো একটি আলো কবরে জ্বলছে। তখন আমি আমার চাচাতো ভাইয়েরকে বললাম, এটি কী? তখন আমি একটি কোদাল নিয়ে কবরের দিকে গেলাম। কবরের কাছে যাওয়ার পর দেখি কবরটি ফেটে গেল এবং কবরের ভেতরে এক মহিলার ছেলে এ শিশুটি বসে আছে। আমি শিশুটির কাছে যেতে লাগলাম।
তখন একজন অদৃশ্য আকাশচারী বললেন, ওহে আমানত রাখনে ওয়ালা, তুমি তোমার আমানত গ্রহণ কর। জেনে রাখ, যদি তুমি তার মাকেও আমানত রাখতে তবে তাকেও পেতে। আমি শিশুটিকে কোলে নিলাম। সাথে সাথে কবর মিলে গেল。
টিকাঃ
১৩৪ মানাকিবু আমীরিল মুমিনীন, ৭৮ পৃ:।
📄 আহা ওমর!
ওমর ১৬৬ মাথা নিচু একখানা চাদর নিয়ে জীর্ণ শরীরটাকে মসজিদের মেঝেতে এলিয়ে দিলেন। এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর এক লোক চিৎকার করে বললেন, আহা ওমর! আহা ওমর! আওয়াজ শুনে তিনি ভীত হয়ে দ্রুত আওয়াজের দিকে ছুটে গেলেন। তিনি দেখলেন, এক বেদুইন ঘোড়ার লাগام ধরে আছে। আর মানুষ তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।
লোকজন বলল, ইনিই আমিরুল মুমিনীন।
তার সামনে লোকটি বৃষ্টিহীনতার অভিযোগে কয়েকটি ছন্দ গাইল।
তার কবিতা শুনে ওমর ১৬৬ হাতখানা কপালে রেখে আফসোস করতে করতে বললেন, আহা ওমর! আহা ওমর! তোমরা জান সে কী বলছে? সে বৃষ্টিহীনতার কথা বলছে। ওমরের মায়ের ছেলে দরিদ্রতার সাথে বাঁচে আর পান করছে। আর মুসলমানরা বৃষ্টিহীনতা ও সংকীর্ণতায় ভুগছে।
তখন ওমর ১৬৬ দুজন আমীর ব্যক্তির সাথে খাদ্য বোঝাই করা অনেকগুলি উট সেদিকে প্রেরণ করলেন। তারা সে সকল খাদ্য বোঝাই করা উট নিয়ে ইয়াযামা প্রবেশ করলেন এবং নিয়ে আসা খাদ্যগুলো লোকের মাঝে বিলি করে দিলেন। অবশেষে তাদের নিকট এতটুকু খাদ্যও ছিল যা এক মুষ্টি পুরা করবে।
যখন তারা মদিনায় ফিরে যাবেন তখন দেখলেন এক লোক ক্ষুধায় কাসঁনে যার হাঁটু দুইটি মিলে গেছে সে নামাজ পড়ছিল। তাদেরকে দেখে সে নামাজ ছেড়ে দ্রুত দৌড়ে এসে বলল, তোমাদের সাথে কিছু আছে?
ওমর ১৬৬ তার কাছে সামান্য খাদ্য ছিল তা তারা তাকে দিয়ে দিলেন ওমর ১৬৬-এর ব্যাপারে সংবাদ দিলেন যে, তিনি তোমাদের জন্য আরো পাঠাবেন। তখন লোকটি অসন্তোষের সাথে বলল, আল্লাহর শপথ! যদি আমরা ওমরও ওপর নির্ভর করি তবে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব।
তারপর লোকটি আক্ষেপের জায়গায় গিয়ে পুনরায় নামাজ আদায় করল। এরপর সে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দীর্ঘক্ষণ কাকুতি মিনতি করে দোয়া করল। তার কাকুতি মিনতি আল্লাহ তা'আলা ফিরিয়ে দেননি। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করলেন。
টিকাঃ
১৩৫ মানাকিবু লি ইবনিল জাওযী, ৭৪ পৃ:।
📄 ঋণগ্রস্ত বৃদ্ধ
ওমর ১৬৬ দিশেহারা মতো ঘুরছিলেন। তিনি তার হাত রেখে চিৎকার করে বললেন, আহা জটলা! আহা জটলা!
লোকজন ওমর ১৬৬-এর দিকে বিস্ময়ের সাথে তাকিয়ে বলাবলি করতে লাগল, আমীরুল মুমিনীনই কি হয়েছে?
ওমর ১৬৬ বললেন, কয়েকজন আমীরের পক্ষ থেকে আমার কাছে চিঠি এসেছে। তাতে তারা লিখেছে, নদী পার হওয়ার জন্য তারা নৌকা পেল না। তখন তাদের আমীর বললেন, আমাদের জন্য এমন একজন লোক খুঁজে আন যে নদীর গভীরতা বুঝতে পারে। তখন একজন বৃদ্ধ লোককে নিয়ে আসা হলো।
লোকটি ভীত হয়ে বলল, আমি ভীতাকে খুব ভয় করি। তবুও তারা লোকটি কে নদীতে নামালো। এতে সে ডাক দিয়ে বলতে লাগল, আহা ওমর! আহা ওমর! এরপর সে ডুবে মারা গেল।
এ চিঠি পড়ার পর ওমর ১৬৬ ওই আমীরকে তার কাছে আসতে বললেন। সে তার কাছে আসল। তখন ওমর ১৬৬ কিছুদিন তাকে উপেক্ষা করে চললেন। এরপর একদিন বললেন, যে লোককে তুমি হত্যা করেছ তাকে কী করেছ?
সে ওজর পেশ করে বলল, আমীরুল মুমিনীন আমি তাকে হত্যা করতে চাইনি। আমরা তো প.নীর গভীরতা জানতে চেয়েছি।
এরপর ওই আমীর ওমর ১৬৬-এর রাগ থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন এলাকা বিজয় সংবাদ দিয়ে বলল, আমরা অমুক অমুক এলাকা জয় করেছি এবং এত এত সম্পদ লাভ করেছি।
তখন ওমর ১৬৬ ধমক দিয়ে বললেন, তুমি যা নিয়ে এসেছ এসব কিছু থেকে আমার কাছে একজন মুসলমান অধিক প্রিয়। যদি না তোমাকে হত্যার ব্যাপারে নির্ধারিত কোনো বিধান না থাকত তবে অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করতাম। তুমি চলে যাও, তার পরিবারের লোকদেরকে রক্তপণ প্রদান কর। বের হয়ে যাও আমি আর তোমাকে দেখতে চাই না。
টিকাঃ
১৩৬ আস সুনানুস কুবরা, ৮খঃ ৮০, ৩২০ পৃ:।